শরীফুল রাজ: আমি পরীকে খুব ভালোবাসি

চিত্রনায়িকা পরীমণি ও বিদ্যা সিনহা মিমের অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে গত কয়েকদিন ধরেই সরগরম ঢালিউড পাড়া। কিন্তু যাকে নিয়ে এই অভিযোগের সূত্রপাত সেই শরীফুল রাজ ছিলেন অনেকটাই চুপ।

অবশেষে এই ইস্যুতে মুখ খুললেন পরীমণির স্বামী অভিনেতা শরীফুল রাজ।

জানালেন তিনি তার পরিবার নিয়ে সুখে আছেন। বললেন, স্ত্রী পরীমণিকে খুব ভালোবাসেন।

সংবাদমাদ্যম ডেইল স্টারের সঙ্গে আলাপকালে এমনটা জানান দামাল ও পরাণ সিনেমায় মিমের সঙ্গে জুটি বাঁধা রাজ।

দুই নায়িকার টানাপোড়েন নিয়ে তিনি ডেইলি স্টারকে বলেন, “"আমি সত্যিই জানি না তাদের মধ্যে কী ঘটছে। তবে আমি শুধু একটি কথা বলব - আমি একজন সুখী পরিবারের মানুষ, আমার স্ত্রী এবং সন্তান নিয়ে আমি সন্তুষ্ট। আমি পরীকে খুব ভালবাসি, এবং আমি এই বিষয়ে এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না।"

তিনি আরও বলেন, "আমি ব্যক্তিগত বিষয়গুলো ব্যক্তিগত রাখতে চাই, আমি এসব নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করি না। আমি কাজে মনোযোগ দিতে চাই।"

ঘটনার সূত্রপাত বুধবার (৯ নভেম্বর) রাতে পরীমণির একটি ফেসবুক স্টাটাসকে কেন্দ্র করে। স্বামী চিত্রনায়ক শরিফুল রাজ, চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম ও নির্মাতা রায়হান রাফির ওপর ক্ষোভ প্রকাশ করে নিজের ফেসবুক আইডিতে ইঙ্গিতপূর্ণ একটি পোস্ট দেন পরীমণি।



পরীমণি মিমকে মেনশন করে লিখেছেন, “নিজের জামাইকে নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা উচিত ছিল তোমার।”

রায়হান রাফীকে মেনশন করে লিখেছেন, “সিনেমার সঙ্গে সঙ্গে দালালিটাও ভালো করেন দেখি।”

একই পোস্টে রাজকে উদ্দেশ্য করে পরী লেখেন, “এটা এত দূর গড়াতে দেওয়া উচিত হয়নি তোমার।”

এরপর ফেসবুকে প্রতিক্রিয়া জানান মিম। পরীমণির দেওয়া স্ট্যাটাসের জবাবে মিম বৃহস্পতিবার একটি পোস্ট করেছেন। সেখানে সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না করলেও মিম জবাব দিয়েছেন বেশ সাবধানী এবং পরিষ্কার ভাষায়।

মিম বলেন, “'পরাণ' ও 'দামাল' সিনেমার আকাশছোঁয়া সাফল্য আমাকে স্বার্থহীন ভালোবাসায় ভাসাচ্ছে। আমি আপ্লুত, অভিভূত। বলতে পারি, জীবনের সেরা সময় পার করছি। ঠিক এই সময়ে একটা পক্ষ আমার পথচলায় ঈর্ষান্বিত হয়ে, আমাকে থামিয়ে দিতে, আমাকে জড়িয়ে নানা ধরণের কুৎসা রটানোর চেষ্টা চালাচ্ছে।”



তিনি আরও বলেন, “'পরাণ' ও 'দামাল' যে ভালোবাসা আমাকে দিচ্ছে, দেড় দশক আগে ঠিক একইরকম ভালোবাসায় সবাই আমাকে লাক্স চ্যানেল আই সুপারস্টার বানিয়েছে। সবার ভালোবাসাকে গুরু দায়িত্ব হিসেবে মেনে নিয়ে আমি আমার পেশাদার অভিনয়জীবন গড়ে তোলা চেষ্টা করেছি, করে যাচ্ছি, আগামীতেও করে যাব। আমি কাজ করছি বাংলাদেশে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) জাতীয় শুভেচ্ছাদূত হিসেবে।”

নিজের পারিবারিক শিক্ষার কথা উল্লেখ করে মিম বলেন, “শিক্ষক বাবার আদর্শ ও মায়ের শেখানো সততাকে সঙ্গী করে দারুণ কিছু কাজ করার চেষ্টার মধ্য দিয়ে ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীসহ সবার মন জয়ের চেষ্টা করছি প্রতিনিয়ত। কখনোই নিজের পেশাদার জীবনের সঙ্গে এমন কিছু যুক্ত করতে দেইনি যা আমার পথচলাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। আমি জানি আমার পারিবারিক শিক্ষা ও মূল্যবোধ কী, বেড়ে উঠেছি কোন ধরনের পারিবারিক আবহে, আমার চারপাশটা কেমন-- এখন যে বা যারা কোনো ধরনের প্রমাণ ছাড়াই আমাকে নিয়ে ভিত্তিহীন কথা বলছে, তাদের প্রতি নিন্দা জানানোর ভাষা জানা নেই।”

সতর্ক করে দিয়ে এই অভিনেত্রী বলেন, “তবে এসবের বাড়াবাড়ি হলে আমি অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষী ও ভালোবাসার মানুষদের এটাও বলতে চাই, কারও কোনো ধরনের মনগড়া মিথ্যা বানোয়াট কথায় আপনারা বিভ্রান্ত হবেন না।”

সংবাদকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমার এই দীর্ঘ পথচলায় সংবাদকর্মী ভাইয়েরা সবসময় আন্তরিক সহযোগিতা করেছেন। আপনারাই আমার যাবতীয় কাজ, ভাবনা-চিন্তা সঠিক ও সুন্দরভাবে ভক্ত-শুভাকাঙ্ক্ষীসহ দেশ-বিদেশের সবার কাছে তুলে ধরেছেন। তাই আপনাদের সবার কাছে অনুরোধ, কোনো ধরনের সত্যতা যাচাই বাছাই না করে বিভ্রান্তিকর কোনো খবর ছড়াবেন না। কোনো ইউটিউব কিংবা পোর্টাল যদি আমাকে জড়িয়ে কোনো ধরনের ভিত্তহীন খবর ছড়ানোর চেষ্ট করে তাহলে সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধেও প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হতে হবো।”

ঘটনা সেখানেই থেমে থাকেনি। মিমের পোস্টের জবাবে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে আরও একটি পোস্ট করেন পরীমণি। সেখানে তিনি সরাসরি মিমকে রাজের সঙ্গে আলাপচারিতা চালাতে নিষেধ করেন।



পোস্টে পরীমণি লিখেন, “আসেন তাহলে কিছু বিষয় ক্লিয়ার করি। এই যে মিম বললা আমি জেলাসি করলাম তোমার সাথে! এটা দশজন আননোন লোকে বলতেই পারে কিন্তু তুমি কি করে এটা বলো? যেখানে পরান রিলিজের পর সব খানে আমি বলে আসছি রাজের সাথে তুমি জুটি হয়ে কাজ করো।”

তিনি আরও বলেন, “তোমাদের জুটি দেখতে ভালো লাগে। এটা তোমরাও চাও। তোমার মা ও সেদিন আমাদের লিভিং রুমে আমার সাথে এই নিয়ে কতো কথা বললাম। এই তো সেদিন ইনফিনিটি সিজন ২ এর জন্যে তোমাকে নক দিলাম আমি। কি করে ভুলে গেলি রে ভাই। ৫ দিন আগেও আবু রায়হান জুয়েল ভাইকে বললাম রাজ আর মিমকে জুটি করে নেক্সট কাজটা করে ফেলেন ভাই।”

মিম-রাজের কথোপকথন তার সংসারে প্রভাব ফেলছে উল্লেখ করে পরীমণি লিখেছেন, “কিন্তু বিশ্বাস কর ভাই মিম, রাজের সাথে তোর এই অতি মাখামাখিটা আমার সংসার,আমার বাচ্চা,আমার লাইফ সব কিছুতে ঝামেলা করে দিচ্ছে। এই যে দামালের তিন মাসের হল রাইটস নিলা রাজ তুমি, তোমরা সবাই এই হলো কাল এখন আমার জীবনের। এখন তোমাদের ব্যবসায়িক ছুতোয় আলাপ চলে রাত দিন। বিশ্বাস করো তোমাদের এই মাঝ রাত্তিরের ফোন আলাপ আমার সত্যিই প্রবলেম করে। আমি একা সারারাত বাচ্চাটাকে সামলাই। এসব বন্ধ করো।”

সবশেষে তিনি লিখেন, “আর এই যে জাজমেন্টাল যারা রয়েছেন তাদের একটু দেখা উচিত আমি সত্যিই কতোটা জেলাস ছিলাম। নেন কমেন্ট বক্সে দিলাম একটু নমুনা।” 

কমেন্ট বক্সে পরীমণি মিমের সঙ্গে তারা আলাপের একটি স্ক্রিনশট জুড়ে দেন।