চলচ্চিত্র শিল্পের বিকাশ ও উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য ব্যক্তিবিশেষ এবং শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্রকে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার দিয়ে থাকে সরকার। প্রতি বছরের মতো এবারও এক ঝাঁক তারকা পাচ্ছেন চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ সম্মাননার এ পুরস্কার। কিন্তু এই পুরস্কারকে হাস্যকর বলে উল্লেখ করেছেন এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী অঞ্জনা।
শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, “এবারের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (২০২১) কয়েকটা ক্যাটাগরিতে সত্যিকার অর্থে হাস্যকর লেগেছে, কিছুই বলার নেই।”
সম্প্রতি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি চূড়ান্ত তালিকার অনুমোদন দিয়েছে। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারের জন্য ২০২১ সালের মুক্তিপ্রাপ্ত ২১টি পূর্ণদৈর্ঘ্য, ১৭টি স্বল্পদৈর্ঘ্য ও সাতটি প্রামাণ্য চলচ্চিত্রসহ মোট ৪৫টি চলচ্চিত্র জমা পড়েছিল। যার মধ্য থেকে ২৭টি ক্যাটাগরিতে এ বছর ৩৪টি পুরস্কার দেওয়া হবে।
বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলচ্চিত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখায় যৌথভাবে আজীবন সম্মাননা পাচ্ছেন অভিনেত্রী ডলি জহুর ও অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন। এছাড়াও শ্রেষ্ঠ অভিনেতা বিভাগে যৌথভাবে পুরস্কার পাচ্ছেন- সিয়াম আহমেদ (মৃধা বনাম মৃধা) ও মীর সাব্বির মাহমুদ (রাতজাগা ফুল)।
এদিকে ডলি জহুরকে আজীবন সম্মাননা দেওয়ায় আপত্তি তুলেছেন অঞ্জনা। তিনি ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “ডলি জহুর আপাকে কেন আজীবন সম্মাননা দেওয়া হবে এটা আমার বোধগম্য হয় না। নিঃসন্দেহে তিনি একজন ভালো অভিনেত্রী, কিন্তু ওনার চেয়ে স্বনামধন্য দাপুটে অভিনেত্রী চিত্রনায়িকা নূতন, সুচরিতা, চিত্রনায়ক ও নৃত্য পরিচালক জাভেদ ভাই, যারা স্বাধীনতার আগে থেকে এখন পর্যন্ত চলচ্চিত্রশিল্পে নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন।”
অভিনেত্রী অঞ্জনা বলেন, “তাদেরকে না দিয়ে ডলি আপাকে দেওয়া হলো, এটা আসলেই হাস্যকর। ডলি আপা মূলত টেলিভিশন নাট্যশিল্পী, চলচ্চিত্রে তিনি এসেছেন আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে কিন্তু এর অনেক আগেই জাভেদ ভাই, সুচরিতা ও নূতন চলচ্চিত্র শিল্পে সুপ্রতিষ্ঠিত।”
জুরি বোর্ডের সদস্যদের প্রসঙ্গে বলেন, “জুরি বোর্ডে এবার যারা ছিলেন তারা কি বাংলা চলচ্চিত্রের সঠিক ইতিহাস ভুলে গেছেন কি-না আমি জানি না।”