ছোট আর বড় পর্দা মিলিয়ে বিনোদনের ভুবনে আরিফিন শুভর ক্যারিয়ারের সময়কাল ১৩ বছর। তবে এই দীর্ঘ ক্যারিয়ারে কখনোই মা খাইরুন নাহারকে প্রেক্ষাগৃহে এনে সিনেমা দেখেননি এই অভিনেতা। তবে অবশেষে মাকে প্রেক্ষাগৃহে এনে সিনেমা দেখালেন শুভ, সেটিও আবার নিজের অভিনীত।
ঢাকার বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহের মতো ব্লকবাস্টার সিনেমাসেও দেখানো হচ্ছে আরিফিন শুভ অভিনীত সদ্য মুক্তিপ্রাপ্ত “ব্ল্যাক ওয়ার” সিনেমা। বৃহস্পতিবার (১৯ জানুয়ারি) সেখানের সন্ধ্যার সন্ধ্যার শো উপভোগ করেন শুভর মা খাইরুন নাহার। এ সময় মায়ের কাছে টিকিট কাউন্টার উপস্থিত থেকে নিজের সিনেমার টিকিট বিক্রি করতেও দেখা যায় শুভকে।
প্রথমবারের মতো প্রেক্ষাগৃহে এসে মা সিনেমা দেখায় দারুণ উচ্ছ্বসিত আরিফিন শুভ বলেন, মা আমাকে পর্দায় প্রথম দেখলো। সবাই জানানেন উনি মানসিক ও শারীরিকভবে অসুস্থ, তারপরও উনাকে নিয়ে এসেছি। মাকে আমার সিনেমা তার জীবদ্দশায় দেখাতে পারলাম, সেজন্য সৃষ্টিকর্তা কাছে অশেষ কৃতজ্ঞতা।
প্রথমবারের মতো সন্তানকে পর্দায় দেখে মায়ের অনুভূতি জানতে চাইলে ঢাকাই শোবিজের জনপ্রিয় অভিনেতা বলেন, আমি উনার পাশে বসে সিনেমা দেখেছি। পাশে বসে কীভাবে দুবাই গেলাম সেটা জানতে চেয়েছে,। কেন গোলাগুলি করছি সেটা জানতে চেয়েছে...।
গত ১৩ জানুয়ারি দেশের ৪৪ সিনেমা হলে মুক্তি পায় “ব্ল্যাক ওয়ার”। সানী সানোয়ার ও ফয়সাল আহমেদ পরিচালিত সিনেমাটি “মিশন এক্সট্রিম” চলচ্চিত্রের সিক্যুয়েল। কপ ক্রিয়েশনের ব্যানারে নির্মিত এই সিনেমাটি গত বছরের ঈদ-উল-ফিতরে মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল। তবে সার্বিক পরিস্থিতির চিন্তা করে মুক্তির দিনক্ষণ পেছায় সিনেমাটির প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান।
“মিশন এক্সট্রিম” সিনেমার মতো সিকুয়েল “ব্ল্যাক ওয়ার”-এও কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যাবে আরিফিন শুভকে। আরিফিন শুভ ছাড়াও কুল নিবেদিত, মাইম মাল্টিমিডিয়া সহ-প্রযোজিত এবং ঢাকা ডিটেকটিভ ক্লাবের সহযোগিতায় নির্মিত “ব্ল্যাক ওয়ার” সিনেমার অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন তাসকিন রহমান, জান্নাতুল ফেরদৌস ঐশী, সাদিয়া নাবিলা, সুমিত সেনগুপ্ত, মিশা সওদাগর, ফজলুর রহমান বাবু, মনোজ প্রামাণিক, শতাব্দী ওয়াদুদ, শহীদুজ্জামান সেলিম, হাসান ইমাম, লায়লা ইমাম, ইরেশ যাকের, মাজনুন মিজান, সুদীপ বিশ্বাস, সৈয়দ আরেফ, খালিদুর রহমান রুমী, ইমরান শওদাগর, খশরু পারভেজ প্রমুখকে।
“ব্ল্যাক ওয়ার” সিনেমার জন্য নিজের প্রস্তুতির বিষয়ে আরিফিন শুভ বলেছিলেন, তিনি সিনেমাটির জন্য নয় মাস কঠোর পরিশ্রম করেছেন। পাশাপাশি সিনেমার শুটিংয়ে অনেক সময় আহতও হতে হয়েছে তাকে। এছাড়া নিজেদের প্রচুর সীমাবদ্ধতার মধ্যে কাজ করতে হয়, তাই বাইরের দেশের বড় বাজেটের সিনেমার সঙ্গে ঢালিউডকে তুলনা না করতেও অনুরোধ করেন এই নায়ক।
তিনি বলেন, “আপনারা হলে আসবেন, ছারপোকার কামড় খাবেন। মনে রাখবেন, ছারপোকার কামড়ের দাগ মুছে যাবে। কিন্তু সিনেমা করতে গিয়ে আমার শরীরে যত ইনজুরি হয়েছে, সেগুলো সারাজীবন আমাকে ভুগতে হবে। এইটুকু কষ্টের জন্য হলেও সিনেমা দেখতে আসবেন। শুধু দেশের বাইরের কাজের সঙ্গে তুলনা করবেন না। কারণ তাদের মতো আমাদের সুযোগ-সুবিধা নেই। আমাদের দেশের সিনেমা হিসেবে কেমন হয়েছে, চেষ্টাটা করতে পেরেছি কিনা, সেটুকু মূল্যায়ন করবেন।”