সময়টা যেন পরিচালক নুহাশ হুমায়ূনের। শুরুতেই “মুভিং বাংলাদেশ” দিয়ে যাত্রা শুরু। ওই সিনেমার জন্যে তাইপে থেকে পেলেন ৮৯ হাজার ৮'শ ডলার ও স্লোন ফাস্ট ট্র্যাক থেকে পেলেন ২০ হাজার ডলার। হরর ফিল্ম মশারির জন্যে ২০২২-এ জিতেছেন মিডনাইট শর্টস জুরি অ্যাওয়ার্ড। বর্তমানে চরকিতে চলছে তার নির্মিত লোকজ হরর ওয়েব সিরিজ “পেট কাটা ষ”। চার পর্বের এই সিরিজের নামকরণও হয়েছে ব্যতিক্রম। “এই বিল্ডিংয়ে মেয়ে নিষেধ”, “মিষ্টি কিছু”, “লোকে বলে” ও “নিশির ডাক” নামে সিরিজটি চলছে স্ট্রিমিং সাইট চরকিতে।
সম্প্রতি ঢাকা ট্রিবিউনের শোটাইম এডিটর সাদিয়া খালিদ রীতির সাথে কথা বলেছেন তরুণ এই পরিচালক। এতে জানিয়েছেন তার প্রাপ্তি, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে।
মশারি
শর্টফিল্ম “ঢাকা পোক্যালাইপস” ও মিউজিক ভিডিও “খোকা” নির্মাণে ভৌতিক কমেডি নিয়ে কাজ করেছেন নুহাশ। তবে পরিচালকের মতে এই প্রথম পরিপূর্ণ ভয়ের ছবি বানিয়েছেন। স্বতন্ত্র নির্মাণটি এ কারণে সাড়াও ফেলছে সব মহলে।
তিনি বলেন, “মানুষ এমনিতে আর্ট ফিল্ম দেখে। তবে মশারিতে আমি ভয়ের চাইতেও কিছুটা গভীর কিছু করতে চেয়েছি।”
পরিচালক নুহাশ বলেন, “প্রতিটা উৎসবে কিছু ভালো কাজ হয়। এবারেও তেমন হয়েছে। কিছু কাজ তো বৈশ্বিকভাবে মানসম্মতও হয়েছে।”
মুভিং বাংলাদেশ
নুহাশ বলেন, “এই কাজটা নিয়ে আমি খুবই উত্তেজিত ছিলাম। কেবল আমি টুকটাক কাজ শিখছি। আমার প্রথম ফিচার ফিল্ম এটা। আবার বাংলাদেশ থেকে ফিচার ফিল্ম ল্যাবে এটি প্রথম কাজ।”
তিনি বলেন, “এই প্ল্যাটফর্মটি খুবই প্রতিযোগিতামূলক। ফলে সুযোগ পাওয়ার পরে স্ক্রিপ্টের একটি চূড়ান্ত খসড়া তৈরি করা হয়। এরপরে পুরো প্রকল্পটি গুছিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই কাজের জন্যে আমি ধন্যবাদ জানাই তাইওয়ানিজ ও ফরাসি সহ-প্রযোজকদের। অন্যরা থাকার কারণে আমি নিজে কাজের একটা তাড়া অনুভব করেছি। ”
তিনি আরও বলেন, “পাঠাও-এর প্রতিষ্ঠাতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হলেও এটা বায়োপিক না। তবে এটি সত্য ঘটনা দ্বারা অনুপ্রাণিত। এটার মধ্যে দিয়েই নুহাশ লেন্সের যাত্রা শুরু। এই প্রকল্পে আমরা পাঠাও থেকে কোনো আর্থিক সহায়তা নেইনি। ফলে সবসময় আমরা একটা জিনিস মাথায় রেখেছি যাতে এটি কোনো প্রতিষ্ঠান বা সংস্থাকে বেশি তুলে না ধরে।”
উদাহরণ হিসেবে তিনি বাস্কেটবল কিংবদন্তি মাইকেল জর্ডানের বায়োপিকের কথা উল্লেখ করেন। যিনি নিজের খরচে নিজের বায়োপিক বানিয়েছিলেন।
এমনকি “মুভিং বাংলাদেশে” পাঠাওয়ের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম সালেহ এর মৃত্যুর কথাও বলা হয়নি।
পেট কাটা ষ
চরকির কাছ থেকে ওয়েব সিরিজের ধারণা শুনেই তার মাথায় বাঙালি ভূত নিয়ে একটি চিন্তা আসে। তখনই বিষয়টি সবার সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।
নুহাশ বলেন, “এটা আমি কোনো আড্ডায় বললে তারা হয়তো একটা ধারণা দেবে। যেটা সচরাচর লেখা হয়, পড়া হয়। তবে আমি চেয়েছি লোককাহিনীগুলো। যেসব মানুষ শুয়ে শুয়ে গল্প করতো। এই গল্পে কুসংস্কার রয়েছে, তবে এগুলোতে শিক্ষাও রয়েছে। শুধু ভুত নয়, এসব গল্পে সমাজের একটা অন্ধকার দিক ফুটে ওঠে। এমন গল্প আমি নিতে চেয়েছি।”
চিত্রগ্রাহক তাহসিন রহমানের ক্যামেরা দক্ষতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “পুরো শীতকালে যখন আমরা কাজ শুরু করি সময়টা সত্যিকারের একটা আবহ তৈরি করেছিল। নিশির ডাকের ভোর/সন্ধ্যার দৃশ্য নেওয়া হয়েছিল ভরদুপুরে।”
তিনি আরও বলেন, “অভিষেক ভট্টাচার্য এবং রাকাত জামির স্ক্রিপ্ট বানানোর আগেই শব্দের কাজ শুরু করে দিয়েছিল। ‘এ্যানিহিলেশন’ এবং ‘দ্য হান্টিং অফ হিল হাউস’ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে দলটি যথাক্রমে চারটি পর্বের প্রধান যন্ত্র হিসেবে সরোদ, হারমোনিয়াম, মন্দিরা এবং মানুষের কণ্ঠ ব্যবহার করেছে।”
এই পরিচালক বলেন, “হরর ঘরানার ফিল্মগুলি একটি সিম্ফনির মতো যেখানে প্রতিটি বিভাগকে একটি যন্ত্রের মতো তার ভূমিকা পালন করতে হয়।”
তিনি বলেন, “লোকে বলের কাহিনীর জন্যে আমি কুসংস্কার নিয়ে একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। সেটায় হাজার হাজার মন্তব্য এসেছে। আমি কিছু আকর্ষণীয় গল্পের মূল গল্প তৈরি করেছি। এটি একটি জটিল গল্প লেখার চ্যালেঞ্জ ছিল।”
অভিযোজন
হোটেল অ্যালবাট্রস প্রকল্পে সহ-লেখকদের সাথে লেখার কাজ করেছেন নুহাশ হুমায়ূন। তবে এখনও তিনি সেটি নির্মাণ করেননি। এমনকি এই মুহূর্তে পরিকল্পনাও নেই।
তিনি বলেন, “আমি সব জায়গা থেকে অনুপ্রেরণা নিই। অভিযোজন বানাতে যাওয়ার আগে একজন লেখক/পরিচালক হতে চাই। বাংলাদেশে উপন্যাস নিয়ে অনেক ব্যর্থ পরীক্ষা-নিরীক্ষা হয়েছে। শুধুমাত্র একটি উপন্যাস ভাল হওয়ার কারণে, চলচ্চিত্রটি সর্বদা ভাল পরিণত হয় না।”
পেট কাটা ষ এর জন্যে তিনি যে রিভিউ ও ভক্তদের প্রতিক্রিয়া পেয়েছেন তাতে তার মতে তরুণ নির্মাতাদের এটি অনুপ্রাণিত করবে।