“সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি”-এর দ্বিতীয় টিজার রবিবার (৫ নভেম্বর) রাত ৯টায় মুক্তি পেয়েছে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান “চরকি” তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে টিজারটি শেয়ার করে। তার কিছুক্ষণ পরেই নিজের ফেসবুক পেজে টিজারটি শেয়ার করেন সিনেমাটির পরিচালক মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
ভিন্ন ধারার এই চলচ্চিত্র নির্মাতা নিজেও থাকছেন চলচ্চিত্রটির মূখ্য চরিত্রে। আর এর মধ্য দিয়েই অভিনয় জগতে পদার্পণ করতে যাচ্ছেন ফারুকী। সঙ্গে থাকছেন সহধর্মিণী জনপ্রিয় অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা। প্রথম টিজারটি প্রকাশ পায় ৫ অক্টোবর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়। তখন থেকেই মিডিয়া পাড়াসহ সকল ভক্তদের মধ্যে হৈচৈ শুরু হয়ে যায় অটোবায়োগ্রাফি নিয়ে।
বাংলাদেশে জনপ্রিয় ওটিটি (ওভার-দ্যা-টপ) প্ল্যাটফর্ম “চরকি” তার দর্শকদের জন্য নির্মাণ করতে যাচ্ছে ১২ জন দেশসেরা নির্মাতার ১২টি চলচ্চিত্র। ভালোবাসার গল্পগুলোকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে তুলে ধরা হবে এই সিনেমাগুলোতে।
মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত প্রজেক্টটির নাম “মিনিস্ট্রি অব লাভ”। ইতোমধ্যে প্রজেক্টের দুটি সিনেমার কাজ শেষ হয়েছে। যেগুলোর পরিচালক ফারুকী নিজেই। এই সম্পন্ন হওয়া মুভি দুটোর একটি চঞ্চল চৌধুরী অভিনীত “লাস্ট ডিফেন্ডার অফ মনোগ্যামী” এবং আরেকটি এই “সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি”।
গল্প ও চিত্রনাট্য
পরিচালক-অভিনেত্রী দম্পতি ফারহান ও তিথির বিয়ের ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও কোনো সন্তান হয়নি। আর এজন্য রক্ষণশীল পুরুষতান্ত্রিক সমাজে তাদের সম্মুখীন হতে হয় নানান সমালোচনার। করোনাভাইরাস মহামারির সময় তারা সিদ্ধান্ত নেন সন্তান নেওয়ার। কিন্তু এখানেই সব সমস্যার শেষ নয়; বরং তাদের ঘিরে দানা বাধতে শুরু করে আরও ভয়াবহ জটিলতা।
এমনি প্রেক্ষাপট নিয়ে তিশা ও ফারুকী দু’জনে মিলেই বানিয়েছেন সিনেমার গল্প। চিত্রনাট্যও লিখেছেন তারাই। ফারহান ও তিথির প্রেম দিয়েই গল্পের শুরু। তারপর বিয়ে, সামাজিক রক্ষণশীলতা অতঃপর ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় মুল সমস্যার দিকে।
রচনার সময় মূলত সম্পূর্ণ নিজেদের বাস্তব জীবনকে কেন্দ্রীভূত করেছেন তিশা-ফারুকী দম্পতি। জীবনের নানা চড়াই-উৎরাই থেকে নিজেদের আত্মউপলব্ধিতো ছিলই; সেই সঙ্গে সেগুলোকে নির্দিষ্ট দিকে পরিচালিত করেছে করোনাভাইরাস মহামারির স্থবিরতা।
সাধারণত যে বিষয়গুলোকে সমাজে প্রায়ই এড়িয়ে যাওয়া হয়, সেগুলোকে সযত্নে তুলে আনা হয়েছে এই গল্পে। নিজের অস্তিত্বের জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ হওয়া সত্ত্বেও অবহেলিত এই সমস্যাগুলো সমাধান কল্পে বার্তা থাকবে সিনেমায়।
সিনেমার শিরোনামটি নেওয়া হয়েছে বিশ্ব চলচ্চিত্রের অগ্রদূত বিখ্যাত জাপানি নির্মাতা আকিরা কুয়োসাওয়ার স্মৃতিকথা থেকে।
নির্মাতা থেকে অভিনেতা ফারুকী
২০০৪ সালে “ব্যাচেলর”-এর মাধ্যমে রীতিমত চলচ্চিত্র বিপ্লবের উত্থান থেকে শুরু ফারুকীর পথ চলা। এরপর একে একে “মেড ইন বাংলাদেশ”, “থার্ড পার্সন সিঙ্গুলার নাম্বার”সহ কতিপয় সিনেমার মাধ্যমে দেশে ও বিদেশে নিজের সাক্ষর রেখেছেন।
অটোবায়োগ্রাফির গল্প লেখার সময় বেশ ভালোভাবেই তার জানা ছিল ফারহান চরিত্রটির ব্যাপারে। কিন্তু অভিনয়ের বিষয় নিয়ে ভেতরে ভেতরে বেশ ইতস্তত বোধ কাজ করছিলেন। প্রযোজক রেদওয়ান রনি চরিত্রের ব্যাপারে শোনার পর রীতিমত জোর দিয়েই বললেন ফারহানের ভূমিকায় অভিনয় করতে। এরপরও সংশয় কাটেনি পরিচালকের। অতঃপর আলোকবর্তিকা হয়ে এলেন স্ত্রী। তার সহযোগিতাতেই ২০ বছর ধরে ক্যামেরার পেছনে থাকা নির্মাতা অবশেষে সামনে আসার দুঃসাহসটা করেই বসলেন।
অন্যান্য অভিনয় শিল্পী ও কলাকুশলী
ফারুকী-তিশা জুটিকে সঙ্গ দিয়েছেন ইরেশ জাকের, মনোয়ার হোসেন ডিপজল, ডলি জহুর, এবং শরাফ আহমেদ জীবন। “চরকি”-র জন্য নিবেদিত সিনেমাটি তৈরি হয়েছে ফারুকীর প্রতিষ্ঠিত ফিল্ম প্রোডাকশন হাউজ ছবিয়ালে।
চিত্রগ্রহণে কাজ করেছেন তাহসিন রহমান এবং শব্দ সংযোজন করেছেন রিপন নাথ। সঙ্গীত আয়োজনে ছিলেন পাবেল অরিন, আর যাবতীয় সম্পাদনার দায়িত্ব পালন করেছেন মোমিন বিশ্বাস। শিল্প নির্দেশনায় ছিলেন শিহাব নুরুন নবী এবং পোষাক পরিকল্পনায় কাজ করেছেন ইদিলা ফরিদ তুরিন।
অটোবায়োগ্রাফির অর্জন
বাংলাদেশে মুক্তির আগেই সিনেমাটির প্রদর্শনী হয়ে গেছে বুসান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের ২৮তম আসরে। ৮, ৯ ও ১১ অক্টোবর বুসান সিনেমা সেন্টার সিনেমাথিকে দেখানো হয় মুভিটি। “কিম জি-সিউক” বিভাগে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য অন্যান্য আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রগুলোর তালিকায় এই সিনেমার নামটিও উঠে আসে। এছাড়া মুম্বাই চলচ্চিত্র উৎসবেও বেশ প্রশংসা পায় চলচ্চিত্রটি।
শেষাংশ
মোস্তফা সরয়ার ফারুকী মানেই যে ভিন্ন কিছু, সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফির মাধ্যমে তা আবারও প্রমাণিত হবে। নভেম্বর মাসেই চরকির দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে ছবিটি। তবে সঠিক তারিখটি এখনো প্রকাশ করা হয়নি। সর্বোপরি, ফারুকীর সহসা অভিনয়ের চমকের পাশাপাশি বহুদিন বাদে তিশার প্রত্যাবর্তনটাও হতে যাচ্ছে অভিজাত।