শাকিব খান অভিনীত আলোচিত সিনেমা “তুফান”। এ সিনেমায় অভিনয় করেছেন ওপার বাংলার মিমি চক্রবর্তীও। মুক্তির প্রথম দিনেই (১৭ জুন) সিনেমাটি বক্স অফিসে ঝড় তুলেছে। কয়েক দিন আগে টিকিট না পেয়ে প্রেক্ষাগৃহ ভাঙচুর করেছেন দর্শকরা। “তুফান” সিনেমা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জোর আলোচনা হচ্ছে। কলকাতার দর্শকরাও সিনেমাটি দেখার জন্য দারুণ আগ্রহ প্রকাশ করছেন।
একটি সূত্র ভারতীয় গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, আগামী ২৮ জুন ভারতে মুক্তি পেতে পারে “তুফান” সিনেমা। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো ঘোষণা দেননি পরিচালক কিংবা প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান।
সম্প্রতি সিনেমাটি নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন টলিউড প্রযোজক রানা সরকার। “জাতিস্মর” সিনেমার প্রযোজক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “শাকিব খান অভিনেতা হিসেবে খুব ভালো এরকম না। কিন্তু তার প্রত্যেকটা সিনেমা সুপারহিট হয়। এমনকি ঈদের ছুটিতে শাকিব খানের একের বেশি সিনেমা রিলিজ হলেও সবকটা সুপারহিট হয়। গান সুপারহিট হয়, মিউজিক ভিডিও সুপারহিট হয়। এক শাকিব খানের জন্য পুরো বাংলাদেশ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি লাভের মুখ দেখে।”
তিনি আরও লিখেছেন, “এমন অবস্থা হয়েছে এখন, কলকাতার প্রযোজকরাও ঢাকায় গিয়ে শাকিব খানের সিনেমা প্রযোজনা করে প্রফিট করার রাস্তা নিয়েছে। কিন্তু কলকাতার সুপারস্টারদের নিয়ে সিনেমা বানাতে পারছে না বা চাইছে না, কেন? বাংলাদেশের দর্শক, মূলত শাকিব খানের ফ্যানরা সিনেমা হলে গিয়ে সিনেমা দেখার জন্য পাগল। বাংলাদেশের দর্শকদের মধ্যে দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার দর্শকদের মতো পাগলামি দেখা যায়। শাহরুখ সালমানের ফ্যানদের মতো পাগলামি দেখতে পাওয়া যায়।”
এরপর লিখেছেন, “আমি ঠিক বুঝি না আমাদের কলকাতার সুপারস্টারদের কথা। এত প্রচার, এত গালভরা ইন্টার্ভিউ, কিন্তু এতদিন পরেও কেন পশ্চিমবাংলার দর্শক মিনিমাম ব্যবসা দিতে ইচ্ছুক নয়, হলে সিনেমা দেখতে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই, দর্শকের কোনো দায়বদ্ধতা নেই প্রিয় সুপারস্টারদের প্রতি।”
রানা সরকার লেখেন, “ফ্যানদের যত কথা শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায়। তারা সবাই সিনেমা হলে গেলে এপার বাংলাতেও সুপারস্টারদের সিনেমাগুলো শাকিব খানের মত হিট হতো। সমস্যাটা ঠিক কোথায় আমাদের সুপারস্টারদের?”
তিনি তার পোস্টে বেশকিছু প্রশ্নও তোলেন। জিজ্ঞেস করেন, “তারা অভিনয় পারেন না? সিনেমা ভালো তৈরি করতে পারেন না? কাজ কম কথা বেশি? প্রযোজক পান না বলে নিজের সিনেমা নিজেকেই প্রযোজনা করতে হয়? শুধু স্যাটেলাইট রাইট বিক্রির থেকে লাভ করার কথা ভেবে সিনেমা বানান, বক্স অফিসের কথা ভাবেন না? নাকি পশ্চিমবঙ্গের মেনস্ট্রিম সিনেমার দর্শক সিনেমা হলে গিয়ে তাদের সিনেমা আর দেখতে চান না, তারা হিন্দি আর দক্ষিণী সিনেমা দেখেন?”
প্রশ্ন তোলার পর রানা সরকার লেখেন, “সুপারস্টার হলেই যে সে ভালো প্রযোজনা করতে পারবে এটা এ বাংলায় এখনও সত্যি না। সুপারস্টারদের প্রযোজনায় হিট সিনেমার সংখ্যা হাতে গোনা। আর কলকাতার প্রযোজকরা কেন সুপারস্টারদের নিয়ে সিনেমা বানাচ্ছেন না তার কারণও সুপারস্টারদের অতিরিক্ত চাহিদা।”
তার পোস্টের মন্তব্যের ঘরে সুদীপ সামন্ত নামে এক ব্যক্তি লিখেছেন, “কলকাতার সুপারস্টারদের (দেব, জিৎ, বুম্বাদা বাদ দিয়ে) সুপারস্টার বানিয়েছে মিডিয়া। গ্রামের লোক জানেই না দেব, জিতের পর কে হিরো। কোনো ডিরেক্টর কলকাতার বাইরে সিনেমা প্রোমোট করে না।”
অন্য একজন লিখেছেন, “শাকিব খান অভিনয় পারে না সেটা আপনার ভুল ধারণা। শুরু দিকে তার অভিনয় দর্শক থেকে সমালোচক সবাই প্রশংসা করত। পরে তিনি ইন্ডাস্ট্রির কথা ভেবে বাছবিচার না করে কাজ করাতে অভিনয়ে মনোযোগ দেননি। কিন্তু এখন যে মুভিগুলো করছেন, দর্শক তার অভিনয়ে আবার মুগ্ধ হচ্ছে।”