‘বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা পেয়ে আমি মুগ্ধ, অভিভূত’

ঢাকাই সিনেমায় এখন ‘‘তুফান’’  ঝড় বইছে। শাকিব খান অভিনীত এই সিনেমায় ‘‘দুষ্টু কোকিল’  গানটি দুই বাংলায় ভাইরাল। সোশ্যাল হ্যান্ডেলে ঢুঁ মারলেই টিকটক আর রিলসে দেখা যায় দুষ্ট কোকিলের প্রাধান্য। তবে গানটির সুর বা কণ্ঠ নয়, তার চেয়েও অধিক আলোচনা হচ্ছে এই গানে এক তরুণের প্রাণবন্ত উপস্থিতি। পর্দায় মাত্র কয়েক সেকেন্ডের উপস্থিতিতে তিনি জয় করে নিয়েছেন দর্শক হৃদয়। বিশেষ করে তরুণী দর্শক তার অভিব্যক্তিতে বুঁদ হয়ে আছেন! গানটির ভাইরাল চরিত্রটি হচ্ছে দুষ্টু এবং হ্যান্ডসাম বয় মানব সচদেব!  মিমির পাশে কয়েক সেকেন্ড, মাত্র চার লাইন, ‘‘নদীর বুকে চর, আমি কি তোর পর, আকাশ ভরা চান্দের আলোয়, বাঁধবো সুখের ঘর’’ - এ থেকেই সুপারহিট তিনি। গোটা বাংলাদেশ মানবকে এখন ‘‘দুষ্টু কোকিল বয়’’   নামেই চেনে। কলকাতার ছেলে মানবের কাছে কীভাবে এল এমন ‘‘তুফান’ সুযোগ-জানিয়েছেন ঢাকা ট্রিবিউনকে। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন সিয়াম সারোয়ার জামিল। 

ঢাকা ট্রিবিউন: কেমন আছেন, কী নিয়ে ব্যস্ত এখন?

ভালো আছি। এই মুহূর্তে কয়েক জায়গাতেই কাজ করছি। দক্ষিণী ছবি ‘‘উমা’’তে কাজ করছি। কাজল আগরওয়াল আছেন এতে। এছাড়া টিনু আনন্দের সঙ্গে একটি নতুন হিন্দি ছবিতেও আছি। মুক্তির অপেক্ষায় আছে দুটোই। রাধিকা আপ্তের একটি ওটিটিতেও কাজ করছি। 

ঢাকা ট্রিবিউন: অভিনয়ে কবে থেকে সম্পৃক্ত?

সবমিলিয়ে ১০ বছর তো হবেই। আমি এর আগে সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ছবি ‘‘শাহজান রিজেন্সি’’তে কাজ করেছি। স্টার জলসার ‘‘সাহেবের চিঠি’’ ধারাবাহিকেও ছিলাম। জি টিভির হিন্দি ধারাবাহিক ‘‘রিস্তো কা মানজা’’তে অভিনয় করেছি। 

ঢাকা ট্রিবিউন: আপনি কি কলকাতায় থাকেন নাকি মুম্বাই?

একেবারে কলকাতার ছেলে আমি। এই শহরেই বেড়ে ওঠা। আমার বাবা-মা দুজনেই কোলকাতার। পেশাগত কারণেই মুম্বাই যাওয়া। 

ঢাকা ট্রিবিউন: ‘দুষ্টু কোকিল’’ গানটিতে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের ভিডিওতে দুই বাংলায়, বিশেষ করে বাংলাদেশে ব্যপকভাবে প্রশংসিত হচ্ছেন। কেমন লাগছে?

অসাধারণ। আমি আসলে কখনই ভাবিনি, এভাবে সাড়া পাব। অনেকটা অবিশ্বাস্য লাগছে। সত্যিই অসাধারণ অনুভুতি। সোশ্যাল মিডিয়ায় যেভাবে সাড়া পাচ্ছি, বাংলাদেশের মানুষের ভালোবাসা পাচ্ছি, সত্যিই আমি অভিভুত। আমি এর আগেও অনেক কাজ করেছি। কিন্তু এতটা ভালোবাসা আগে পায়নি। সত্য়িই আমি আপ্লুত। এটা আমার কাছে সারপ্রাইজের মতো।

ঢাকা ট্রিবিউন: কীভাবে ‘দুষ্টু কোকিলের’’ সঙ্গে যুক্ত হলেন?

হঠাৎ করেই অফারটা এল আমার কাছে। আর এখন দেখুন, মাত্র কয়েক সেকেন্ডেই সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল। আমাকে সাড়ে পাঁচটায় ফোন দিয়ে বলা হয়েছিল, মানব তুমি কি মুম্বাইয়ে নাকি কলকাতায়। আমি কলকাতায় জানানোর পর আটটার দিকে ডাকা হলো। একেবারেই অল্পসময়ের প্রস্তুতিতে শ্যুটিংয়ে নেমেছিলাম। এই গানটিতে আমি হয়তো তিরিশ সেকেন্ড ছিলাম। আর ৩০ সেকেন্ডেই আমি এখন ভাইরাল। এরকম হবে সত্যিই আমি ভাবতে পারিনি। 

ঢাকা ট্রিবিউন: দুই ইন্ডাস্ট্রির লোক কাজ করছেন একসংগে, কী পার্থক্য চোখে পড়েছে?

এ ধরনের কোনো পার্থক্য চোখে পড়েনি। আমার মনেই হয়নি, অন্য দেশের একটা ছবিতে কাজ করছি। একেবারে নিজের মনে হয়েছে। দুই বাংলার মানুষ একসঙ্গে কাজ করলে সেটা দুই দেশের শিল্পীদের জন্যই মঙ্গল। জানাবোঝা, শেয়ারিং- সবই হয়। 

ঢাকা ট্রিবিউন: বাংলাদেশের কাজ কী দেখা হয়?

না। দেখার সুযোগ হয়নি আসলে। তবে এই দুষ্টু কোকিলের কাজ করার আগে শাকিব খানের একটি গান দেখেছি শুধু।

ঢাকা ট্রিবিউন: কেমন ছিল শাকিব খানের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা? 

অসাধারণ অভিজ্ঞতা। প্রথমবার যখন সেটে দেখলাম, বুঝতে পেরেছিলাম, কেন তিনি সুপারস্টার। একটা আলাদা ব্যাপার আছে। যা বলে বোঝানো যাবে না। আর মিমি তো দারুণ। আমি সত্যিই খুব লাকি শাকিব ও মিমির সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করে।

ঢাকা ট্রিবিউন: ‘তুফান ২’’-তে কি আপনি থাকছেন? 

তুফান ২ নিয়ে কিছুই বলা যাবে না। পরিচালক ঠিক কীভাবে ভাবছেন, সেটা তো আমি জানি না।

ঢাকা ট্রিবিউন: ঢাকায় এসেছেন কখনও?

কখনও যাওয়া হয়নি। তবে এবার মনে হচ্ছে, যেতে হবে। বাংলাদেশের মানুষের যে ভালোবাসা পেলাম, নিশ্চয় যাব।

মানব সচদেব-Manav Sachdev