ওমর সানী: আমার বাড়িতে ফিল্মি স্টাইলে ডাকাতির নজির দেখলাম!

গত ৩ ডিসেম্বর নিজ বাসায় চুরির ঘটনায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন চিত্রনায়ক ওমর সানী। চুরির ঘটনার ১৩ দিনের মাথায় এবার বাসায় ডাকাতি হয়েছে বলে জানালেন এই অভিনেতা।

রবিবার (১৫ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার সময় বাসায় ঢুকে ডাকাতির বিষয়টি টের পান বলে জানান ওমর সানী। সোমবার সকালে প্রথম আলোকে ডাকাতির খবরটি নিশ্চিত করেন জনপ্রিয় এই চিত্রনায়ক।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এইচ ব্লকের একটি বাড়িতে থাকেন তিনি। এ বিষয়ে ওমর সানী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘‘প্রয়োজনীয় কিছু কাজে আমি বাসার বাইরে ছিলাম। রাত ১২টার দিকে ঘরের মেইন গেট দিয়ে ঢুকে দেখি আমি বেডরুমে ঢুকতে পারছি না। ভেতর থেকে দরজাটা বন্ধ। বেডরুমের চাবিটাও আবার ভেতরে ছিল। নানাভাবে চেষ্টার পর যখন ব্যর্থ হলাম, তখন বাড়ির কেয়ারটেকার ও আমার ম্যানেজারকে বিকল্প উপায়ে বেডরুমে ঢুকতে বলি। তারা বাইরে দিয়ে বারান্দা গিয়ে দেখতে পায়, সেখানকার দরজার গ্লাসটি ভাঙা। এরপর বেডরুমে ঢুকে দেখে ভেতর থেকে ছিটকিনি আটকানো। রুমের অবস্থা দেখে মনে হয়েছে বেশ কয়েকজন এসেছিল। ছিটকিনি খোলার পর বেডরুমে ঢুকে দেখি, অনেক প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট নেই। এর মধ্যে ২ কোটি টাকা প্রতারণার একটি মামলার ডকুমেন্টও যেমন আছে, তেমনি একটি আইফোন এবং আমার মেয়ের ছোটবেলার উপহারের কিছু স্বর্ণালংকারও ছিল।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘আমার ছেলে ফারদিন ব্যবসা করতে গিয়ে ২ কোটি টাকা প্রতারণার শিকার হয়েছিল। এ নিয়ে একটি মামলা চলছিল। সামনে এই মামলার রায় ঘোষণার কথা। এর মধ্যে আমার বাসা থেকে অন্যসব জিনিসের পাশাপাশি মামলার অরিজিনাল সব ডকুমেন্ট নিয়ে গেছে কারা। বেডরুমে একটি দামি ল্যাপটপও ছিল তা কিন্তু নিয়ে যায়নি। তার মানে এটা নিশ্চিত যে যারা এসেছিল, তাদের টার্গেটই ছিল মামলার আসল ডকুমেন্ট নিয়ে যাওয়া। আমি সত্যিই হতবাক এমন ঘটনায়। বারবার মনে হচ্ছিল, এমনটা তো শুধু ফিল্মে সম্ভব। আমি আমার বাড়িতে ফিল্মি স্টাইলে এমন ডাকাতির নজির দেখলাম! তবে এটা তো ঠিক, আমার আইনজীবীর কাছে তো মামলার সব ডকুমেন্টই আছে। আমাকে অযথা হয়রানি করা ছাড়া এটা আর কিছুই না। আমি এত সহজে দমে যাওয়ার পাত্র নই। জন্মেছি যখন মরব, আমি এসবের শেষ দেখেই ছাড়ব। আমি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দায়িত্বশীল সবাইকে বিষয়টি জানিয়েছি এবং ভাটারা থানায় মামলা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’’

উল্লেখ্য, ওমর সানী গত বছরের আগস্টে জানান, তার ছেলে ফারদিন বিট কয়েন ও ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে এক ব্যক্তির সঙ্গে ২ কোটি টাকার লেনদেন করে প্রতারিত হয়েছেন। ছেলের প্রতারিত হওয়ার সেই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করে গণমাধ্যম ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাহায্যও চেয়েছিলেন এই অভিনেতা।