পরীমণির জামিনদার কে এই সাদী?

প্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন চিত্রনায়িকা পরীমণি।

সোমবার (২৮ জানুয়ারি) আদালতে জামিন মঞ্জুর করার পর পরীমণির আইনজীবী জামিননামার প্রয়োজনীয় তথ্য লেখার পর জামিনদারের সইয়ের জন্য কাগজটি প্রস্তুত করেন। তখন পরীমণির পাশে বসে থাকা শেখ সাদী জামিননামায় নিজের নাম লেখেন।

এ বিষয়ে পরীমণির আইনজীবী নীলাঞ্জনা রিফাত সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোকে বলেন, ‘‘আদালতের জামিন আদেশের পর পরীমনির জামিননামা লেখা হয়। আমি জামিনদার হয়েছি। আরেকজন জামিনদার হয়েছেন শেখ সাদী। জামিননামাটি আদালতে জমাও দিয়েছি।’’

শেখ সাদী শোবিজ অঙ্গনের বেশ পরিচিত মুখ। তিনি একজন সঙ্গীতশিল্পী। পরীমণি তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক পেজে সাদীকে নিয়ে এর আগেও একটি ভিডিও শেয়ার করেছিলেন। ভিডিওর ক্যাপশনে পরীমণি লিখেছিলেন, “আমি একরকম তার কনসেন্ট ছাড়াই এটা ক্যাপিট্যুরেড করেছিলাম যখন সে তার আপকামিং মিউজিক এ‍্যালবাম এর শেষ গান টা লিখছিল! আমি অবাক হয়ে দেখছিলাম এতো মানুষের মধ্যে, এতো রেগুলার ওয়েতে কি করে একটা মানুষ এরকম একটা কিছুতে মনোনিবেশ করতে পারলো! এতো সামনে থেকেও আমার নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছিল না গানটা সে কাটছাঁট করে জাস্ট পনেরো মিনিটের মধ্যেই লেখা শেষ করলো! আমি তখন আবারও বুঝলাম,মানুষ তার নিজস্ব পছন্দে শ্রেষ্ঠ। তুমি তোমার মতন করে বড়, অনেক বড়। বহু বড় হবার আরও অনেক বাকি.., পৃথিবীকে জানতে দিও তুমি এই পৃথিবীর আলো।”

পরীমনির জামিনদার হয়েছেন তরুণ গায়ক শেখ সাদী

ফেসবুকে ভিডিও প্রকাশের পর এবার আদালতে তাদের একসঙ্গে দেখা গেলে এ নিয়ে শুরু হয় চর্চা।

জামিনদার হওয়া প্রসঙ্গে শেখ সাদী বলেন, ‘‘পরীমণি আমার সহকর্মী। তার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির খবর শুনে বেশ দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই। তখন পরীমণির সঙ্গে কথা হয়। তিনি আমাকে জানিয়েছিলেন, আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন। জামিন হওয়ার পর তার আইনজীবী একজন জামিনদার হন। আমিও আরেকজন জামিনদার হয়েছি।’’

শেখ সাদী আরও জানান, একই অঙ্গনে দীর্ঘদিন কাজ করার কারণে পরীমনির সঙ্গে বেশ আগেই পরিচয় হয়েছিল। তখন থেকে পেশাগত বিষয় নিয়ে তার সঙ্গে নিয়মিত কথাবার্তা হয়।

শেখ সাদীর জামিনদার হওয়া প্রসঙ্গে চিত্রনায়িকা পরীমণি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘‘হঠাৎ করে আমি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম বলে  আদালতে যেতে পারিনি। যখন শুনলাম, আমার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে। খবরটি যখন গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে, তখন আমার শুভাকাঙ্ক্ষী ও শুভানুধ্যায়ীরা আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এমন পরিস্থিতিতে আমার বন্ধুবান্ধবরা আমাকে সাহস জুগিয়েছে। শেখ সাদীও আমার সহকর্মী। গতকাল আদালতে শুনানির সময় সে ছিল। জামিন পাওয়ার পর আইনজীবী জামিনদারের পাশাপাশি স্থানীয় একজন জামিনদারের প্রয়োজন হয়। শেখ সাদী তখন জামিননামায় স্বাক্ষর করে।’’

পরীমণি গণমাধ্যমে আরও বলেন, ‘‘একটা চড়াই–উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে আমার জীবন চলছে। বিপদের সময় যে পাশে থাকেন, সে জীবনের জন্য আশীর্বাদ। আমি এই জীবনে অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী পেয়েছি, এখনো আমার অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী রয়েছে। আমার সুখ-দুঃখের গল্পগুলো তাদের সঙ্গে শেয়ার করি। এতে আমি মানসিকভাবে ভালো থাকি।’’

শেখ সাদী বলেন, ‘‘আমিও ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করছি অনেক দিন হলো। পরীমণির অনেক ইতিবাচক গুণ রয়েছে। বিপদ–আপদে মানুষের পাশে থাকেন। আমি তার মঙ্গল কামনা করি সবসময়।’’