নারী নির্যাতন মামলায় সংগীতশিল্পী মাইনুল আহসান নোবেলকে গ্রেপ্তার করেছে ডেমরা থানা পুলিশ।
মঙ্গলবার (২০ মে) ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান সংবাদমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এ বিষয়ে ডেমরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সংবাদমাধ্যমকে বলেন, নারী নির্যাতনের মামলায় সোমবার রাতে ডেমরা স্টাফ কোয়ার্টার থেকে নোবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মঙ্গলবার তাকে আদালতে তোলা হবে।
ওসি জানিয়েছেন, আপাতত নোবেলকে রিমান্ডে নিতে আবেদন করা হবে না। এ বিষয়ে পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে, ধর্ষণ ও মারধরের অভিযোগ করে এক তরুণী মাঈনুল আহসান নোবেলের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
ডেমরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মুরাদ হোসেন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “সম্প্রতি একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে এক তরুণীকে সিঁড়ি দিয়ে টেনেহিঁচড়ে নামাতে দেখা যায় নোবেলকে। গত রাতে ওই তরুণী ধর্ষণ, পর্নোগ্রাফি ও মারধরের অভিযোগে নোবেলের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছেন। এরপরই নোবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
প্রসঙ্গত, মামলা বা গ্রেপ্তার অবশ্য নোবেলের জন্য স্বাভাবিক হয়ে গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিতর্কিত পোস্ট, মাদকাসক্তি বা স্ত্রীকে নির্যাতন এমন অভিযোগে অনেকবারই এই কণ্ঠশিল্পী আলোচিত হয়েছেন।
অগ্রিম টাকা নিয়ে অনুষ্ঠানে না যাওয়ার অভিযোগে ২০২৩ সালের ১৯ মে ঢাকার মতিঝিল থানায় নোবেলের বিরুদ্ধে মামলা করেন সাফায়েত ইসলাম নামে এক ব্যক্তি। পরদিন গোয়েন্দা পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতের মাধ্যমে এক দিনের হেফাজতে নেয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে নেওয়ার পর জামিন পান নোবেল।
২০১৯ সালে ভারতের জি-বাংলা টিভির রিয়েলিটি শো “সা রে গা মা পা”তে অংশ নিয়ে তৃতীয় হয়ে আলোচনায় আসেন নোবেল। তবে নানা কর্মকাণ্ডে তাকে নিয়ে বিতর্কও বাড়তে থাকে।
২০২৩ সালের ২৬ এপ্রিল কুড়িগ্রামে গান পরিবেশনের সময় মঞ্চে নোবেলের অসংলগ্ন আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে জুতা ও পানির বোতল ছোড়ে দর্শক। আর তাতে পণ্ড হয় ফুলবাড়ী ডিগ্রি কলেজের ৫০ বছর পূর্তি ও সুর্বণজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
তবে সম্প্রতি বিভিন্ন কনসার্ট ও গণমাধ্যমের অনুষ্ঠানে প্রায়ই উপস্থিত হয়ে নিজের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার জানান দিচ্ছিলেন নোবেল। এরমধ্যেই নতুন অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে তাকে জেলে যেতে হলো।