কলকাতায় গ্রেপ্তার হয়েছেন বাংলাদেশের মডেল ও অভিনেত্রী শান্তা পাল। একাধিক ভুয়া ভারতীয় পরিচয়পত্র রাখার অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার কাছ থেকে ভারতের ভোটার আইডি ও আধার কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার জানিয়েছেন, গত ২৮ জুলাই তাকে বিক্রমগরের একটি ফ্ল্যাট থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। যাদবপুর থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পার্কস্ট্রিট থানার পুলিশ।
কলকাতা পুলিশের এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “আমরা জানতে চাই, বাংলাদেশি হয়েও তিনি কীভাবে আধার কার্ড ও ভোটার কার্ড পেলেন। তার সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টগুলো থেকে আরও তথ্য বের করার চেষ্টা চলছে।”
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শান্তা পালের বাড়ি বাংলাদেশের বরিশালে। তিনি বৈধ বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে তার মা-বাবার সঙ্গে কলকাতায় থাকতেন। তবে অবৈধ উপায়ে তিনি ভারতীয় পরিচয়পত্র পাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, তিনি সম্ভবত বিদেশে যাওয়ার জন্য বিকল্প উপায় খুঁজছিলেন।
পুলিশ জানায়, শান্তা পালের যাদবপুরের ফ্ল্যাট থেকে একাধিক বাংলাদেশি পাসপোর্ট, একটি বাংলাদেশি এয়ারলাইনসের আইডি কার্ড, ঢাকার একটি মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রবেশপত্র ও কিছু ভুয়া ভারতীয় নথি পাওয়া যায়।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, শান্তা পাল কয়েক মাস আগে ঢাকা থেকে কলকাতায় এসে প্রথমে পার্ক স্ট্রিট এলাকায় ভাড়া থাকতেন। পরে তিনি যাদবপুরের বিক্রমগড় এলাকার গল্ফ গ্রিন এলাকায় একটি তিনতলার ফ্ল্যাটে চলে যান। তার আধার কার্ডটি ২০২০ সালে বর্ধমানের একটি ঠিকানা ব্যবহার করে তৈরি করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শান্তা পাল “মিস এশিয়া গ্লোবাল বাংলাদেশ” নামের একটি প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয়েছিলেন। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে, তিনি ঠাকুরপুকুর থানায় প্রতারণার একটি অভিযোগও করেছিলেন। আরও একটি সূত্রের দাবি, তার স্বামী অন্ধ্র প্রদেশের বাসিন্দা। পুলিশ এই দম্পতির বিয়ে নিয়েও তদন্ত করছে।
জানা গেছে, শান্তা পাল একজন বিমানকর্মী ছিলেন। এই পেশা ছেড়ে দিয়ে তিনি মডেলিং, অভিনয় ও ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরির কাজ শুরু করেন। তিনি ফুড ভ্লগার হিসেবেও কাজ করতেন। গত জুন মাস পর্যন্ত তিনি তার ভ্লগে বিভিন্ন কনটেন্ট পোস্ট করেছেন।
এ ছাড়া, “ব্যাচেলর ইন ট্রিপ” সিনেমায় বড় পর্দায় অভিষেক হয়েছিল তার। এছাড়াও তামিল সিনেমা “ইয়েরালাভা” ছবিতে কাজ করেছিলেন তিনি। সিনেমার পরিচালক ছিলেন বিশ্বনাথ রাও। বাংলাদেশের নানা প্রজেক্টে কাজ করেছিলেন তিনি।