আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ভারতের প্রখ্যাত আলোকচিত্রী রঘু রাই মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) রঘু রাইয়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম।
ভারতীয় উপমহাদেশ বিভাজনের আগে পাকিস্তানের পাঞ্জাবের একটি গ্রামে জন্মগ্রহণকারী রঘু রাই পেশায় একজন নির্মাণ প্রকৌশলী হলেও পরবর্তীকালে তিনি ভারতের জটিল সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনকে ক্যামেরাবন্দী করা একজন প্রখ্যাত আলোকচিত্রীতে পরিণত হন।
তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের চিত্র ধারণ ও ১৯৮৪ সালে ভোপালে গ্যাস দুর্ঘটনা। ওই দুর্ঘটনায় আনুমানিক ২৫,০০০ মানুষের মৃত্যু হয়।
রাই 'অ্যাকাডেমি দে বো-আর্টস ফটোগ্রাফি অ্যাওয়ার্ড' এর প্রথম বিজয়ী ছিলেন। ১৯৭২ সালে অসামান্য অবদানের জন্য তিনি ভারতের বেসামরিক সম্মাননা 'পদ্মশ্রী' লাভ করেছেন।
রঘু রাই পেশাগত জীবনে ইন্দিরা গান্ধী, দালাই লামা, সত্যজিৎ রায়সহ অনেক আলোচিত খ্যাতিমান ব্যক্তির আলোকচিত্র তুলেছেন।
ভারতের আইনপ্রণেতা শশী থারুর এক শ্রদ্ধাঞ্জলিতে বলেছেন, "বিশ্বের কাছে তিনি ছিলেন অতুলনীয় আলোকচিত্রের মহাগুরু। তার দৃষ্টিতে ধরা পড়েছে ভারতের স্পন্দিত হৃদয় ও আত্মা।"
ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনের শীর্ষ ব্যক্তিত্বদের প্রতিকৃতি ধারণের পাশাপাশি দেশের সংস্কৃতি ও সাধারণ মানুষের জীবনও সমান দক্ষতায় তুলে ধরেছেন রাই।
তিনি তাজমহলসহ নানা বিষয়ে ডজনখানেক ফটোবুক প্রকাশ করেন। মাদার তেরেসার অন্তরঙ্গ প্রতিকৃতিগুলো তার কাজের বিশেষ স্থান দখল করে আছে।
রাই ম্যাগনাম ফটোসের সদস্য ছিলেন। বিশ্বখ্যাত আলোকচিত্রী অঁরি কার্তিয়ে-ব্রেসোঁ তাকে নিউইয়র্কভিত্তিক এই মর্যাদাপূর্ণ সমবায়ে মনোনীত করেন।
পরবর্তীতে তিনি ফটো সাংবাদিকতায় যুক্ত হন। ষাট ও সত্তরের দশকে দেশের শীর্ষস্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করেছেন। পরে এককভাবে কাজ শুরু করেন।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভারতীয় সময় রবিবার বিকেল ৪টায় নয়াদিল্লিতে রঘু রাইয়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হবে।



