বেশি খেয়েও যেকারণে ওজন বাড়ে না, জানুন বিস্তারিত

অনেক মানুষ নিয়মিত ও পর্যাপ্ত খাবার গ্রহণের পরও ওজন বাড়াতে পারেন না। পর্যাপ্ত ঘুম ও সুষম খাদ্য গ্রহণের পরও শরীরের ওজন না বাড়ার পেছনে বিভিন্ন শারীরিক ও পুষ্টিগত কারণ থাকতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক ক্ষেত্রে হজমজনিত সমস্যার কারণে খাবারের পুষ্টি উপাদান শরীরে সঠিকভাবে শোষিত হয় না। ফলে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাবার খেলেও ওজন বৃদ্ধি পায় না। আবার কেউ কেউ অল্প খাবারেই ওজন বাড়িয়ে ফেললেও অন্যদের ক্ষেত্রে ঠিক উল্টো চিত্র দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ওজন না বাড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে ম্যালঅ্যাবসরপসন। এটি এমন একটি অবস্থা, যেখানে খাবার গ্রহণের পরও অন্ত্র প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান যথাযথভাবে শোষণ করতে পারে না। ফলে শরীর পর্যাপ্ত পুষ্টি না পেয়ে দুর্বল ও পাতলা হয়ে পড়তে পারে। বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণে এই অবস্থা সৃষ্টি হতে পারে।

এ ছাড়া পর্যাপ্ত পুষ্টির ঘাটতিও ওজন না বাড়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ। বিশেষ করে খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন না থাকলে শরীরের পেশি গঠন বাধাগ্রস্ত হয়। পুষ্টিবিদরা খাদ্যতালিকায় মাছ, মাংস, ডিমের পাশাপাশি মুগ ডাল, শিম, সয়াবিন, কাজু ও বিভিন্ন ধরনের বাদাম রাখার পরামর্শ দেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং দুর্বল হজমশক্তিও ওজন বৃদ্ধির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। একসঙ্গে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার পরিবর্তে নির্দিষ্ট সময় মেনে পরিমিত খাবার গ্রহণ করা প্রয়োজন। সকালের নাস্তা বাদ দেওয়ার অভ্যাসও দীর্ঘমেয়াদে হজমের সমস্যা তৈরি করতে পারে।

এ ছাড়া শরীরের ডিটক্সিফিকেশন প্রক্রিয়া ব্যাহত হলেও পুষ্টি শোষণে সমস্যা দেখা দিতে পারে। শরীরে অতিরিক্ত টক্সিন জমে গেলে বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়, যার ফলে ওজন বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়ে। এ ক্ষেত্রে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ ফলমূল, শাকসবজি ও বাদামজাতীয় খাবার গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

স্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, দীর্ঘদিন চেষ্টা করেও ওজন না বাড়লে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা উচিত। কারণ, অনেক সময় এর পেছনে অন্তর্নিহিত স্বাস্থ্যগত সমস্যাও দায়ী থাকতে পারে।