কখনো ঝামেলা এড়াতে, কখনো নিজের বাঁচার জন্য টুকটাক মিথ্যা বলেন অনেকেই। কিন্তু কিছু মানুষ আছেন, যারা কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই বারবার মিথ্যা বলেন, গল্প বানান, আর বাস্তব ঘটনাকেও অনেক সময় বাড়িয়ে উপস্থাপন করেন। চিকিৎসা ও মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এই প্রবণতাকে বলা হয় মিথোম্যানিয়া বা প্যাথলজিক্যাল লাইয়িং।
এ ধরনের মানুষদের গল্প অনেক সময় এতটাই আকর্ষণীয় হয় যে শুনলে সত্য-মিথ্যার পার্থক্য ধরা কঠিন হয়ে যায়। কিন্তু সমস্যা হলো, এসব গল্পের বেশিরভাগেরই বাস্তব ভিত্তি থাকে না। এমনকি অনেক সময় তাদের নিজেরই কোনো লাভ হয় না—বরং ধীরে ধীরে সম্পর্ক নষ্ট হয়, বিশ্বাস ভেঙে যায়, আর সমাজে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়।
স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়েবএমডি এক প্রতিবেদনে বলছে, প্যাথলজিক্যাল লাইয়িং একটি দীর্ঘমেয়াদী আচরণগত প্রবণতা, যা অনেক সময় কিশোর বয়স থেকেই শুরু হয়ে বছরের পর বছর চলতে থাকে।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এর পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। কারো ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসের অভাব, কারো ক্ষেত্রে অন্যদের মনোযোগ পাওয়ার প্রবল ইচ্ছা, আবার কারও ক্ষেত্রে শৈশবের চাপ বা মানসিক আঘাত কাজ করে। কিছু ক্ষেত্রে এটি ব্যক্তিত্বজনিত মানসিক সমস্যার সঙ্গেও সম্পর্কিত হতে পারে।
এই অভ্যাসটা ধীরে ধীরে মানুষের জীবনে বড় প্রভাব ফেলে। একসময় পরিবার, বন্ধু ও সহকর্মীদের আস্থা কমে যায়। বারবার মিথ্যা বলার কারণে সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়, আর ব্যক্তি নিজেও মানসিক চাপ ও অস্থিরতার মধ্যে পড়ে যান।
চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, এর কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ নেই। তবে সাইকোথেরাপি, বিশেষ করে কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি, এই আচরণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে কাউন্সেলিং ও পারিবারিক সমর্থনও খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা হলো-এ ধরনের আচরণ দেখা গেলে সেটিকে শুধু “খারাপ অভ্যাস” বলে উড়িয়ে না দিয়ে, মানসিক স্বাস্থ্যের দিক থেকেও দেখা দরকার। সময়মতো সাহায্য পেলে এই প্রবণতা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।