প্রতিটি বাবা-মা এর কাছে তাদের সন্তান খুবই আদরের। তবে, আমাদের সমাজে একটা ধারণা আছে বাবারা কন্যা সন্তানের ক্ষেত্রে যতটা বন্ধুসুলভ বা নমনীয় আচরণ করে ততটা ছেলেদের ক্ষেত্রে দেখায় না। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ছেলেদের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেয় বাবারা।
কন্যা-সন্তানের বাবারা তার কন্যার জীবন, দায়িত্ববোধ এবং চিন্তার জগৎ নিয়ে অনেকটাই ব্যস্ত থাকে। বাবারা মেয়ের জন্য সবকিছু করতে প্রস্তুত থাকেন, অনেক সময় নিজের চাওয়া-পাওয়া পর্যন্ত পিছিয়ে দেন।
অন্যদিকে, একই বাবা তার ছেলে সন্তানের ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে বেশি কঠোর, শৃঙ্খলাপূর্ণ ও নিয়ন্ত্রণমূলক আচরণ করেন। এই পার্থক্য অনেক সময় প্রশ্ন তৈরি করে যে একই বাবা, তাহলে আচরণ আলাদা কেন? এর পেছনে আছে মনস্তত্ত্ব, সামাজিক বাস্তবতা এবং বাস্তব অভিজ্ঞতার সর্ম্পক।
মেয়েদের প্রতি বাবারা নমনীয় কেন?
বাবারা সাধারণত মেয়েদের প্রতি বেশি সংবেদনশীল ও সুরক্ষামূলক হন। এর পেছনে কাজ করে সামাজিক বাস্তবতা ও নিরাপত্তা-চিন্তা এবং দায়িত্ববোধ। আমাদের সমাজে মেয়েদের নিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ এবং সামাজিক অবস্থান নিয়ে উদ্বেগ অনেক বেশি থাকে। তাই বাবারা স্বাভাবিকভাবেই মেয়েদের বেশি আগলে রাখেন।
এর ফলে এই সম্পর্ক অনেক সময় বন্ধুর মতো হয়ে ওঠে। বাবা-মেয়ের সম্পর্ক শুধু কর্তৃত্বের নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে বিশ্বাস ও বন্ধুত্বেরও প্রতীক।
ছেলেদের ক্ষেত্রে কঠোরতার কারণ-
ছেলেদের ক্ষেত্রে বাবার আচরণ তুলনামূলকভাবে কঠোর মনে হয়। এর পেছনে মূল কারণ হলো- সামাজিক প্রত্যাশা এবং প্রতিষ্ঠিত করার মনোভাব। ছেলেকে ভবিষ্যতে পরিবারের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে হবে-এই ধারণা থেকেই এমন চিন্তাভাবনা।
তাই বাবা ছেলেকে ছোটবেলা থেকেই শৃঙ্খলা, সময়নিষ্ঠা, দায়িত্ববোধ ও পরিশ্রমের শিক্ষা দেন। ছেলে যেন নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারে এবং দায়িত্ব নিতে সক্ষম হয় সেভাবে কঠোর উপদেশ দেন।
ফলে বাবা অচেতনভাবেই মেয়ের প্রতি বেশি কোমল ও ছেলের প্রতি বেশি শাসনমূলক হয়ে ওঠেন। তবে এটি ভালোবাসার পার্থক্য নয়, বরং ভালোবাসা প্রকাশের ভিন্ন ধরন।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এই পার্থক্য কখনোই ভালোবাসার পরিমাণের পার্থক্য নয়। বাবা মেয়েকে যেমন স্নেহে আগলে রাখেন, তেমনি ছেলেকে কঠোরতার মাধ্যমে জীবনের জন্য প্রস্তুত করেন।
প্রতিটি শিশুর প্রতি বাবার প্রতিটি সিদ্ধান্তের পেছনে থাকে ভবিষ্যতের চিন্তা। তিনি চান সন্তান নিরাপদ থাকুক, সফল হোক এবং জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে শিখুক। এই লক্ষ্যেই তার আচরণ কখনো নরম, কখনো কঠোর হয়ে ওঠে।
তবে, আধুনিক সময়ে বাবাদের দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন আসছে। এখন অনেক বাবা মেয়েদের শুধু সুরক্ষিত রাখার চেয়ে তাদের স্বাধীনভাবে গড়ে তুলতে চান। একইভাবে ছেলের সঙ্গেও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলছেন। আজকের বাবা বুঝতে শিখছেন, ভালো প্যারেন্টিং মানে শুধু শাসন বা সুরক্ষা নয়, বরং বোঝাপড়া, সময় দেওয়া এবং আবেগের ভারসাম্য তৈরি করা।