ফুটবল ম্যাচ দেখতে বসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষ কে কী খায়?

ফুটবল বিশ্বকাপ বা বড় কোনো আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট এলেই বিশ্বের নানা দেশে শুরু হয় উৎসবের আমেজ। বন্ধু-স্বজনদের নিয়ে বড় পর্দার সামনে জড়ো হওয়া, রাত জেগে খেলা দেখা আর প্রিয় দলের জন্য উচ্ছ্বাস সবকিছুর সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকে খাবারও। একেক দেশের সমর্থকেরা একেক ধরনের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও পানীয় দিয়ে উপভোগ করেন ম্যাচের রোমাঞ্চ।

আর্জেন্টিনা: আসাদো ও মাতে

ফুটবলের দেশ আর্জেন্টিনায় গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ মানেই পরিবার ও বন্ধুদের নিয়ে “আসাদো” বা বারবিকিউ আয়োজন। গ্রিল করা গরুর মাংসের পাশাপাশি জনপ্রিয় “চোরিপান” (সসেজ স্যান্ডউইচ), “এম্পানাদা” এবং বিভিন্ন চিজ, অলিভ ও মাংসের সমাহার ‘”পিকাদা”। পানীয় হিসেবে অনেকেই বেছে নেন ঐতিহ্যবাহী “ইয়েরবা মাতে”।

ব্রাজিল: চুরাস্কো ও ফেইজোয়াদা

ফুটবলপাগল ব্রাজিলে ম্যাচের দিন উৎসবের আবহ তৈরি হয়। “চুরাস্কো” নামে পরিচিত ব্রাজিলিয়ান বারবিকিউ এবং কালো শিম ও মাংস দিয়ে তৈরি ঐতিহ্যবাহী খাবার “ফেইজোয়াদা” সমর্থকদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে থাকে। এছাড়া “পাঁও দে কেইজো” বা চিজ ব্রেডও বেশ জনপ্রিয়।

ইংল্যান্ড: পাই, ফিশ অ্যান্ড চিপস

ইংল্যান্ডে ফুটবল দেখার সঙ্গে “মিট পাই” এর সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। স্টেডিয়াম থেকে শুরু করে ঘরের বসার ঘর সব জায়গাতেই এর জনপ্রিয়তা রয়েছে। পাশাপাশি “ফিশ অ্যান্ড চিপস”ও সমানভাবে সমাদৃত। অনেকেই বিরতির সময় গরম চা বা কফির সঙ্গে এসব খাবার উপভোগ করেন।

জার্মানি: ব্রাটভুর্স্ট ও বিয়ার

জার্মানিতে ফুটবল ম্যাচের অন্যতম পরিচিত খাবার “ব্রাটভুর্স্ট” বা গ্রিল করা সসেজ। স্টেডিয়াম, ফ্যান জোন কিংবা ঘরোয়া আড্ডা সবখানেই এর উপস্থিতি চোখে পড়ে। অনেকের কাছে বিয়ার ও ব্রাটভুর্স্ট ফুটবল দেখার আদর্শ জুটি।

মেক্সিকো: টাকোসের জনপ্রিয়তা

মেক্সিকান সমর্থকদের কাছে ম্যাচের সময় টাকোস যেন অপরিহার্য। আল পাস্তর, কার্নিটাস কিংবা গ্রিল করা মাংসের টাকোস বড় ম্যাচের দিনে বাড়ি ও রেস্তোরাঁয় বিশেষভাবে পরিবেশন করা হয়।

জাপান: বেন্তো ও সুশি

জাপানে ফুটবল দেখার সময় পরিপাটি ও ভাগাভাগি করে খাওয়ার উপযোগী খাবার বেশি জনপ্রিয়। তাই অনেকেই ঘরে তৈরি বেন্তো বক্স কিংবা সুশি নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে খেলা উপভোগ করেন।

দক্ষিণ কোরিয়া: চিকেন ও বিয়ার

দক্ষিণ কোরিয়ায় “চিম্যাক” অর্থাৎ ফ্রাইড চিকেন ও বিয়ারের যুগলবন্দি ফুটবল ম্যাচ দেখার অন্যতম জনপ্রিয় খাবার। বড় ম্যাচের রাতে দেশজুড়ে চিকেনের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়।

যুক্তরাষ্ট্র: উইংস, বার্গার ও নাচোস

যুক্তরাষ্ট্রে ফুটবল বা সকারের জনপ্রিয়তা বাড়ছে দ্রুত। বড় টুর্নামেন্টের সময় অনেকেই পার্টির আয়োজন করেন, যেখানে বার্গার, হটডগ, চিকেন উইংস, নাচোস, চিপস ও বিভিন্ন ধরনের ডিপ থাকে প্রধান আকর্ষণ।

মাল্টা: কফি ও স্যান্ডউইচ

মাল্টার দর্শকেরা তুলনামূলক সহজ আয়োজনেই খেলা উপভোগ করেন। ম্যাচ চলাকালে ক্যাপুচিনো ও স্যান্ডউইচ তাদের জনপ্রিয় পছন্দ।

ইউরোপের কিছু ব্যতিক্রমী খাবার

পূর্ব ইউরোপের কয়েকটি দেশে ফুটবল দেখার সময় সূর্যমুখীর বীজ খাওয়ার সংস্কৃতি বেশ জনপ্রিয়। ডেনমার্কে সসেজ ও রুটির সংমিশ্রণ ম্যাচডে খাবার হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে স্কটল্যান্ডে পাই ও গরম পানীয় “বোভরিল” সমর্থকদের কাছে বিশেষভাবে সমাদৃত।

ফুটবল আর খাবারের অনন্য বন্ধন

ফুটবল বিশ্বকাপ শুধু একটি ক্রীড়া আসর নয়; এটি সংস্কৃতি, বন্ধুত্ব ও খাবারেরও উৎসব। বিশ্বের একেক প্রান্তের সমর্থকেরা নিজেদের ঐতিহ্যবাহী খাবারের মাধ্যমে ফুটবলপ্রেম উদযাপন করেন। কোথাও বারবিকিউ, কোথাও টাকোস, আবার কোথাও গরম পাই বৈচিত্র্যময় এসব স্বাদ ফুটবলকে আরও বেশি করে বিশ্বজনীন করে তোলে। তাই পরেরবার প্রিয় দলের ম্যাচ দেখতে বসলে, সেই দেশের জনপ্রিয় খাবারটিও একবার চেখে দেখতে পারেন।