অফিসে কাজ করছেন, কিন্তু মস্তিষ্কটা ঠিকঠাক কাজ করছে না, ঝিমুনি চলে আসছে.. এরকম সময়ে সবার প্রথমে এক কাপ চা বা কফি খাওয়ার কথা মাথায় আসবে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা, তাদের মতে, এই স্বাভাবিকতার আড়ালে লুকিয়ে রযেছে অস্বাভাবিকতা!
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণ সাময়িকভাবে সতেজ অনুভূতি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে শরীরের ওপর নানা বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।
চা ও কফিতে থাকা ক্যাফেইন একটি স্নায়ু উত্তেজক উপাদান। এটি সাময়িকভাবে ঘুমের অনুভূতি কমালেও অতিরিক্ত গ্রহণ করলে অনিদ্রা, অস্থিরতা এবং স্বাভাবিক ঘুমের ছন্দ নষ্ট হতে পারে। ফলে পর্যাপ্ত ঘুমের অভাবে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, মনোযোগ কমে যাওয়া এবং কর্মক্ষমতা হ্রাসের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, খালি পেটে চা বা কফি পান করলে অনেকের ক্ষেত্রে পাকস্থলীতে অ্যাসিড নিঃসরণ বেড়ে যায়। এতে বুকজ্বালা, গ্যাস্ট্রিক, পেট ফাঁপা ও অস্বস্তির মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে।
নিয়মিত অতিরিক্ত ক্যাফেইন গ্রহণের ফলে চা-কফির প্রতি নির্ভরশীলতাও তৈরি হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে একদিন চা বা কফি না খেলেই মাথাব্যথা, ক্লান্তি কিংবা ঝিমুনিভাব দেখা দিতে পারে। যাদের মাইগ্রেনের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ক্যাফেইন মাথাব্যথা আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
এ ছাড়া অতিরিক্ত ক্যাফেইন হৃদস্পন্দন বাড়াতে পারে এবং কিছু মানুষের ক্ষেত্রে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও সমস্যা তৈরি করতে পারে। যদিও অধিকাংশ সুস্থ মানুষের জন্য পরিমিত পরিমাণে চা বা কফি নিরাপদ, তবুও প্রয়োজনের তুলনায় বেশি ক্যাফেইন গ্রহণ শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
গরমের সময় বিষয়টি আরো গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত ঘামের কারণে শরীরে পানি ও লবণের ঘাটতি তৈরি হলে বেশি চা বা কফি পান করার বদলে পর্যাপ্ত পানি পান করাই ভালো। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, দিনে এক থেকে দুই কাপ চা বা কফি অধিকাংশ মানুষের জন্য যথেষ্ট। তবে রাতে ঘুমানোর কয়েক ঘণ্টা আগে ক্যাফেইনযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চললে ভালো ঘুম নিশ্চিত করা সহজ হয়।