Thursday, July 09, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

উচ্চশিক্ষা

জাপানে উচ্চশিক্ষা: কীভাবে আবেদন করবেন, কোথায় পাবেন স্কলারশিপ?

বিশ্বমানের শিক্ষা, উন্নত গবেষণা সুবিধা, স্কলারশিপ ও খণ্ডকালীন কাজের সুযোগ - সব মিলিয়ে উচ্চশিক্ষার জন্য জাপানের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে শিক্ষার্থীদের। তবে সফলভাবে ভর্তি ও স্টুডেন্ট ভিসা পেতে আবেদন প্রক্রিয়া, ভাষাগত যোগ্যতা এবং প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পর্কে আগে থেকেই জানা জরুরি।

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৫:০৩ পিএম

জাপান এখন শুধু প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনের দেশ নয়, শিক্ষার্থীদের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় উচ্চশিক্ষার গন্তব্য। বিশ্বমানের গবেষণা সুবিধা, আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা, নিরাপদ জীবনযাপন এবং আন্তর্জাতিক স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ের কারণে প্রতিবছর বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে হাজারো শিক্ষার্থী জাপানে পড়তে যাচ্ছেন।

বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ জাপানে উচ্চশিক্ষা মানেই শুধু একটি ডিগ্রি অর্জন নয়। প্রযুক্তিনির্ভর শিল্প, গবেষণা প্রতিষ্ঠান এবং বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সংযোগ থাকায় পড়াশোনার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সুযোগও তৈরি হয়। ফলে উচ্চশিক্ষা শেষে অনেক আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী জাপানেই ক্যারিয়ার গড়ার সুযোগ পান।

কেন জাপানে পড়বেন?

জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দেশটির শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় (MEXT)-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হয়। এখানকার ডিগ্রি আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত এবং গবেষণা অবকাঠামো উন্নত। বিজ্ঞান, প্রকৌশল, চিকিৎসাবিজ্ঞান, তথ্যপ্রযুক্তি, ব্যবসা কিংবা পরিবেশবিজ্ঞান - প্রায় সব ক্ষেত্রেই জাপানের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনাম অর্জন করেছে।

বিশ্বের শীর্ষ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিভিন্ন র‌্যাঙ্কিংয়েও নিয়মিত স্থান পায় University of Tokyo, Kyoto University, Osaka University, Tohoku University, Kyushu University, Nagoya University, Hokkaido University, Waseda University এবং Keio University।

জাপানে বর্তমানে ৮০০টিরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে জাতীয়, পাবলিক এবং বেসরকারি - তিন ধরনের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে আবেদন করবেন, তা ঠিক করার আগে কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। যেমন - বিশ্ব র‌্যাঙ্কিং ও আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি, গবেষণার সুযোগ ও ল্যাব সুবিধা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর অনুপাত, কোর্সের বিষয়বস্তু, স্কলারশিপের সুযোগ, স্নাতকদের কর্মসংস্থানের হার এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান ও জীবনযাত্রার ব্যয়।  

কোন বিষয়ে কোথায় পড়বেন?

বিষয় নির্বাচন শুধু ব্যক্তিগত আগ্রহের ওপর নির্ভর করে না; ভবিষ্যতের কর্মসংস্থানের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা জরুরি। 

প্রকৌশল ও প্রযুক্তি: University of Tokyo, Institute of Science Tokyo, Kyoto University

স্বাস্থ্যসেবা ও চিকিৎসাবিজ্ঞান: Osaka University, University of Tokyo, Kyushu University

তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা: Osaka University, Tohoku University, Ritsumeikan University

জাপানি ভাষা ও সংস্কৃতি: Sophia University, International Christian University (ICU), Kyoto University

ব্যবসা ও অর্থনীতি: Waseda University, Keio University, Hitotsubashi University

পরিবেশবিজ্ঞান: Hokkaido University, Nagoya University, Tohoku University

অ্যানিমেশন ও গেম ডিজাইন: Kyoto Seika University, Tokyo University of the Arts, HAL Tokyo

আবেদন করবেন কখন?

বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে আবেদন প্রক্রিয়া ভিন্ন হলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে বছরে দুটি প্রধান ইনটেক থাকে।

এপ্রিল ইনটেক: সাধারণত আগের বছরের নভেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ করা হয়।

সেপ্টেম্বর বা অক্টোবর ইনটেক: বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মে থেকে জুনের মধ্যে আবেদন করতে হয়।

তবে সময়সূচি বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। তাই আবেদন করার আগে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সর্বশেষ নির্দেশনা দেখে নেওয়া জরুরি।

ভাষাগত যোগ্যতা

জাপানে মূলত জাপানি ও ইংরেজি - এই দুই মাধ্যমে উচ্চশিক্ষার সুযোগ রয়েছে। আবেদনকারীর নির্বাচিত কোর্সের ওপর ভাষাগত যোগ্যতা নির্ভর করে।

জাপানি মাধ্যমে পড়াশোনা: বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশিরভাগ কোর্সে সাধারণত JLPT N2 বা N1 সনদ প্রয়োজন হয়। কারিগরি বা ভোকেশনাল প্রতিষ্ঠানে N3 বা N4 গ্রহণযোগ্য হতে পারে। এছাড়া অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য Examination for Japanese University Admission (EJU)-এর স্কোরও বাধ্যতামূলক। এই পরীক্ষা বছরে দুবার (জুন ও নভেম্বর) অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশে এর কোনো পরীক্ষা কেন্দ্র নেই; তাই পরীক্ষার্থীদের সাধারণত ভারত বা থাইল্যান্ডে গিয়ে অংশ নিতে হয়।

অন্যদিকে, জাপানি ভাষা স্কুলে ভর্তি হতে চাইলে JLPT N5 অথবা অন্তত ১৫০ ঘণ্টার ভাষা শিক্ষার সনদ প্রয়োজন হতে পারে।

ইংরেজি মাধ্যমে পড়াশোনা: জাপানি ভাষা না জানলেও অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি-মাধ্যমের প্রোগ্রামে আবেদন করা যায়। সেক্ষেত্রে সাধারণত IELTS ৬.০-৬.৫ বা TOEFL iBT ৮০-৯০ স্কোর চাওয়া হয়। কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও কোর্সে SAT, ACT, GRE বা GMAT স্কোরও প্রয়োজন হতে পারে।

আবেদনের জন্য যেসব নথি প্রয়োজন

সাধারণত আবেদনকারীদের একাডেমিক ট্রান্সক্রিপ্ট ও সনদ, স্টেটমেন্ট অব পারপাস (SOP), মাস্টার্স বা পিএইচডির ক্ষেত্রে গবেষণা প্রস্তাবনা, দুইটি রেফারেন্স লেটার, প্রয়োজন অনুযায়ী IELTS বা TOEFL স্কোর, পাসপোর্ট এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি জমা দিতে হয়।

কেন গুরুত্বপূর্ণ SOP

অনেক আবেদনকারীর ফলাফল ভালো হলেও দুর্বল SOP-এর কারণে ভর্তি বা স্কলারশিপের সুযোগ হাতছাড়া হয়। কারণ স্টেটমেন্ট অব পারপাসের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় জানতে চায় আবেদনকারীর শিক্ষাগত পটভূমি, গবেষণার আগ্রহ, জাপানে পড়ার কারণ এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা। তাই এটি শুধু আনুষ্ঠানিক কাগজ নয়, বরং আবেদনপত্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

IELTS বা TOEFL কি বাধ্যতামূলক?

অনেক ইংরেজি-মাধ্যমের প্রোগ্রামে IELTS বা TOEFL স্কোর প্রয়োজন হয়। তবে কিছু বিশ্ববিদ্যালয় আবেদনকারীর পূর্ববর্তী প্রতিষ্ঠানের Medium of Instruction (MOI) গ্রহণ করে। অন্যদিকে MEXT স্কলারশিপে ইংরেজি দক্ষতা যাচাই করা হলেও সব ক্ষেত্রে IELTS বা TOEFL বাধ্যতামূলক নয়। আর জাপানি ভাষায় দক্ষতা থাকলে সেটি অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে বিবেচিত হয়।

স্কলারশিপের সুযোগ

জাপানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি - দুই ধরনের বৃত্তির সুযোগ রয়েছে।

সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ হলো MEXT Scholarship। এর আওতায় স্নাতক, স্নাতকোত্তর, পিএইচডি এবং বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে পড়াশোনার সুযোগ রয়েছে। নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা টিউশন ফি মওকুফ, মাসিক ভাতা, বিমানভাড়া এবং অনেক ক্ষেত্রে জাপানি ভাষা শেখার সুযোগ পান। বাংলাদেশে সাধারণত জাপান দূতাবাসের মাধ্যমে প্রতিবছর মে-জুন মাসে এই বৃত্তির আবেদন গ্রহণ করা হয়।

এছাড়া সরকারি কর্মকর্তা ও পেশাজীবীদের জন্য JICA Scholarship এবং সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের জন্য JDS Scholarship রয়েছে।পাশাপাশি JASSO, ADB Japan Scholarship Program, Rotary Yoneyama Scholarship, Honjo Foundation এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বৃত্তিও আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি নিশ্চিত হওয়ার পর যা করণীয়  

‘স্টাডি ইন জাপান’ পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, ভর্তি নিশ্চিত করা থেকে শুরু করে জাপানে আবাসন নিবন্ধন পর্যন্ত ধাপে ধাপে নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। যেমন -

যোগ্যতার সনদ: সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থী বা তার জাপানে অবস্থানরত প্রতিনিধি আঞ্চলিক ইমিগ্রেশন সার্ভিস ব্যুরোর মাধ্যমে যোগ্যতার সনদের আবেদন করতে পারেন। শিক্ষার্থীকে গ্রহণকারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানই এই আবেদনপ্রক্রিয়ায় প্রতিনিধির ভূমিকা পালন করে।

আর্থিক সক্ষমতার প্রমাণ: ‘স্টাডি ইন জাপান’ পোর্টালের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের ব্যাংক সঞ্চয়পত্র, আগের বছরের আয় সনদ এবং অর্থের উৎসসংক্রান্ত নথি জমা দিতে হতে পারে। এসব নথি শিক্ষার্থী নিজে অথবা তার আর্থিক অভিভাবকের নামে হতে পারে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: যোগ্যতার সনদ পাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা নিজ দেশের জাপানি দূতাবাসে ভিসার আবেদন করতে পারবেন। সরকারি নির্দেশনায় যেসব নথি উল্লেখ করা হয়েছে সেগুলো হলো - বৈধ পাসপোর্ট, ভিসা আবেদন ফরম, পাসপোর্ট সাইজের ছবি, যোগ্যতার সনদ, প্রয়োজনে অতিরিক্ত সহায়ক নথি।  

রেসিডেন্স কার্ড: তিন মাসের বেশি সময় জাপানে অবস্থানকারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের একটি রেসিডেন্স কার্ড বা ‘জাইরিউ কার্ড’ দেওয়া হয়। বড় বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশ করলে সাধারণত ইমিগ্রেশন ক্লিয়ারেন্সের সময়ই এই কার্ড দেওয়া হয়। ছোট বিমানবন্দর দিয়ে প্রবেশকারীরা পাসপোর্টে সিল পান এবং পরে স্থানীয় নিবন্ধন সম্পন্ন করার পর কার্ড সংগ্রহ করেন। আবাসিক ঠিকানা নির্ধারণের ১৪ দিনের মধ্যে স্থানীয় পৌর কার্যালয়ে গিয়ে নিবন্ধন করতে হয়। জাপানে অবস্থানের সময় এই কার্ড সঙ্গে রাখা বাধ্যতামূলক।

মাই নাম্বার: জাপানে অবস্থানকারী বিদেশিদের একটি ১২ সংখ্যার সামাজিক নিরাপত্তা ও কর শনাক্তকরণ নম্বর দেওয়া হয়, যা ‘My Number’ নামে পরিচিত। স্থানীয় নিবন্ধনের পর এই নম্বর ইস্যু করা হয়, যা প্রশাসনিক কাজ, ব্যাংকিং সেবা ও খণ্ডকালীন চাকরির নথিপত্রে ব্যবহৃত হয়।

ভর্তি পরীক্ষার জন্য আলাদা নিয়ম

শুধু ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিতে জাপানে যেতে চাইলে শিক্ষার্থীদের Temporary Visitor Visa-এর আবেদন করতে হবে। এক্ষেত্রে যে প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা দেবেন সেখান থেকে ইস্যুকৃত পরীক্ষার ভাউচার দেখাতে হবে। জাতীয়তা ও ভিসার ধরন অনুযায়ী অস্থায়ী দর্শনার্থীরা ১৫, ৩০ অথবা ৯০ দিন পর্যন্ত জাপানে অবস্থান করতে পারেন।

বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দেন, ভিসা বা ভর্তি-সংক্রান্ত বিষয়ে কোনো দালাল বা অননুমোদিত প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি বিশ্ববিদ্যালয়, জাপানের দূতাবাস অথবা সরকারি তথ্যসূত্র অনুসরণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ। 

বিশ্ববিদ্যালয়ভেদে টিউশন ফি

জাপানে জাতীয়, পাবলিক, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট এবং ভাষা স্কুলের ব্যয় এক নয়। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে বার্ষিক টিউশন ফি ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৮০০ ইয়েন। ভর্তি ফি যোগ করলে প্রথম বছরের মোট ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৮ লাখ ২০ হাজার ইয়েন।

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম বছরের গড় ব্যয় প্রায় ৯ লাখ ১০ হাজার ইয়েন। আর বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে (মেডিকেল, ডেন্টাল ও ফার্মেসি বিষয় বাদে) প্রথম বছরের খরচ গড়ে প্রায় ১৩ লাখ ইয়েন হতে পারে। অন্যদিকে, ভাষা স্কুলে বছরে ৬ লাখ ১০ হাজার থেকে ১৯ লাখ ইয়েন এবং ভোকেশনাল বা স্পেশালাইজড ট্রেনিং কলেজে প্রায় ১৩ লাখ ইয়েন পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে।

টিউশন ফির বাইরে আবাসন, খাবার, যাতায়াত ও অন্যান্য খাতে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মাসে গড়ে প্রায় ১ লাখ ৫ হাজার ইয়েন ব্যয় হয় বলে জানিয়েছে JASSO। টোকিওতে খরচ সবচেয়ে বেশি, তবে ওসাকা, নাগোয়া, ফুকুওকা, সেন্দাই ও সাপ্পোরোর মতো শহরে তুলনামূলক কম খরচে থাকা যায়।

টিউশন ও মাসিক ব্যয়ের পাশাপাশি আবেদন ফি, IELTS/TOEFL/EJU পরীক্ষার ফি, নথি অনুবাদ ও সত্যায়ন, বিমানভাড়া এবং জাপানে পৌঁছানোর পর বাসার ডিপোজিট, কী মানি, আসবাবপত্র, স্বাস্থ্যবিমা, বই-ল্যাব ফি, মোবাইল ও ইন্টারনেটসহ কিছু এককালীন ও অতিরিক্ত খরচের জন্যও প্রস্তুতি রাখা উচিত।

পড়াশোনার পাশাপাশি কাজ

জাপানে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা নির্ধারিত অনুমতি নিয়ে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ২৮ ঘণ্টা খণ্ডকালীন কাজ করতে পারেন। সেমিস্টার ব্রেক বা দীর্ঘ ছুটির দিনগুলোতে দিনে ৮ ঘণ্টা হিসেবে সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৪০ ঘণ্টা (পূর্ণ সময়) কাজ করা যায়। এতে ব্যক্তিগত খরচের একটি অংশ বহন করা সহজ হয়, পাশাপাশি জাপানের কর্মসংস্কৃতি সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতাও অর্জন করা যায়।

জাপানে পৌঁছানোর পর ইমিগ্রেশন কাউন্টারেই সাধারণত ‘শিকাকুগাই কাতসুদো কিউকা’ (Shikakugai Katsudo Kyuka) বা পার্ট-টাইম ওয়ার্ক পারমিটের সিল পাসপোর্টের পেছনে দিয়ে দেওয়া হয়। এটি ছাড়া কাজ করা সম্পূর্ণ অবৈধ। আপনার স্টুডেন্ট ভিসার মেয়াদ যতদিন থাকবে, এই কাজের অনুমতির মেয়াদও ঠিক ততদিনই কার্যকর থাকবে।  

   

About

Popular Links

x