অনেকেই নিজের অজান্তেই কলম ঘোরানো বা আঙুল নাড়াচাড়া করা, অথবা হাতে থাকা কোনো জিনিস নিয়ে খেলে থাকেন। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন অ্যাংজাইটি দূর করতে নাকি দারুণ কাজ করে এই থেরাপি।
একইভাবে স্পিনার রিং বা স্পিনিং ব্যান্ড ফ্যাশন অ্যাকসেসরি হিসেবে জনপ্রিয় হলেও ঘোরানোর সুবিধার জন্য এসব গয়নাও নাকি মানসিকভাবে শান্ত থাকতে বেশ ভালোই কার্যকরী। আর এ কারণেই তরুণ প্রজন্মের কাছে ‘অ্যান্টি-অ্যাংজাইটি জুয়েলারি’ হিসেবে দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে গয়নাগুলো।
দেখতে যেমন অ্যান্টি-অ্যাংজাইটি জুয়েলারি
স্পিনার রিং বা স্পিনিং ব্যান্ড বা ব্রিদিং পেন্ডেন্ট এগুলোকেই অ্যান্টি অ্যাংজাইটি জুয়েলারি বলা হচ্ছে। স্পিনার রিং বা স্পিনিং ব্যান্ড মূলত এক ধরনের আংটি, যার বাইরের অংশ সহজে ঘোরানো যায়। উদ্বেগ বা অস্থিরতা অনুভব করলে আঙুল দিয়ে এটি ঘোরানো যায়, যা অনেকের ক্ষেত্রে সাময়িকভাবে মনোযোগ অন্যদিকে নিতে সাহায্য করে।
ব্রিদিং পেন্ডেন্ট সরু ধাতব পাইপের মতো দেখতে একটি লকেট। এর ভেতর দিয়ে ধীরে ধীরে শ্বাস ছাড়ার অনুশীলন করা হয়, যা নিয়ন্ত্রিত শ্বাস-প্রশ্বাসে সহায়ক হতে পারে।
অ্যারোমাথেরাপি ব্রেসলেট লাভা স্টোন বা ছিদ্রযুক্ত বিশেষ পাথর দিয়ে তৈরি এই ব্রেসলেটে এসেনশিয়াল অয়েল ব্যবহার করা যায়। সুগন্ধ অনেকের কাছে আরামদায়ক অনুভূতি তৈরি করতে পারে, যা মানসিকভাবে কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।
এই ধারণা কোথা থেকে এলো?
এ ধরনের নড়াচড়া করা গয়নার ধারণা নতুন নয়।
কয়েক দশক আগে তৈরি “কাইনেটিক জুয়েলারি” মূলত শিল্পসৌন্দর্য ও যান্ত্রিক নকশার প্রদর্শনের জন্য তৈরি হয়েছিল। বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি জার্মান স্বর্ণশিল্পী ও অ্যারোনটিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার ফ্রিডরিখ বেকার ঘূর্ণনশীল ও আবর্তনশীল অংশযুক্ত গয়না তৈরি করেন। বর্তমানে সেই নকশাই নতুনভাবে ‘ওয়েলনেস’ বা মানসিক স্বস্তির পণ্য হিসেবে বাজারজাত হচ্ছে।
সত্যিই কি উদ্বেগ কমায়?
এ নিয়ে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনো সীমিত। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এসব গয়না হাতে নাড়াচাড়া করা বা নিয়ন্ত্রিত শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন সাময়িকভাবে স্বস্তি দিতে পারে। তবে এগুলো উদ্বেগজনিত রোগ বা অন্য কোনো মানসিক সমস্যার চিকিৎসার বিকল্প নয়। দীর্ঘদিন ধরে উদ্বেগ, অস্থিরতা বা মানসিক চাপ থাকলে অবশ্যই একজন মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।