প্রিয়জনের সঙ্গে মেকআপ শেয়ার করছেন? অজান্তেই বাড়ছে সংক্রমণের ঝুঁকি

হয়তো দুই বোন বা বন্ধু একই মেকআপ কিট ব্যবহার করছেন। সাজার সময়ে কাজল, লিপস্টিক বা মাস্কারা ভাগ করে নিচ্ছেন। একই লিপস্টিক বা লিপবাম দু’জন অথবা তিন জন ঠোঁটে ঘষছেন। মেকআপ ব্রাশও একাধিক জন ব্যবহার করছেন, এমনও দেখা গিয়েছে। হয়তো আপনার মনে হতে পারে, আপনজনদের সঙ্গে মেকআপ ভাগ করে নিলে কী আর এমন হবে! এতে ভালবাসা বাড়লেও শরীরের কিন্তু ক্ষতি হবে। চিকিৎসকরা বলছেন, এই অভ্যাস একেবারেই স্বাস্থ্যকর নয়, বরং মেকআপ অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নিলে দুরারোগ্য রোগ হওয়ার আশঙ্কা থেকে যায়।

কোন প্রসাধনীগুলি অন্যের সঙ্গে ভাগ করলে বিপদ বাড়বে জেনে নিন –

মেকআপ ব্রাশ 

মেয়েরা মেকআপ করার সময়ে কিছু ভুল করে। যেমন -  মেকআপ ব্রাশগুলো ব্যবহারের পর পরিষ্কার করেন না অনেকেই। এগুলোতে আগের দিনের ব্লাশ, গ্লিটার বা পাউডার লেগে থাকে। পরের দিন আবার সেগুলোই ব্যবহার করেন। ফলে ব্রাশে লেগে থাকা ত্বকের মৃতকোষ বা জীবাণু, যিনি ব্যবহার করছেন তার শরীরে ঢুকে যায়। এর থেকে ত্বকে র‌্যাশ, চুলকানি, প্রদাহ হতে পারে। আবার যদি কারো একজ়িমা বা সোরিয়াসিস থাকে আর তার ব্যবহার করা ব্রাশ বা বিউটি  ব্লেন্ডার আপনি ভাগ করে নেন, তাহলে ত্বকের জটিল রোগ হতে বাধ্য।

চোখের মেকআপ

আইলাইনার, কাজল বা মাস্কারা কখনো অন্যের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া ঠিক নয়। এর থেকে কনজাংটিভাইটিস ছড়াতে পারে। একই কাজল বা আইলাইনার যদি একাধিক জন ব্যবহার করেন, তাহলে চোখে সংক্রমণ হতে পারে। চোখ ফুলে ওঠা, অনবরত জল পড়া, চোখের মণির চারপাশে লাল দাগ দেখা যেতে পারে।

লিপস্টিক

ঠোঁটের ত্বক খুবই সংবেদনশীল। মনে রাখবেন, লিপস্টিক বা লিপবাম কিন্তু আমাদের লালাতেও মিশে যায়। তাই একই লিপস্টিক বা লিপবাম যদি একাধিক জন ব্যবহার করতে থাকেন, তা হলে ত্বকের সংক্রমণ কেবল নয়, অন্যের শরীরে থাকা রোগজীবাণু আপনার শরীরেও বাসা বাঁধতে পারে। আর থুতু বা লালার মাধ্যমেই কিন্তু সংক্রামক ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। সেক্ষেত্রে মুখ, গলা ও শ্বাসযন্ত্রের রোগ হওয়াও অস্বাভাবিক নয়।

মেকআপ টেস্টার

শপিং মল বা কসমেটিকসের দোকানে রাখা টেস্টার পণ্যও পুরোপুরি নিরাপদ নয়। একই টেস্টার বহু মানুষ ব্যবহার করায় সেখানে বিভিন্ন জীবাণু জমা হতে পারে। তাই সম্ভব হলে টেস্টার সরাসরি ঠোঁট বা চোখে ব্যবহার না করে ডিসপোজেবল অ্যাপ্লিকেটর ব্যবহার করা ভালো।

মেকআপে যদি রাসায়নিক রঞ্জক বেশি মাত্রায় থাকে, তবে তাতে জীবাণু মিশতে পারে। এই ধরনের মেকআপ ত্বকে বেশিক্ষণ থাকলে র‌্যাশ, ব্রণ বার হয়। ত্বক তার স্থিতিস্থাপকতা হারায়, বয়সের ছাপ পড়ে যায়। সবচেয়ে আগে ভাঁজ পড়ে চোখের চারপাশে। যে মেকআপ বোতলে বা কাচের জারে রয়েছে, তা-ও অন্যের সঙ্গে ভাগ করা ঠিক নয়। কারণ সেক্ষেত্রেও জীবাণু সংক্রমণ হতে পারে।

আপনার ত্বকের ধরনে কোন কোন প্রসাধনী উপযুক্ত, সে বিষয়ে ধারণা থাকাও দরকার। তৈলাক্ত, শুষ্ক ও মিশ্র ত্বকের প্রসাধন সামগ্রী এক হবে না। অ্যালার্জির প্রবণতা থাকলেও সংবেদনশীল ত্বকের উপযুক্ত সামগ্রী কিনতে হবে। তাই অন্যের মেকআপ ব্যবহার করলে তা আপনার ত্বকের ক্ষতিই ডেকে আনবে তাতে কোনও সন্দেহই নেই।

কীভাবে নিরাপদ থাকবেন?

  • নিজের মেকআপ পণ্য অন্য কাউকে ব্যবহার করতে দেবেন না।
  • অন্যের লিপস্টিক, মাসকারা বা আইলাইনার ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।
  • মেকআপ করার আগে ও পরে হাত পরিষ্কার রাখুন।
  • প্রসাধনীর ঢাকনা ব্যবহারের পরপরই বন্ধ করুন।
  • চোখে বা ঠোঁটে সংক্রমণ থাকলে সেই সময় মেকআপ ব্যবহার না করাই ভালো।
  • মেকআপ ব্রাশ সপ্তাহে অন্তত একবার পরিষ্কার করুন।
  • স্পঞ্জ নিয়মিত ধুয়ে শুকিয়ে ব্যবহার করুন এবং কয়েক মাস পরপর বদলে ফেলুন।
  • মেয়াদোত্তীর্ণ প্রসাধনী ব্যবহার করবেন না।

সৌন্দর্যের আগে স্বাস্থ্য  

মেকআপ আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে, তবে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে ব্যবহার করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। একই মেকআপ কিট ভাগাভাগি করার অভ্যাস সুবিধাজনক মনে হলেও, এর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়তে পারে এমন সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি। তাই নিজের মেকআপ নিজের কাছেই রাখুন - এটাই সুস্থ ত্বক ও নিরাপদ সৌন্দর্যচর্চার সবচেয়ে সহজ উপায়।