কয়েক স্তরের ভারী ফাউন্ডেশন দিয়ে মুখের স্বাভাবিক ত্বক ঢেকে ফেলার দিন এখন অতীত। ম্যাট ফিনিশের কৃত্রিমতা ছেড়ে সৌন্দর্যচর্চার দুনিয়ায় এখন জোর দেওয়া হচ্ছে ত্বকের মূল সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তোলার ওপর। ত্বককে প্রাকৃতিকভাবে কতটা সতেজ, প্রাণবন্ত ও উজ্জ্বল রাখা যায় - সেটিই এখন আধুনিক মেকআপের প্রধান লক্ষ্য। এই ভাবনা থেকেই বিশ্বজুড়ে আলোড়ন তুলেছে ‘হাইব্রিড মেকআপ’ ও ‘পুলসাইড স্কিন’-এর ধারণা।
‘হাইব্রিড মেকআপ’
সহজ কথায়, ‘হাইব্রিড মেইকআপ’ হল, ত্বকের যত্ন এবং প্রসাধানীর জাদুকরী সংমিশ্রণ। এর মাধ্যমে তৈরি হওয়া রূপটি দেখে মনে হবে, এই মাত্র কেউ গোসল করে সতেজ হয়ে উঠে এসেছেন, সেটিকে রূপচর্চার পরিভাষায় বলা হচ্ছে ‘পুলসাইড স্কিন’।
সেলিব্রিটি মেইকআপ আর্টিস্ট এবং বিউটি কনসালট্যান্ট মারিও দেদিভানোভিচ, একই প্রতিবেদনে বলেন, “হাইব্রিড মেকআপের সুবিধা হলো, এর ভেতরেই নিয়াসিনামাইড, হায়ালুরোনিক অ্যাসিড, ভিটামিন-সি এবং এসপিএফ-এর মতো শক্তিশালী ত্বক পরিচর্যার উপাদান মেশানো থাকে। ফলে আলাদা করে সেরাম বা ময়েশ্চারাইজার লাগানোর ঝামেলা থাকে না।”
নিউইয়র্কের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালের চর্মরোগবিদ্যার সহকারী ক্লিনিক্যাল অধ্যাপক এবং চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জেনিস কুইন ফ্যাশন ম্যাগাজিন ‘ভগ’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “গ্রাহকেরা এখন এমন পণ্য চান, যা শুধু মুখের খুঁত ঢাকবে না, বরং ভেতরে থেকেও ত্বকের চিকিৎসা করবে। হাইব্রিড কসমেটিকস এই চাহিদাই পূরণ করছে।”
ডা. জেনিসের পরামর্শ-সহ অন্যান্য মেকআপ শিল্পীদের দেওয়া তথ্যানুসারে, নতুন ধারারটি মূল বৈশিষ্ট্য এবং ঘরে বসে এই ‘লুক’ বা সাজ পাওয়ার সহজ উপায়গুলো নিচে দেওয়া হল।
‘পুলসাইড স্কিন’ পাওয়ার মূল কৌশল
বিষয়টি বেশ সহজ হলেও কিছু কৌশল মেনে চললে ঘরে বসেই এই আকর্ষণীয় লুক পাওয়া সম্ভব:
পাউডার ছেড়ে ক্রিম ও লিকুইডজাতীয় দ্রব্য: ‘পুলসাইড স্কিন’ বা প্রাকৃতিকভাবে ভেজা ও সতেজ লুক পাওয়ার জন্য পাউডার ধরনের মেকআপ পুরোপুরি বর্জন করা উপকারী। এর বদলে তরল বা ক্রিম ব্লাশ, ক্রিম ব্রোঞ্জার এবং হাইলাইটার ব্যবহার করা উচিত। এগুলো ত্বকের সঙ্গে খুব সুন্দরভাবে মিশে গিয়ে এক ধরনের প্রাকৃতিক তরল উজ্জ্বলতা এনে দেয়, যা দেখতে মোটেও কৃত্রিম মনে হয় না।
কনসিলারের পরিমিত ব্যবহার: পুরো মুখে ফাউন্ডেশন না দিয়ে কেবল চোখের নিচে বা ছোটখাটো দাগ ঢাকতে সামান্য কনসিলার ব্যবহার করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। এতে ত্বক সহজে শ্বাস নিতে পারে এবং দেখতে একদম প্রাকৃতিক লাগে।
গ্লসি ঠোঁট ও হাইড্রেটিং মিস্ট: ম্যাট লিপস্টিকের বদলে বর্তমানে জায়গা করে নিয়েছে ‘টিন্টেড লিপ অয়েল’ বা ‘লিপ গ্লস’। মেকআপ ধরে রাখতে সেটিং স্প্রের জায়গায় ‘ডিউই হাইড্রেটিং মিস্ট’ ব্যবহার করলে দিনভর সেই সতেজ ও ভেজা ভাব বজায় থাকে। যা ‘পুলসাইড স্কিন’-এর ভেজা ভাবটিকে দীর্ঘক্ষণ ধরে রাখে।
বিশেষ সতর্কতা
ডা. জেনিস কুইনের মতে, হাইব্রিড মেকআপে ত্বকের উপকারী উপাদান থাকলেও দিনশেষে তা মেকআপেরই অংশ। তাই দিনশেষে বা রাতে ঘুমানোর আগে ‘ডাবল ক্লিনজিং’ পদ্ধতিতে মুখ পরিষ্কার না করলে লোমকূপ বন্ধ হয়ে ব্রণ বা ব্ল্যাকহেডসের সমস্যা হতে পারে।



