হজমশক্তি বাড়াতে সহায়ক খাদ্যআঁশ পুঁই শাক

শাক-পাতা খাওয়ার বিষয়ে নানা ধরনের সতর্কতা প্রচলিত রয়েছে। বৃষ্টি-বাদলের অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে এ সময়ে শাকে ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও পরজীবীর সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকে। 

পুষ্টিবিদদের মতে, যথাযথভাবে পরিষ্কার করে রান্না করলে পুঁই শাক বর্ষাকালেও নিরাপদে খাওয়া যায়। সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ হওয়ায় বর্ষার খাদ্যতালিকায় এটি রাখা যেতে পারে। আর হজমশক্তি বাড়াতে অন্যতম সহায়ক খাদ্যআঁশ হচ্ছে পুঁই শাক। 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পুঁই শাকে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার, ভিটামিন এ, বি ও সি। পাশাপাশি এতে আছে ক্যালসিয়াম, আয়রন, ফলিক অ্যাসিড, পটাশিয়াম ও জিঙ্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান। তাই এটি শুধু সুস্বাদুই নয়, শরীরের জন্যও অত্যন্ত উপকারী। 

পুঁই শাকের অন্যতম একটি বড় গুণ হলো এতে থাকা প্রচুর খাদ্যআঁশ। এই ফাইবার হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা কমায়। এমনকি পুঁই শাকের বীজও প্রাকৃতিকভাবে অন্ত্রের কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক বলে মনে করা হয়। 

এছাড়াও পুঁই শাকে থাকা ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন কে হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিনকে হাড়ের মেট্রিক্স প্রোটিন সক্রিয় করে এবং শরীরে ক্যালসিয়াম ধরে রাখতে সাহায্য করে। 

একই সঙ্গে প্রস্রাবের মাধ্যমে অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম বের হয়ে যাওয়ার প্রবণতাও কমায়। ফলে নিয়মিত পুঁই শাক খেলে অস্টিওপোরোসিসের ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে।

মানসিক স্বাস্থ্যের জন্যও এক ধরনের ওষুধ এই শাক। এতে থাকা ফোলেট মস্তিষ্কের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সাহায্য করে। নিয়মিত পুঁই শাক খেলে ক্লান্তি ও অবসাদ কিছুটা কমতে পারে এবং মানসিক সতেজতা বজায় রাখতে সহায়তা করে।