ক্লাস এইটে পড়ার সময় ভাইয়া বইমেলা থেকে “ফুড কনফারেন্স” কিনে দেয়। বাংলার রাজনীতির ভাগ্য নিয়ন্ত্রকদের নিয়ে বিদ্রুপ আর বিদ্রুপ। পড়তে পড়তে হাসি আটকে রাখা কঠিন। এরপর পড়েছি “গালিভারের সফরনামা” আর “আয়না”। এগুলোতেও স্যাটায়ার। নিজের সময় আর চারপাশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের মুখোশ উন্মোচনকারী এই মহান লেখক আবুল মনসুর আহমদ। তিনি নিজে রাজনীতিতে সক্রিয়। আবার রাজনীতির পাল্টি মারা স্বভাব নিয়ে লিখে গেছেন অবিরাম।
ছাত্র রাজনীতি করার সময় আমাদের বন্ধু সরদার জার্জিস আলম এই লেখকের “শিক্ষা সংস্কার” নিয়ে একটা নাটক লিখে ফেলে। ও এর মঞ্চায়নও করে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে। শিক্ষানীতি নিয়ে এখনও তালগোলে বাংলাদেশ রাষ্ট্র। চাপিয়ে দেয়া ধর্মান্ধতার বিরুদ্ধে তার সৃষ্টি অনন্য। তাই আবুল মনসুর আহমদ এখনও অনেক বিষয়ে প্রাসঙ্গিক। অনেকে মনে করেন তার সেরা কাজ “আমার দেখা রাজনীতির পঞ্চাশ বছর”।
১৮৯৮ সালের ৩ সেপ্টেম্বর আবুল মনসুর আহমদ ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার ধানিখোলা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আইন নিয়ে পড়েছেন কলকাতার রিপন কলেজে। প্রায় ৯ বছর আইন পেশায় নিয়োজিত ছিলেন ময়মনসিংহে। এরপর কলকাতায় পেশাদার সাংবাদিক হিসাবে কাজ করেন। সক্রিয় ছিলেন ইত্তেহাদ, সুলতান, মোহাম্মদী পত্রিকায়। ১৯৪৬ সালে ইত্তেহাদ-এর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেন। নবযুগ পত্রিকায়ও কাজ করেছেন। ইত্তেহাদ-এর সম্পাদক হিসেবে তিনি ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। সাহিত্যিক আবুল মনসুর আহমদ মুসলিম সমাজে বিরাজমান গোঁড়ামি, ধর্মান্ধতা, ভণ্ডামিসহ নানা কুসংস্কার নিয়ে স্যাটায়ার করেছেন তার তীক্ষ্ণ দৃষ্টি দিয়ে।
আবুল মনসুর আহমদের সন্তানরাও বাবারও মতো কীর্তিমান হয়েছেন আমাদের জনপদে। উল্লেখ করা যায় তার পুত্র মাহবুব আনাম, মাতলুব আনাম, মঞ্জুর আনাম ও মাহফুজ আনামের নাম।
১৯৭৯ সালে আজকের দিন ১৮ মার্চ প্রয়াত হন এই মহান। অনন্ত শ্রদ্ধা আবুল মনসুর আহমেদ!
সমাজ রাষ্ট্রের ক্রীড়ানকদের চিনতে আপনার কাছে ফিরতেই হবে। অনন্তলোকে সুখে থাকুন।