বিপ্লব বেহাত হয়। বিপ্লবী জবাবদিহির সংস্কৃতিহীনতায় হয়ে ওঠেন একনায়ক স্বৈরাচার। তখন নিপীড়িত জনতার রাজপথ ছাড়া গন্তব্য কী? আর তা দমনে নির্মমতার কিছু বাদ রাখেনা শাসকরা।
ইতিহাসে আলোচিত চীনের তিয়েনআনমেন গণহত্যার বিষাদে ঢাকা একটি দিন আজকের ৪ জুন। ১৯৮৯ সালের এ দিন চীনের শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিক্ষোভরতদের নৃশংসভাবে দমন করা হয়। চীন সরকারের ভাষ্যে, বেসামরিক ব্যক্তি এবং নিরাপত্তা কর্মী মিলিয়ে এ দিন ২০০ জন নিহত হয়। তবে অনেকের ধারণা, তিয়েনআনমেন গণহত্যায় কয়েক হাজার মানুষ নিহত হন। ২০১৭ সালে এ নিয়ে ব্রিটিশ কূটনৈতিক বার্তা প্রকাশ হয়। তাতে জানা যায়, সে সময় চীনে থাকা ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত অ্যালান ডোনাল্ড বার্তা পাঠিয়েছিলেন যে, সেখানে প্রায় ১০ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।
গণবিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটে ১৯৮৯ সালের এপ্রিল থেকে। তখন চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সঙ্গে জনগণের দূরত্ব চরমে। সরকারের দুর্নীতি বন্ধ ও গণতন্ত্রের দাবিতে বেইজিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ছিলেন এ প্রতিবাদের অগ্রভাগে। তারা ঐতিহাসিক তিয়েনআনমেন স্কয়ারে অনশন শুরু করেন। ছাত্রদের সঙ্গে শ্রমিকরাও আন্দোলনে যোগ দেন। ৩ জুন মধ্যরাতে বিক্ষোভ দমনে সেনা সদস্য ও ট্যাংক নামায় চীন সরকার। ৪ জুন মধ্যরাতে তারা সব দিক থেকে ঘিরে ফেলে তিয়েনআনমেন স্কয়ার। বেয়নেটধারী অস্ত্র দিয়ে গুলিবর্ষণ শুরু হয়। স্কয়ারের বাইরে সেনাদের নির্বিচার গুলিতে মুহূর্তেই প্রাণ যায় হাজারো ছাত্র-শ্রমিকের।
তিয়েনআনমেন বিক্ষোভের একটি ছবি বিংশ শতকের সবচেয়ে আলোচিত ছবির একটি হয়ে আছে। এতে দেখা যায়, সেনা ট্যাংক বহরের সামনে একা দাঁড়িয়ে আছেন একজন প্রতিবাদী।
এমন গণহত্যার পরও চীন সরকার এ নিয়ে ভাবিত হয়নি। দিনে দিনে সে রাষ্ট্র কর্তৃত্ববাদী হয়ে এখন দানবে রূপ নিয়েছে। গণতন্ত্রের দাবিরত মানুষ ও মানবাধিকারকর্মীদের মতে, তিয়েনআনমেনে গণহত্যা সারা বিশ্বে চীনের প্রতি মানুষের তীব্র ঘৃণাবোধ জন্ম দেয়।
তবে ট্যাংকের প্রতিপক্ষ যখন মানুষ হয়, তখন প্রতিপক্ষে মানুষের শক্তিরই জয় প্রমাণিত হয়। ইতিহাসের বহু পর্বের মতো তিয়েনআনমেন থেকেও এ শিক্ষা মেলে।