Tuesday, June 16, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বৃষ্টি এলেই কেনো খিচুড়ি খেতে মন চায়?

বৃষ্টিতে খিচুড়ির আকর্ষণের পেছনে রয়েছে ইতিহাস,সংস্কৃতি ও কিছু বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার মিশেল

আপডেট : ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ০২:২৫ পিএম

বৃষ্টি মানেই কারও কাছে ইলিশ-খিচুড়ির জমজমাট আয়োজন, কারও কাছে আবার আয়েশ করে ঘুমানোর আদর্শ সময়। কিন্তু বৃষ্টি নামলেই খিচুড়ির কথা মনে পড়া যেন প্রায় সর্বজনীন এক অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।

সাধারণ এক পদ হলেও খিচুড়ি বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতিতে বিশেষ জায়গা দখল করে আছে। বৃষ্টির দিনে এই খাবারের প্রতি আকর্ষণ যেন আরও বেড়ে যায়। ইতিহাস ও লোককথা অনুযায়ী, খিচুড়ির সঙ্গে বৃষ্টির সম্পর্ক বহু পুরনো। বলা হয়, একসময় বাউল ও ভ্রমণশীল গায়করা গ্রামে গ্রামে গান করে চাল-ডাল দক্ষিণা হিসেবে পেতেন। সেই উপকরণ একসঙ্গে রান্না করেই তৈরি হতো সহজ, ঝামেলাহীন খিচুড়ি।

লোকজ ব্যাখ্যা অনুযায়ী, পুরনো দিনে গ্রামাঞ্চলে রান্নাঘর অনেক সময় ঘরের বাইরে থাকত। ফলে বৃষ্টির দিনে আলাদা আলাদা রান্না করা কঠিন হয়ে যেত। তখন দ্রুত ও সহজ সমাধান হিসেবে চাল-ডাল-সবজি একসঙ্গে রান্না করে খিচুড়ি তৈরি করা হতো। এভাবেই বৃষ্টির সঙ্গে এই খাবারের নিবিড় সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

অনেকে আবার এর পেছনে স্বাস্থ্যগত ব্যাখ্যাও দেন। খিচুড়ি তুলনামূলকভাবে হালকা হলেও এতে চাল, ডাল ও নানা সবজি একসঙ্গে থাকে বলে এটি শক্তপোক্ত বা “গুরুপাক” ধাঁচের খাবার হিসেবে ধরা হয়। বৃষ্টির ঠান্ডা আবহাওয়ায় শরীরকে উষ্ণ রাখতে এবং সহজে হজমযোগ্য পুষ্টি পেতে এই খাবার উপযুক্ত বলে মনে করা হয়। বিশেষ করে মৌসুমি অসুস্থতা বা গলা-ঠান্ডার সমস্যায় গরম খিচুড়ি অনেকের কাছেই আরামদায়ক খাবার হিসেবে বিবেচিত।

সব মিলিয়ে, বৃষ্টির দিনের সঙ্গে খিচুড়ির এই নিবিড় সম্পর্ক শুধুই খাদ্যাভ্যাস নয় এটি স্মৃতি, সংস্কৃতি ও আরামের এক মিশ্র অনুভূতি, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে একইভাবে টিকে আছে।

 

   

About

Popular Links

x