বজ্রপাত থেকে নিরাপদ থাকবেন যেভাবে

দেশে বজ্রপাতে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে চলেছে। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি বজ্রপাতে মৃত্যুর শিকার হচ্ছেন কৃষকরা। যারা ওই ঘটনার সময় খোলা জায়গায় কাজ করছিলেন।

রবিবার (২৩ এপ্রিল) সুনামগঞ্জের বিভিন্ন হাওরে ধান কাটতে গিয়ে তিন উপজেলায় ছয় কৃষকের মৃত্যু হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বজ্রপাত ও তাপমাত্রার মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। এপ্রিল-জুলাই থেকে তাপমাত্রা আর্দ্র ও উষ্ণ থাকে, যার ফলে এই ধরনের ঘটনা বেড়ে যায়। এরমধ্যে সবচেয়ে বেশি বজ্রপাত হয় বিকেলের দিকে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, কিছু পরামর্শ মেনে চললে মানুষ বজ্রপাত থেকে নিরাপদ থাকতে পারে।

এ লেখায় দেওয়া হলো কয়েকটি উপায়, যা বজ্রপাত থেকে বাঁচতে সহায়ক হবে।

১. কাছের কংক্রিটের ঘরের নিচে আশ্রয় নিন। ঘন ঘন বজ্রপাত হলে কোনো খোলা জায়গায় বা উঁচু জায়গায় থাকবেন না।

২. গাছ ও বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে দূরে থাকুন। কারণ উঁচু গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটিতে বজ্রপাতের প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। যাত্রীবাহী শেডগুলোও অনিরাপদ।

৩. বজ্রপাত হলে বাড়িতে জানালার কাছে থাকবেন না। জানালা বন্ধ রাখুন ও ঘরের মধ্যে থাকুন।

৪. ধাতব বস্তু এড়িয়ে চলুন। বজ্রপাতের সময় ধাতব, সিঁড়ির রেলিং, ধাতব পাইপ ইত্যাদি স্পর্শ করবেন না। এমনকি ল্যান্ডলাইন টেলিফোন স্পর্শ করবেন না; অনেক মানুষ এভাবে আহত হয়।

৫. টিভি, ফ্রিজসহ সকল সংযুক্ত বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি স্পর্শ করা এড়িয়ে চলুন। টিভি, রেফ্রিজারেটর ইত্যাদি স্পর্শ করবেন না। বজ্রপাত শুরু হলে, বৈদ্যুতিক লাইন থেকে সমস্ত প্লাগ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করুন।

৬. বজ্রপাতের সময় গাড়িতে থাকলে যত দ্রুত সম্ভব বাড়ি ফেরার চেষ্টা করুন। প্রচণ্ড বজ্রপাত ও বৃষ্টি হলে গাড়িটি যে কোনো শেডের নিচে নিয়ে যান। সেই সময়ে জানালার কাঁচ স্পর্শ করা বিপজ্জনক হতে পারে।

৭. বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা খুবই সাধারণ ব্যাপার ও আটকে থাকা পানি বিচ্ছিন্ন বৈদ্যুতিক লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুতায়িত হতে পারে। তাই বজ্রপাতের সময় ঘরে থাকাই ভালো।

৮. বজ্রপাতের সময় খালি পায়ে হাঁটা বা ভেজা চামড়ার জুতা ব্যবহার করা খুবই বিপজ্জনক। রাবার বুট জুতা সবচেয়ে নিরাপদ জিনিস হবে।

৯. বজ্রপাতের সময় রাস্তায় সতর্ক থাকুন। যেসব স্থানে বজ্রপাতের প্রবণতা বেশি সেসব স্থান এড়িয়ে চলুন। কেউ আহত হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন।