দিন দশেক আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ছবি ভাইরাল হয়, যেখানে দেখা যাচ্ছিল, মরদেহ চুরির ভয়ে এক বাবা তার সন্তানের কবরের সামনে রাতজেগে পাহারা দিচ্ছেন, কারণ তার সন্তানের মৃত্যু বজ্রপাতে হয়েছে। একদিকে যেমন বজ্রপাতে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে, একইভাবে মরদেহ চুরি হওয়ার এই প্রবণতা বেড়ে চলেছে প্রতি মুহূর্তেই।
বজ্রপাতে মারা যাওয়া ব্যক্তির মরদেহ নাকি চুম্বক হয়ে যায়, এই ধারণা থেকেই বজ্রপাত বা বজ্রাঘাতে যারা মারা যায় তাদের মরদেহ চুরির আশঙ্কাও বেড়ে যায়।
তবে প্রকৃত সত্যি হচ্ছে, না বজ্রপাতে মারা যাওয়া ব্যক্তির মরদেহ চুম্বক হয় না। কারণ, পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র অনুযায়ী যেকোনো ধাতুকে স্থায়ী চুম্বকে পরিণত করতে দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ তড়িৎ-চৌম্বকীয় ক্ষেত্রে রাখতে হয়। যেহেতু বজ্রপাতের সময়কাল মাত্র ১০ থেকে ৫০ মাইক্রোসেকেন্ড স্থায়ী হয়, এতো অল্প সময়ে কোনো বস্তুর পক্ষে চুম্বক হওয়া সম্ভব না। লোহা বা নিকেলের মতো নির্দিষ্ট কিছু পদার্থই চুম্বকে রূপান্তরিত হতে পারে। যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ফেরোম্যাগনেটিক পদার্থ বলা হয়।
মানুষের শরীর মূলত কার্বন, হাইড্রোজেন, অক্সিজেন এবং নাইট্রোজেন দিয়ে তৈরি। মানবদেহের রক্তে হিমোগ্লোবিনের মধ্যে আয়রন বা লোহা থাকে। রক্তের এই লোহা আয়ন আকারে থাকে। আয়ন আকারের লোহা স্থায়ী চৌম্বক ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে না। চৌম্বকত্বের আরেকটি বড় শত্রু হলো তাপ।
আবহাওয়া–সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠান আর্থ নেটওয়ার্কের মতে, বজ্রপাতের প্রচণ্ড তাপ ও বিদ্যুৎ প্রবাহের গতি এতই বেশি যে তাতে কোনো ধাতুর চুম্বক হওয়ার সুযোগ নেই; বরং তা বস্তুর চৌম্বক ক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। বজ্রপাতের সময় উৎপন্ন হওয়া বিপুল তাপ যেকোনো বস্তুর চৌম্বক ক্ষমতাকে মুহূর্তেই বিলীন করে দেবে। তাত্ত্বিকভাবে শরীরে লোহা থাকলেও বজ্রপাতের তাপে তা চুম্বক হতে পারবে না।



