জীবনে প্রথম যাকে দেখে প্রেমে পড়েছিলেন, আবেগে স্বপ্ন বুনেছিলেন, হয়েছিলেন কবি, তাকে কি সারাজীবনের জন্য জীবনসঙ্গী হিসেবে পেয়েছেন? উত্তর “হ্যাঁ” হওয়ার চেয়ে “না” হওয়ার দলই বেশি ভারি। সম্পর্ক সবসময় গন্তব্য নির্ভর নয়, তাই হয়ত প্রথম প্রেমের মানুষের সঙ্গে সবার মধুরেণু সমাপেয়ৎ ঘটে না। তাতে দোষেরও কিছু নেই, সুখী হওয়াটাই যখন মূল্য গন্তব্য তখন অন্য কারও সঙ্গে গাঁটছড়া বাধতে ক্ষতি কী?
সম্পর্ক ভেঙে যাওয়া যেকোনো মানুষের জন্যই কষ্টের। সেইসঙ্গে সামাজিক স্টিগমা তো আছেই। তবে আজকাল সামাজিক স্টিগমার বেশ পরিবর্তন এসছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ রাখলেই দেখা মেলে ঘটা করে “ব্রেকআপ পার্টি করা হয়। ডিভোর্সের পর কেক কেটে, ফটোসেশন করে উদযাপন করা হয়।
এটি একদিক দিয়ে ইতিবাচক যে, একটি টক্সিক সম্পর্কে থাকার চেয়ে তা থেকে বের হয়ে আসা শ্রেয়। তবে যদি সংসারে সন্তান থাকে তবে সেক্ষেত্রে অর্থনৈতিক হিসাব-নিকাশ এবং দুই পরিবারের মুরুব্বিদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।
বিচ্ছেদের পর যখন কেউ ভেঙে পড়ে, আমরা বলি- “মুভ অন”; অর্থাৎ একটি দুঃস্বপ্নের স্মৃতি থেকে নিজেকে মুক্তি দিয়ে নতুন করে জীবনটাকে সাজাতে শিখতে হবে।
বিচ্ছেদের পর তড়িঘড়ি করে আরেকটা সম্পর্কে না জড়িয়ে সময় নিয়ে নিজের ক্ষত সারানো বেশি জরুরি। বিচ্ছেদের ক্ষেত্রে এখনকার বেশিরভাগ নারী-পুরুষ স্বীকার করতে চান যে, এতে তারা ভেঙে পড়েছেন। নিজেকে সুপার অ্যাক্টিভ দেখাতে হাইপার বিহেভিয়ার শুরু করে দেন। আর এতে ঘটে আরও নতুন বিপত্তি। তাই সময় নিন, শান্ত হয়ে আপনার কাজে মনোযোগ দিন।
- সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে চাইলে যা এড়িয়ে চলতে হবে
- নিজেকে স্মার্ট দেখাতে একাধিক সঙ্গী রাখা
- সবসময় সঙ্গীর খুঁত বা দোষ ধরা।
- সঙ্গীর ব্যক্তিগত তথ্য অন্যের সঙ্গে শেয়ার করা
- বন্ধুদের সঙ্গে সঙ্গীকে পরিচয় করিয়ে দিতে আপত্ত।
- সঙ্গীর সঙ্গে কাটানো একান্ত মুহুর্তের ছবি / ভিডিও অন্যের সঙ্গে শেয়ার করা
- সম্পর্ক নিয়ে কোনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা না থাকা
- রেগে গেলে যা মুখে আসে বলা, মারামারি, ভাঙচুর করার পর আবার “স্যরি” বলা
- সঙ্গীর পরিবারের লোকদের অসম্মান করা
- সঙ্গীর অতীত না জেনেই সম্পর্কে জড়ানো
- ঝগড়া হলে অপরপক্ষ “স্যরি”সেই আশায় নিজে গোঁ ধরে বসে থাকা
- মতের ছোটখাটো অমিল মেনে না নেওয়া
- এমন কোনো ব্যক্তিগত তথ্য গোপন করা যা পরে অন্যের কাছ থেকে জেনে আহত হতে হয়
- সম্পর্ক নিয়ে অতিরিক্ত লোক দেখানো/ শো-অফ করা
- সব সময় অন্যের বয়ফ্রেন্ড/ গার্লফ্রেন্ড দেখিয়ে তুলনা করা।
- সর্বক্ষণ জবাবদিহি চাওয়া, প্রতি সেকেন্ডের হিসেব নেওয়া এবং সেটা আবার ক্রস চেক করা
- প্রশংসা না করা
- পুরোনো কোনো সমস্যা নিয়ে বারবার আঘাত দিয়ে কথা বলা
- উপহার না দেওয়া
- সঙ্গীর সামাজিক নিরাপত্তা নিয়ে না ভাবা
- সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সঙ্গীকে ভালোই না বাসা, শুধু সময় কাটানোর জন্য একজন সঙ্গী রাখা
কী ভাবছেন? উপরের বেশকিছু আপনার সঙ্গে মিলে গেছে? তাহলে দয়া করে একটু নড়চড়ে বসুন। প্রথমত বলতে চাই, আপনি যদি একজন পুরুষ হোন, আপনার নিজের পড়ালেখা, ক্যারিয়ার তথা অর্থ উপার্জনের অবস্থা যথেষ্ট ভালো থাকলেই কেবল সম্পর্কে জড়াবেন। বাবার অনেক টাকা আছে তাই আপনি শুয়ে-বসে খাবেন আর বাবার টাকায় প্রেম করবেন এই চিন্তা বাদ দিন।
আপনি যদি নারী হোন তাহলে বলতে চাই, অন্যের কান-কথায় নিজের সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হবে এমন কিছু করবেন না। নিজের যত্ন নিন সেই সঙ্গে আপনার সঙ্গীকে উৎসাহ দিয়ে জিরো থেকে হিরো আপনিই বানাতে পারেন এই বিশ্বাস রাখুন।
দু'জনে মিলে ছোট ছোট ভালো লাগা, ভালোবাসার স্মৃতি তৈরি করুন। সুন্দর করে কথা বলুন। ভালোবাসুন। দায়িত্ব ভাগ করে নিন। তুমি ,আমি থেকে “আমরা” এই ভাবনাতে আসার চেষ্টা করুন। তবে, আমরা প্রতিটি মানুষই আলাদা, যে যার মতো। তাই কিছু বিষয় আমাদের ভালো না লাগলেও মেনে নিতে হয়। এই মেনে নেওয়া মানে হলো, জীবনসঙ্গীর ত্রুটিগুলো মেনে নিয়ে তা শক্তিতে রুপান্তর করা। আপনার সঙ্গীর দুর্বল দিকগুলোকে আপনিই পারেন শুধরে দিতে। পারেন একটি সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে তাকে দিক নির্দেশনা দিয়ে সাহায্য করতে।
মনে রাখবেন, ছেড়ে দেওয়াই সব কিছুর সমাধান নয়। ছোট্ট জীবনে একসঙ্গে থেকে সুখী হওয়ার মুহুর্তগুলো ভীষণ অমূল্য। আনন্দের স্মৃতি তৈরি করুন যা বৃদ্ধ বয়সেও আপনাদের রোমাঞ্চিত করবে।
সম্পর্ক ভাঙার ২০ টি কারণ উল্লেখ করলাম, কি মাত্র তিনটি উপায়েই ধরে রাখতে পারেন সম্পর্ক। এগুলো হলো- উপায় আছে। তা হলো,
- অন্তরঙ্গতা
- আবেগ
- অঙ্গীকার
এখন প্রশ্ন হলো কীভাবে করে করবেন এই তিনটি কাজ, তাই তো? জ্বী, আপনার পথ আপনাকেই খুঁজে বের করতে হবে, আর তা অবশ্যই সৎ ভাবে। পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ থেকেই সেটার শুভ সূচনা হতে পারে।