গাছের নরম কাণ্ড খুঁড়ে বানায় নিজের বাসা। আবার সেই বাসায় বাদুড় ও কাঠবিড়ালির মতো প্রাণীকেও আশ্রয় দেয়। দেখতে রঙিন অতিথিপরায়ণ পাখিটির নাম বড় বসন্ত বাউড়ি।
ইংরেজিতে লিনেটেড বারবেট, বৈজ্ঞানিক নাম সাইলোপোজন লিনেটাস। মাঝারি আকারের এই পাখি এশিয়ান বারবেট ও মেগালাইমিডি পরিবারের প্রজাতি। এই পাখি ভারত, নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, লাওস, কম্বোডিয়া, ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়াসহ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বনে পাওয়া যায়।
সবুজ শরীর, লাল কপাল ও কালো-সাদা রেখাযুক্ত মাথার সাথে তাদের একটি স্বতন্ত্র চেহারা রয়েছে। তারা শক্ত, শক্তিশালী ঠোঁট দিয়ে বাসা বাঁধার জন্য গাছে গর্ত খনন করে। এটি ক্যাভিটি নেস্টার অর্থাৎ গাছে নিজস্ব গর্ত খনন করা পাখি এটি। পুরুষ ও স্ত্রী পাখি একসঙ্গে বাসা তৈরির জন্য কাজ করে। এজন্য তারা পালাক্রমে খননের কাজ করে।
বাসা বানাতে এই পাখিগুলো নরম ও কিছুটা জীর্ণ গাছ বেছে নেয়। মূলত সহজে খনন করা যায়, এমন গাছ বেছে নেয় পাখিটি। এই কাজের জন্য তারা মোক্ষম মৌসুম বেছে নিতেও পটু।
মার্চ থেকে জুলাইয়ের মধ্যে বাসা তৈরির কাজ শুরু করে পাখিটি। গাছে গর্ত খনন শেষ হলে স্ত্রী পাখি ২-৪টি ডিম পাড়ে। এরপর প্রায় ১৪-১৫ দিন ধরে বাবা-মা পাখি পালাক্রমে সেটিতে তা দেয়।
ডিম ফুটে ছানা বের হলে সেগুলোকে খাওয়ানোর ক্ষেত্রেও স্ত্রী-পুরুষ পাখি সমান ভূমিকা পালন করে। ওই সময় বাসায় খাবার হিসেবে ফল ও পোকামাকড় আনে তারা। গর্তের মধ্যেই ছানাগুলো দ্রুত বড় হতে থাকে। ২৮-৩০ দিনে এগুলো একে একে বাসা ছেড়ে যায়।
একেকটি ছানা ছেড়ে গেলেও যেগুলো বাসায় থাকে বাবা-মা পাখি বাকিগুলো ছানা স্বাধীনভাবে চলা না শেখা পর্যন্ত কয়েক সপ্তাহ ধরে তাদের খাওয়ানো ও যত্ন নেওয়া চালিয়ে যায়।
বড় বসন্ত বাউড়ি বছরের পর বছর একই গর্ত বাসা হিসেবে ব্যবহার করে। কখনও কখনও প্রতি মৌসুমে নতুন গর্ত করে বাসা বানায়। আবার কখনও অন্য পাখির বানানো গর্ত দখল করেও জায়গা করে নেয়।
পাখিটিকে প্রকৃতির গুরুত্বপূর্ণ বাস্তুতন্ত্রের প্রকৌশলীও বলা হয়ে থাকে। তাদের তৈরি করা গর্তের বাসায় তারা দুড় ও কাঠবিড়ালির মতো অন্যান্য প্রাণীদেরও আশ্রয় দিয়ে থাকে।
জায়েদ ইমরান চৌধুরী: ফ্রিল্যান্স ফটোগ্রাফার ও লেখক।