ঠিক সন্ধ্যার আগ দিয়ে আকাশের দিকে চোখ মেললেই দেখা যায় ঝাঁকে ঝাঁকে নীড়ে ফিরছে পাখির দল। কেমন এক হাহাকার, শূন্যতা ভর করে সময়টায়। কখনও কি ভেবে দেখেছেন ঠিক কী কারণে পাখিগুলো দল বেঁধে সবসময় একইভাবে ওড়ে?
আপাতদৃষ্টিতে একে স্বাভাবিক ঘটনা মনে হলেও এর কারণ উদঘাটনে দিনের পর দিন কাজ করছেন বিজ্ঞানীরা। তাদের বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে অবাক করা সব তথ্য।
টাইমস অব ইন্ডিয়া এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শক্তি সংরক্ষণ নাকি এর পেছনে অন্যতম কারণ। অর্থাৎ অনেকটা পথ একবারে ওড়ার সুবিধার জন্য পাখিরা দল বেঁধে এভাবে ওড়ে।
‘V’ আকারে উড়লে প্রথম পাখিটির পরে আসা প্রতিটি পাখি তার সামনের পাখির ডানার সৃষ্ট বায়ুপ্রবাহের শক্তি ব্যবহার করতে পারে। ফলে ওরা বাতাসের প্রতিরোধ কমিয়ে শক্তি সাশ্রয় করে। সামনের পাখির ডানা ঝাপটানোর ঠিক পেছনে একটি উত্তোলক ঘূর্ণি তৈরি হয়। পেছনের পাখিটি এই ঘূর্ণির ওপরে ওড়ে। ফলে পেছনের পাখি কম শক্তি খরচ করেও উড়তে পারে।
প্রতিটি পাখি সামনের পাখির থেকে কিছুটা ওপরে থাকে। একে বলা হয়, ফিবোনেচ্চি ধারা। এরমানে পরের সংখ্যা আগের দুটো সংখ্যার যোগফল। যেমন পাখি যখন ওড়ে প্রথমে একটা পাখি থাকে। এরপর আবারও একটা, এরপর ১+১ অর্থাৎ ২, এরপর আবার তিনটা পাখি, অর্থাৎ ১+২, এভাবে ৩, ৫, ৮ এই ধারায় উড়লে বাতাসের বাধা কমে। শরীর আরও মসৃণভাবে বাতাসে ভেসে থাকতে পারে পাখিরা।
তবে পাখি সমাজের ভেতর একতা কিন্তু অনেক বেশি। যেহেতু প্রথম পাখিটার বায়ুপ্রবাহের বিরুদ্ধে বেশ যুদ্ধ করতে হয়। তাই, পাখিরা একটু পর নেতৃত্ব বদল করে। একদম পেছনের পাখিটিও সামনে এসে নেতৃত্ব দেয়।



