হিমালয়ে যখন একটু একটু ঠান্ডা বাড়তে থাকে। তখনই একটু উষ্ণতার খোঁজে বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্য দেশে পাড়ি জমায় দেশি শুমচা (ইন্ডিয়ান পিট্টা) পাখি। প্রায় প্রতি বছরই দেখা যায় বলে বাংলাদেশে অতটা অপরিচিত নয় এই পাখি। সম্প্রতি এই পাখির দেখা মিললো ঢাকার জাতীয় বোটানিক্যাল গার্ডেনে।
রঙিন এই পাখির আকার দেশি শালিকের মতো অনেকটা। রঙ উজ্জ্বল। মাথা, পিঠ ও ডানায় থাকে নীল, সবুজ ও হলুদ রঙের ছায়ার আবরণ।
দেশি শুমচার মূলত আবাস ভারতীয় উপমহাদেশ, উত্তরে হিমালয়ের পাদদেশ থেকে দক্ষিণে শ্রীলঙ্কা পর্যন্ত।
দেশি শুমচা/ সৌজন্য ছবিএটির থাকার জন্য পছন্দের জায়গা বনাঞ্চল। তবে খাবারের জন্য তার পছন্দ মাটি। মাটিতে পোকামাকড়, মাকড়সা ও অন্যান্য ছোট মেরুদণ্ডী প্রাণী। পুরোনো বাঁশঝাড় আর শালবন এগুলোর খুব প্রিয়। বর্ষায় পচা পাতা উল্টে খাবার ধরে খায়।
প্রজনন ঋতুতে ভিন্ন এক ইঙ্গিতে ডাক দেয় এই পাখি।
শীতের মাস এলে দেশি শুমচা চলে যায় বাংলাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যান্য অংশে। কারণ এই অঞ্চলের জলবায়ু শীতের মাসগুলোতে তাদের বেঁচে থাকার জন্য আরও উপযুক্ত।
এজন্য তারা উড়ে চলে আসে বাংলাদেশেও। এখানে তারা বেশি খাবার ও উষ্ণ জলবায়ু খুঁজে পায়।
দেশি শুমচা/সৌজন্য ছবিদেশি শুমচা বাংলাদেশে বিরল ও পরিযায়ী প্রজাতি হিসেবে পরিচিত। বাংলাদেশ বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ) আদেশ ১৯৭৩ এর অধীনে এই পাখিকে সংরক্ষিত পাখি হিসেবে তালিকাভুক্ত।
তাদের আবাসস্থল রক্ষা এবং তাদের বেঁচে থাকা নিশ্চিত করার জন্য সংরক্ষণ প্রচেষ্টা করা হচ্ছে।
পাখিদের প্রায়ই বাংলাদেশের বনাঞ্চল এবং জলাভূমিতে দেখা যায়, যেখানে তারা খাওয়ার জন্য প্রচুর পোকামাকড় খুঁজে বেড়াতে পারে।
দেশি শুমচা/সৌজন্য ছবিদেশি শুমচার প্রজনন ঋতু এপ্রিলে শুরু হয় ও আগস্ট পর্যন্ত স্থায়ী হয়। এই সময়ে এটি মাটিতে বা নিচু ঝোপে বাসা তৈরি করে। বাসাটি ডালপালা, পাতা এবং অন্যান্য উদ্ভিদ সামগ্রী দিয়ে তৈরি এবং সাধারণত ঘন গাছপালার নিচে ভালোভাবে লুকানো থাকে।
স্ত্রী ৩-৫টি ডিম পাড়ে, যা সে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে তা দিয়ে রাখে।
মা-বাবা উভয়েই পালাক্রমে ডিম ফুটানো ও বাচ্চা হওয়ার পর বাচ্চাদের খাওয়ানোতে সমানভাবে অংশ নেয়।
পুরো দক্ষিণ এশিয়ায় ছয় জাতের শুমচা দেখা যায়। বাংলাদেশে আছে পাঁচ জাতের। তিনটি আমাদের আবাসিক পাখি। দেশি শুমচা মাত্র তিন মাসের জন্য ভারত, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা থেকে আমাদের দেশে আসে। শীত নামলে বৃষ্টিপ্রবণ অঞ্চলে পাড়ি জমায়।



