Sunday, August 30, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

১৭ বছর ধরে অপমানের বদলা নিতে বিজ্ঞানীদের ঘেরাও করতো ক্ষুব্ধ কাকেরা

এক দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় কাকের এই বিস্ময়কর প্রতিশোধপরায়ণতা ও স্মৃতিশক্তির তথ্য উঠে এসেছে।

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৭:২৯ পিএম

কাক অত্যন্ত বুদ্ধিমান একটি পাখি এবং এদের স্মৃতিশক্তি অস্বাভাবিক প্রখর। কোনো মানুষ যদি তাদের ওপর অন্যায় করে বা হুমকিস্বরূপ আচরণ করে, তবে সেই ক্ষোভ কাকরা দীর্ঘ সময়, এমনকি ১৭ বছর পর্যন্ত মনে পুষে রাখতে পারে। সম্প্রতি পরিবেশ বিজ্ঞানীদের এক দীর্ঘমেয়াদি গবেষণায় কাকের এই বিস্ময়কর প্রতিশোধপরায়ণতা ও স্মৃতিশক্তির তথ্য উঠে এসেছে।

ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞানী অধ্যাপক জন মার্জলাফ ২০০৬ সালে এই বিশেষ পরীক্ষাটি শুরু করেন। সে সময় তিনি একটি ভীতিকর দানবের মুখোশ পরে জালের সাহায্যে সাতটি কাক ধরে শনাক্তকরণ ব্যান্ড পরিয়ে ছেড়ে দেন। স্বল্প সময়ের জন্য হলেও ঘটনাটি ধরা পড়া কাক এবং তা প্রত্যক্ষ করা আশপাশের অন্যান্য কাকের জন্য তীব্র আতঙ্কজনক ছিল।

পরবর্তী বছরগুলোতে অধ্যাপক মার্জলাফ ও তার গবেষক দল ওই নির্দিষ্ট মুখোশটি পরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ঘুরে বেড়িয়ে কাকদের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করেন। গবেষণায় দেখা যায়, সেই মুখোশ পরা মানুষকে দেখলেই কাকের দল একত্রিত হয়ে আক্রমণাত্মক ভঙ্গি করে এবং জোরে জোরে ডেকে প্রতিবাদ জানায়। একপর্যায়ে ৫৩টি কাকের মুখোমুখি হলে তার মধ্যে ৪৭টি কাকই মুখোশধারীকে ঘিরে ধরে ভর্ৎসনা করে, যা মূল ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কাকদের সংখ্যার চেয়েও অনেক বেশি ছিল।

এই পর্যবেক্ষণ থেকে গবেষকরা সিদ্ধান্তে পৌঁছান যে, কাকেরা কেবল নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকেই অন্যায়কারীকে মনে রাখে না, বরং বাবা-মা ও দলের সদস্যদের কাছ থেকে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের চেহারা চিনে নিতে শেখে। সাধারণত একটি বুনো কাকের গড় আয়ু এক দশকের কম হলেও, তারা নিজেদের প্রতি হওয়া অন্যায়ের স্মৃতি পরবর্তী প্রজন্মের কাছেও দক্ষতার সঙ্গে পৌঁছে দিতে পারে।

গবেষণায় দেখা যায়, ঘটনার সাত বছর পর কাকদের ক্ষোভ ও আক্রমণের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি ছিল। ২০১৩ সালের পর থেকে তাদের আক্রমণাত্মক মনোভাব ধীরে ধীরে কমতে থাকে এবং পরীক্ষা শুরুর ঠিক ১৭ বছর পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে প্রথমবারের মতো মুখোশ পরা থাকা সত্ত্বেও কাকদের কাছ থেকে কোনো প্রতিবাদ বা ভর্ৎসনা পাওয়া যায়নি।

গবেষণাকালে নিরপেক্ষতা যাচাই করতে সাবেক মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির মুখের আদলে তৈরি আরেকটি শান্ত মুখোশ ব্যবহার করা হয়েছিল। সেই মুখোশ পরা ব্যক্তিদের কাকেরা কোনো আক্রমণ করেনি, বরং স্বাভাবিকভাবে তাদের হাত থেকে খাবার গ্রহণ করেছে। সিয়াটলে পরিচালিত অন্য একটি পরীক্ষাতেও ভিন্ন মুখোশ পরা স্বেচ্ছাসেবকদের ঘিরে কাকদের একই রকম আক্রমণাত্মক আচরণ দেখা গেছে।

কাকের এহেন আচরণ প্রমাণ করে যে, বুদ্ধিমান এই প্রাণীটি সহজে কোনো হুমকিমূলক ঘটনা ক্ষমা করে না এবং স্মৃতিশক্তি ব্যবহার করে বছরের পর বছর ধরে অন্যায়কারীদের চিহ্নিত রাখতে সক্ষম। অধ্যাপক মার্জলাফ অতি শীঘ্রই তাঁর এই ১৭ বছরের দীর্ঘ গবেষণার পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করতে যাচ্ছেন।

   

About

Popular Links

x