Wednesday, July 22, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

বাগেরহাট বিল: পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল এখন মরণফাঁদ

শিকারীরা পাখি ধরার জন্য নাইলন সুতার তৈরি এমন ফাঁদ ব্যবহার করছে যা দূর থেকে দেখলে মনে হয় বিল জুড়ে বিদ্যুতের লাইন দেওয়া হয়েছে

আপডেট : ০৯ জুন ২০২২, ০৬:১৭ পিএম

পাখি শিকার একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ তা কম-বেশি সবাই জানে। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যবসায়ী মূল্যবান পালক এবং মাংসের জন্য পাখিদের শিকার করা থেকে বিরত থাকছে না। 

বাগেরহাট বিলে পাখি শিকারের ঘটনা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। শিকারীরা ডাহুক (হোয়াইট ব্রেস্টেড ওয়াটারহেন), বক (হেরনস), কোরা (ওয়াটারকক), জলপিপি (ব্রোঞ্জ উইংড জাকানা), মাছরাঙা (কিংফিশার)-সহ বিভিন্ন জাতের পাখি শিকারের জন্য নতুন ধরণের সব পদ্ধতি ব্যবহার করছে।  

বাগেরহাটের চিতলমারী, ফকিরহাট এবং মোল্লাহাট উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে কোদালিয়া-কালশিরা বিল অবস্থিত।  

“জয় খান জলমহল” নামে পরিচিত এই বিলটি বিভিন্ন প্রজাতির পাখির আবাসস্থল। কিন্তু একসময় পাখিদের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমানে জলাভূমিটি পাখিদের মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে।  

শিকারীরা পাখি ধরার জন্য নাইলন সুতার তৈরি এমন ফাঁদ ব্যবহার করছে যা দূর থেকে দেখলে মনে হয় বিল জুড়ে বিদ্যুতের লাইন দেওয়া হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে সেগুলো পাখি শিকারের জন্য শিকারীদের পাতা ফাঁদ।  

এছাড়া, জলাশয়ে সৌর প্যানেল এবং স্পিকার স্থাপন করা হয়েছে। জলাশয়জুড়ে মোবাইল ডিভাইসের সাহায্যে বিভিন্ন পাখির ডাক বাজানো হয়। শব্দ শুনে পাখির ঝাঁক ফাঁদের দিকে ছুটে আসলেই তারা শিকারীর হাতে ধরা পড়ে।  

বিশেষজ্ঞদের মতে, পাখির আবাসস্থল সুরক্ষিত না হলে পাখির জীবন ও প্রজনন হুমকির মুখে পড়বে। এ ব্যাপারে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পাখিদের বেঁচে থাকা অসম্ভব। যা এ অঞ্চলের জীববৈচিত্র্যের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে।  

প্রতিবছর উত্তর গোলার্ধের শীত মৌসুমে সাইবেরিয়া এবং হিমালয়সহ প্রতিকূল এবং ঠান্ডা জলবায়ুর বিভিন্ন অঞ্চল থেকে পরিযায়ী পাখিরা আশ্রয় ও খাদ্যের সন্ধানে বাংলাদেশের বিভিন্ন হাওর, বিল এবং পুকুরে আশ্রয় নেয়।  

এই পাখিগুলো আমাদের দেশিয় প্রজাতি না হলেও এরা আমাদের বাস্তুতন্ত্রের অংশ। যা আমাদের বাঁচিয়ে রাখতে সহায়তা করছে। তাই শিকারীদের হাত থেকে পাখিদের সুরক্ষা করার অনুরোধ বিশেষজ্ঞদের।  

সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জয় খান জলমহল মোল্লাহাট-চিতলমারী এলাকার ৩৬ একর জুড়ে অবস্থিত। শীতের মৌসুমে প্রায় ২০০ প্রজাতির পাখি এখানে আসে।  

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক আজিজুর রহমান জানান, পাখি শিকারের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বিল এলাকায় অভিযান চালানো হবে। 

   

About

Popular Links

x