Friday, September 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

এভারেস্টের হিমবাহ গলছে পর্বতারোহীদের প্রস্রাবে, বলছে গবেষণা

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে রিজিওনাল এনভায়রনমেন্টাল চেঞ্জ জার্নালে

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:১১ পিএম

নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য এভারেস্ট বেজ ক্যাম্পে পর্বতারোহীদের পোড়ানো জ্বালানির তাপ এবং সরাসরি হিমবাহে ত্যাগ করা মূত্রের কারণে প্রতি বছর প্রায় ২ হাজার ৫০০ টন বরফ ও তুষার গলে যাচ্ছে।

আন্তর্জাতিক গবেষকদের একটি দল খুম্বু হিমবাহ নিয়ে এই গবেষণা পরিচালনা করেছেন। এভারেস্টের নেপাল অংশে অবস্থিত বেজ ক্যাম্পটি এই হিমবাহের ওপরেই অবস্থিত। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে “রিজিওনাল এনভায়রনমেন্টাল চেঞ্জ” জার্নালে।

বসন্তকালে পর্বতারোহণের মৌসুমে হাজার হাজার পর্বতারোহী, গাইড ও সহায়তাকারী কর্মী জড়ো হন এই ক্যাম্পে, যা তখন পরিণত হয় এক জমজমাট পর্যটন গ্রামে এসপ্রেসো ক্যাফে, বড় পর্দার টিভি, উচ্চগতির ইন্টারনেট, গরম পানির গোসল ও তাঁবুর মেঝে গরম রাখার ব্যবস্থাসহ সবই থাকে সেখানে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ২০২৩ সালের বসন্ত মৌসুমের ৫০ দিনে ক্যাম্পের প্রায় ১ হাজার ৬০০টি তাঁবুতে রান্না, উষ্ণতা ও বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতে ব্যবহৃত হয়েছে ৮২৪ ক্যানিস্টার এলপিজি, ১৮ হাজার ৯৩৫ লিটার কেরোসিন ও ৫ হাজার ১৩০ লিটার পেট্রোল।

মানুষের প্রস্রাবের তাপ ও এসব জ্বালানি মিলিয়ে মোট প্রায় ৮ লাখ ৪৯ হাজার মেগাজুল তাপশক্তি উৎপন্ন হয়েছে, যা প্রায় ২ হাজার ৪৯২ টন বরফ গলাতে সক্ষম। হিসাবের ভুল-ত্রুটি বিবেচনায় নিলে এই পরিমাণ ১ হাজার ৯৬৪ থেকে ৩ হাজার ২০ টনের মধ্যে হতে পারে। এত পানি দিয়ে অলিম্পিক আকারের একটি সুইমিং পুল, প্রায় ৮৩টি পানির ট্যাংকার কিংবা ১৬ হাজার ৭০০টি সাধারণ বাথটাব ভরে ফেলা সম্ভব।

গবেষণায় বিস্ময়করভাবে উঠে এসেছে যে মানুষের মূত্র নিজেই তাপের একটি উল্লেখযোগ্য উৎস। উচ্চতায় পানিশূন্যতা এড়াতে পর্বতারোহী ও গাইডরা প্রচুর পানি পান করেন, ফলে প্রতিদিন সেখানে সম্মিলিতভাবে প্রায় ৬ হাজার লিটার মূত্র ত্যাগ করা হয়। কঠিন বর্জ্য নিচে নামিয়ে আনা হলেও প্রস্রাবের বেশিরভাগই সরাসরি হিমবাহের ওপর ফেলা হয়যা এক মৌসুমেই প্রায় ১৫৪ টন বরফ গলাতে পারে বলে জানান গবেষকরা।

স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ১৯৯১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ক্যাম্প এলাকার ভূপৃষ্ঠের তাপমাত্রা প্রতি বছর গড়ে ০.২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস করে বেড়েছে, যা আশপাশের খুম্বু হিমবাহের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।

নেপালের ভূমি ব্যবস্থাপনা বিভাগের সিনিয়র সার্ভেয়ার কিম লাল গৌতমসহ গবেষক দলটি জানায়, প্রকৃত প্রভাব আরও বেশি হতে পারে, কারণ হেলিকপ্টার চলাচল, মানুষের শরীরের স্বাভাবিক উষ্ণতা ও রসদবাহী চমরীগাইয়ের তাপ এই হিসাবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

গবেষকরা হিমবাহ গলে যাওয়ার প্রধান কারণ হিসেবে জলবায়ু পরিবর্তনকেই দায়ী করলেও বলছেন, “একটি দ্রুত গলতে থাকা হিমবাহের ওপর বছরের পর বছর এভাবে হাজার হাজার মানুষের সমাগম মেনে নেওয়ার মতো নয়।“

দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হিসেবে বেজ ক্যাম্প হিমবাহের ওপর থেকে সরিয়ে কাছাকাছি কোনো স্থিতিশীল এলাকায় স্থানান্তরের পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

   

About

Popular Links

x