ফিলোফোবিয়া: যে রোগে মানুষ প্রেমে পড়তে ভয় পায়

প্রেমের ফাঁদ পাতা এই ভুবনে মানুষ অহরহ প্রেমে পড়ে; কখনও জেনেশুনে, কখনও নিজের অজান্তে।

ভালোবাসার অনুভূতি ঠিক যতটাই সরল, ততটাই আবার জটিলও। মানুষের মনের অলিগলির থৈ পায়নি মানুষ নিজেই। কখন মন কার প্রেমে পড়ে সে নিজেও জানে না।

তবে কিছু মানুষ আছেন যারা প্রেমে পড়ার ব্যাপারে খুব সতর্ক। আরও খোলাসা করে বললে, কিছু মানুষ আছেন যারা প্রেমে পড়তে ভয় পায়। তারা সহজে অন্যদের বিশ্বাস করতে পারে না। অবিশ্বাসের পাশাপাশি ছেড়ে যাওয়ার ভয়, প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয়, প্রতারিত হওয়ার ভয়, অন্যের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার খারাপ উদাহরণ, ভালোবাসা নিয়ে ভুল ধারণা; এরকম অনেক কারণে তারা প্রেমের সম্পর্ক এড়িয়ে চলে।

এমনকি অনেকে তাকে ভালোবাসে জেনেও তারা নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকে। মগ্ন থাকে নিজের ভাবনায়। প্রেম সংক্রান্ত এই ভীতি কিন্তু কোনো স্বাভাবিক বিষয় নয়। চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটি একটি রোগ, যার নাম ফিলোফোবিয়া।

প্রেমে পড়ার ভয় বা ফিলোফোবিয়ার উপসর্গ ব্যক্তিভেদে পরিবর্তিত হতে পারে। এরকম কিছু উপসর্গ হলো-

  • ভালবাসা সম্পর্কিত অভ্যন্তরীণ অনুভূতি প্রকাশ না করা
  • প্রেম বা রোমান্স সম্পর্কিত স্থান এড়িয়ে চলা
  • বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া এড়িয়ে চলা
  • প্রেমে পড়া সম্পর্কে সবসময় উদ্বেগ এবং স্নায়বিক চাপ অনুভব করা
  • প্রেমের কথা চিন্তা করলেই ঘেমে যাওয়া
  • নার্ভাসনেস ও বমি বমি ভাব হওয়া
  • দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাস
  • পেট খারাপ ইত্যাদি।

এই ভয় মৃদু হলে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। কিন্তু ভয় যদি ব্যাপক হয় তবে তা ব্যক্তির দৈনন্দিন কাজকর্ম প্রভাবিত হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে মনোরোগ বিশেষজ্ঞের সাহায্য নেওয়াই শ্রেয়।

ফিলোফোবিয়ার চিকিৎসায় সাইকোথেরাপি ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সহায়ক। ভীতির তীব্রতার ওপর নির্ভর করে চিকিৎসা পরিবর্তিত হতে পারে।