কুষ্টিয়ার লাদেনের দাড়ি ৬ ফুট ১০ ইঞ্চি, মাসে গোসল করেন একবার

শখের বসে মানুষ কতকিছুই না করেন। শখ পূরণ সাত সমুদ্র পাড়ি দেওয়ার গল্পও শুনেছি আমরা। এমনই এক সৌখিন মানুষের দেখা মিলেছে কুষ্টিয়ায়। মাহতাব উদ্দিন লাদেন নামে সত্তরোর্ধ এক ব্যক্তি শখের বসে ৬ ফিট ১০ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের দাড়ি রেখেছেন।

মাহতাব উদ্দিন লাদেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের পাককোলা গ্রামের বাসিন্দা। বর্তমানে লাদেনের মুখের দাড়ির দৈর্ঘ্য প্রায় ৬ ফুট ১০ ইঞ্চি। লাদেন ২০ বছরে মাত্র চারবার চার হাত দাড়ি কেটেছেন। দাড়ি শুকানোর বিড়ম্বনার কারণে তিনি বছরে সব মিলিয়ে ১২ বারেরও কম গোসল করেন। এতো বড় দাড়ি যে পেঁচিয়ে মুখে খোঁপা করে রাখেন লাদেন। অনেকেই প্রথমবার এতো বড় দাড়ি দেখে হতবাক হয়ে যান।

আগে কুষ্টিয়ার একটি প্রাইভেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারে মার্কেটিং বিভাগে কাজ করলেও বর্তমানে তিনি নিজ গ্রামে চাষাবাদের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন।

কথা হয় দীর্ঘ দৈর্ঘ্যের দাড়িওয়ালা লাদেনের সাথে। এ সময় তিনি ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “২০০৩ সাল থেকে এমন দাড়ি রাখা শুরু করেছি। বাপ-দাদাদের নাভি পর্যন্ত দাড়ি ছিল। তাই আল্লাহর কাছে চেয়েছিলাম আমার দাড়িটা নাভির নিচে দিও। আল্লাহ আমার কথা রেখেছেন। দাড়ি বড় হতে হতে এই ২০ বছরে চারবার চার হাত দাড়ি কেটেছি। আল্লাহর কাছে আর্জি আছে এই দাড়ি নিয়ে যেন আমি কবর পর্যন্ত যেতে পারি।”

এমন দীর্ঘ দাড়ি রাখতে অসুবিধা হয় কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে লাদেন বলেন, “দাড়ি রাখতে আমার কোনো অসুবিধা হয় না।”

দাড়ির যত্ন নেন কি করে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি গোসল করি একটু পাতলা। বারো মাসে বছর হয় কিন্তু বছরে ১২ বার গোসল হয় আবার হয় না এমন। আমার স্ত্রী দাড়ির যত্ন নেওয়ার ব্যাপারে যথেষ্ট সহযোগিতা করেন।”

লাদেন বলেন, “দাড়ি নিয়ে অনেকে অনেক মন্তব্য করেন। কেউ ভালো বলেন, কেউ খারাপ বলেন। কেউ কেউ দাড়ি রাখা সম্পর্কে বলেন আইন নাই, হাদিস নাই, দলিল নাই। মানুষ আল্লার কাছে টাকা চায়, গাড়ি চায়, বাড়ি চাই। আমি চারটে দাড়ি চেয়েছিলাম। আল্লাহ দিয়েছেন।”

লাদেন দাবি করেন, এশিয়া মহাদেশের মধ্যেও সবচেয়ে বড় দাড়ি তার। তবে দাড়ি রাখার জন্য কোনো রেকর্ড বুকে নাম লেখাতে চান না তিনি। 

লাদের নামকরণ সম্পর্কে মাহতাব উদ্দিন বলেন, “আমার নাম ছিল মাহতাব উদ্দিন। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর আমাদের এলাকায় একটা ব্রিজের অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু পরে কাজ শুরু হয় বিএনপি সরকারের সময়ে। তখন তৎকালীন বিএনপির সংসদ সদস্য ছিলেন আহসানুল হক পচা মোল্লা। সেই সময় এই সংসদ সদস্য ব্রিজটি আমাদের এলাকায় না দিয়ে অন্য এলাকায় দেয়ার পাঁয়তারা করেন। তখন আমি এর প্রতিবাদ করি। সেই সময় আমার সাহসিকতা দেখে পচা মোল্লা লাদেন নাম দেন। বর্তমানে আমার জাতীয় পরিচয় পত্রেও লাদেন নামটি রয়েছে।”

স্থানীয় পাককোলা গ্রামের রকি ইসলাম জানান, মাহতাব উদ্দিন লাদেন খুবই সৌখিন একজন মানুষ। তিনি গ্রামে সবজিসহ বিভিন্ন ফসল চাষাবাদ করেন। চাষাবাদের পর যতটুকু সময় পান তিনি দাড়ি পরিচর্যা করেন। তার উচ্চতার চেয়ে দাড়ির দৈর্ঘ্য বেশি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এমন বড় দাড়ি রেখেছেন।