Thursday, June 04, 2026

সেকশন

English
Dhaka Tribune

যেকারণে উটের মাংস খেলে অজু ভেঙে যায়

সহিহ হাদিসে উটের মাংস খাওয়ার পর অজু করার নির্দেশনা এসেছে

আপডেট : ০১ জুন ২০২৬, ১০:১১ এএম

ইসলামের বিভিন্ন বিধানের মধ্যে কিছু বিষয় রয়েছে, যার হিকমত মানুষ সহজে অনুধাবন করতে পারে, আবার কিছু বিষয় মানুষের জ্ঞানের সীমার বাইরে থেকে যায়। তেমনই একটি আলোচিত বিধান হলো, উটের মাংস খাওয়ার পর অজু করা।

সহিহ হাদিসে উটের মাংস খাওয়ার পর অজু করার নির্দেশনা এসেছে। হজরত জাবির ইবনে সামুরা (রা.) বর্ণিত এক হাদিসে দেখা যায়, এক ব্যক্তি রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে ছাগলের মাংস খাওয়ার পর অজুর বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ইচ্ছা করলে অজু করতে পারে, না করলেও অসুবিধা নেই। তবে উটের মাংস বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে রাসুলুল্লাহ (সা.) স্পষ্টভাবে অজু করার নির্দেশ দেন। (সহিহ মুসলিম: ৩৬০)

আলেমদের একটি অংশের মতে, উটের মাংস, চর্বি, কলিজা, নাড়িভুঁড়িসহ ভক্ষণযোগ্য যেকোনো অংশ খাওয়ার পর অজু করা আবশ্যক। কারণ হাদিসে এ বিষয়ে কোনো অংশকে আলাদা করে ব্যতিক্রম করা হয়নি।

উটের মাংস খেলে অজু ভঙ্গ হয়, এ মত গ্রহণ করেছেন প্রখ্যাত আলেমদের মধ্যে ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল, ইমাম ইসহাক ইবনে রাহাওয়াইহ, ইমাম বায়হাকী, ইমাম ইবনে খুজাইমাহ ও ইমাম আবু বকর ইবনে মুনযির (রহ.)-সহ আরও অনেক মুহাদ্দিস ও ফকিহ।

এ বিধানের হিকমত সম্পর্কে আলেমরা বিভিন্ন ব্যাখ্যা দিয়েছেন। একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, “উট শয়তান থেকে সৃষ্টি হয়েছে।” (ইবনে মাজাহ: ৭৬৯)। অন্য একটি হাদিসে এসেছে, “প্রত্যেক উটের কুঁজের ওপর একটি শয়তান থাকে। তাই উটে আরোহণের সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করো।” (মুসনাদ আহমাদ: ২২৭১)

প্রখ্যাত ইসলামি চিন্তাবিদ ইমাম ইবনে তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেন, উটের মাংস খাওয়ার ফলে মানুষের মধ্যে এক ধরনের শয়তানি প্রভাব সৃষ্টি হতে পারে এবং অজু সেই প্রভাব দূর করতে সাহায্য করে। তার মতে, অজু শুধু বাহ্যিক পবিত্রতা নয়, বরং আত্মিক প্রশান্তিরও একটি মাধ্যম।

অন্যদিকে শায়খ মুহাম্মদ ইবনে সালিহ আল-উছাইমীন (রহ.) বলেন, উটের মাংস মানুষের দেহে স্নায়বিক উত্তেজনা সৃষ্টি করতে পারে এবং অজু সেই উত্তেজনা প্রশমনে সহায়ক হতে পারে।

তবে এ বিষয়ে আলেমদের মধ্যে মতপার্থক্য রয়েছে। হাম্বলি মাযহাব এবং অনেক মুহাদ্দিস উটের মাংস খেলে অজু ভঙ্গ হওয়ার মত দিলেও অধিকাংশ হানাফি, মালিকি ও শাফেয়ি ফকিহের মতে, উটের মাংস খাওয়ার কারণে অজু ভঙ্গ হয় না। তারা হাদিসে বর্ণিত নির্দেশনাকে মুস্তাহাব বা উত্তম আমল হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।

তবে সব মতের আলেমই একমত যে, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশের প্রতি সম্মান ও আনুগত্য মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামের অনেক বিধানের মতো এ বিষয়টিও মুমিনদের আল্লাহ ও তার রাসুলের প্রতি পূর্ণ আস্থা ও আনুগত্যের শিক্ষা দেয়।

   

About

Popular Links

x