রাজধানী ঢাকার উত্তরা উত্তর স্টেশন থেকে মতিঝিল অংশে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলাচল চলাচল শুরু হয়েছে মেট্রোরেলের।
শনিবার (২০ জানুয়ারি) থেকে নতুন সময়সূচি অনুযায়ী চলাচল শুরু করেছে মেট্রোরেল। এখন থেকে শুক্রবার বাদ দিয়ে প্রতিদিন সকাল ৭টা ১০ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত উত্তরা-মতিঝিল রুটে চলাচল করবে মেট্রোরেল। তবে স্টেশন থেকে একক যাত্রার টিকেট কেটে যারা যাতায়াত করবেন তারা সকাল সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলাচল করতে পারবেন। এর বাইরে অতিরিক্ত সময়ে অর্থাৎ সকাল ৭টা ১০ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত চলাচলের জন্য থাকতে হবে এমআরটি বা র্যাপিড পাস।
ঢাকা ম্যাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেডের (ডিএমটিসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) এমএএন ছিদ্দিক জানান, রাত ৮টা ১০ মিনিট, রাত ৮টা ২০ মিনিট, রাত ৮টা ৩০ মিনিট এবং রাত ৮টা ৪০ মিনিটে চারটি ট্রেন মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে প্রতিটি স্টেশনে থেমে উত্তরা উত্তর মেট্রোরেল স্টেশন পর্যন্ত চলবে। এই মেট্রো ট্রেন চারটিতে শুধু এমআরটি পাস, র্যাপিড পাস এবং ভ্রমণের দিন রাত ৭টা ৪৫ মিনিটের আগে ক্রয় করা সিঙ্গেল জার্নি টিকেটধারী যাত্রীরা ভ্রমণ করতে পারবেন। রাত ৭টা ৪৫ মিনিটের পর সব টিকেট বিক্রয় অফিস এবং মেশিন বন্ধ হয়ে যাবে।
এছ্ড়া সকাল ৭টা ১০ এবং ৭টা ২০ মিনিটে দুটি ট্রেনে র্যাপিড পাস দিয়ে চলাচল করা যাবে বলে জানান তিনি।
সব মেট্রোরেল স্টেশন থেকে সকাল ৭টা ১৫ মিনিট থেকে রাত ৭টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত এমআরটি পাস ক্রয় ও টপআপ করা যাবে। ওয়েবসাইট অথবা মেট্রোরেল স্টেশন থেকে এমআরটি পাস নিবন্ধন ফরম নিয়ে যথাযথভাবে পূরণ করে চালু যেকোনো মেট্রোরেল স্টেশন থেকে পাস কেনা যাবে।
এমআরটি পাস পাওয়ার উপায়
মেট্রোরেলের যেকোনো স্টেশনের টিকেট কাটার মেশিনের কাছে অ্যাক্সেস ফেয়ার অফিস বা কাস্টমার সার্ভিস সেন্টার থেকে কেনা যাচ্ছে এমআরটি পাস কার্ড।
এমআরটি পাসের জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া
এই স্থায়ী যাত্রা কার্ডটি করার সময় শুধুমাত্র একটি নথি প্রয়োজন হবে, আর সেটা হচ্ছে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি কার্ড)। তবে বিকল্প হিসেবে জন্ম নিবন্ধন বা ড্রাইভিং লাইসেন্স কিংবা পাসপোর্ট; যেকোনো একটি সরবরাহ করা যেতে পারে।
স্টেশনের যেখানে টিকেট কাটা হয় তার কাছাকাছি রয়েছে অ্যাক্সেস ফেয়ার অফিস বা কাস্টমার সার্ভিস সেন্টার। সেখানে গিয়ে দায়িত্বরত কর্মকর্তাকে পাস কার্ড নেওয়ার ব্যাপারটি জানানো হলে তারা একটি ফরম সরবরাহ করবে।
এবার এনআইডি অনুসারে নাম, বাবা বা স্বামীর নাম, মায়ের নাম, জন্ম তারিখ, নিজের জেলা, এনআইডি সংখ্যা প্রভৃতি তথ্যগুলো দিয়ে ফরমটি পূরণ করতে হবে। এগুলো বাদে অন্যান্য যে তথ্য দিতে হবে সেগুলো হলো- লিঙ্গ, জাতীয়তা ও মোবাইলফোন নম্বর। সবশেষে ফরমের নিচের শেষ প্রান্তে নির্দিষ্ট স্থানে সই ও তারিখ দিয়ে পূরণকৃত ফরমটি কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে।
এই নিবন্ধন প্রক্রিয়াটি ঘরে বসেও সম্পন্ন করা যাবে। পাস কার্ডের নিবন্ধন ফরম ডাউনলোড করা যাবে মেট্রোরেলের ওয়েবসাইট থেকে। অতঃপর তা পূরণ করে কাছাকাছি স্টেশনে গিয়ে জমা দিয়ে আসতে হবে।
ফরম জমা দেওয়ার ২ থেকে ৩ মিনিটের মধ্যেই কর্মকর্তা তথ্য যাচাই পূর্বক একটি সক্রিয় যাত্রা কার্ড প্রদান করবেন। চাইলে সঙ্গে সঙ্গে এটি দিয়ে এন্ট্রি গেইটে পাঞ্চ করে মেট্রোরেলে প্রবেশ করা যাবে।
এমআরটি পাস ফি
ফরম জমা দেওয়ার সময় কার্ড প্রক্রিয়াকরণ ফি বাবদ ৫০০ টাকা প্রদান করতে হবে। এই খরচের মধ্যে ২০০ টাকা হচ্ছে কার্ডের মূল্য। আর বাকি ৩০০ টাকা থাকবে নিবন্ধনকারীর কার্ডে ব্যবহারযোগ্য ব্যালেন্স হিসেবে।
র্যাপিড পাস পাওয়ার উপায়
ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের (ডিবিবিএল) নির্দিষ্ট কিছু শাখা, উপ-শাখা ও বুথ থেকে নেওয়া যাবে এই পাস কার্ড। শাখা-উপশাখাগুলো হলো-
সোনারগাঁও জনপদ শাখা, উত্তরা; উত্তরা শাখা, রবীন্দ্র সরণি শাখা, পল্লবী শাখা, মিরপুর; মিরপুর শাখা, মিরপুর-১০ শাখা, ইব্রাহিমপুর শাখা, ক্যান্টনমেন্ট; শেওড়াপাড়া শাখা, মিরপুর; কর্পোরেট শাখা, মতিঝিল; ইন্দিরা রোড শাখা, ফার্মগেট; খালপাড় উপশাখা, উত্তরা; তালতলা উপশাখা, আগারগাঁও; সচিবালয় ফাস্ট ট্র্যাক, বাংলাদেশ সচিবালয়; ফার্মগেট উপশাখা, কাওরান বাজার শাখা, গ্রীন রোড শাখা, পান্থপথ, এলিফ্যান্ট রোড শাখা, সেগুনবাগিচা উপশাখা, বঙ্গবন্ধু এভিনিউ শাখা, গুলিস্তান; মতিঝিল বৈদেশিক বাণিজ্য শাখা, গুলিস্তান; শান্তিনগর শাখা, নিউ মার্কেট শাখা, সাতমসজিদ রোড শাখা, ধানমণ্ডি, ধানমণ্ডি শাখা, মিরপুর রোড, নিউ ইস্কাটন শাখা, শ্যামলী শাখা, খিলগাঁও শাখা, তালতলা, আর কে মিশন রোড উপশাখা, মতিঝিল, রামপুরা শাখা, বিজয়নগর শাখা, বসুন্ধরা শাখা, তেজগাঁও শাখা, নাবিস্কো, মগবাজার শাখা, মুগদা উপশাখা, দিয়াবাড়ি মেট্রোরেল স্টেশনের ডিবিবিএল বুথ, আগারগাঁও মেট্রোরেল স্টেশনের ডিবিবিএল বুথ।
র্যাপিড পাসের জন্য নিবন্ধন প্রক্রিয়া
এখানেও এনআইডি কার্ড/জন্ম নিবন্ধন/ড্রাইভিং লাইসেন্স/পাসপোর্ট-এর যেকোনো একটি সঙ্গে রাখতে হবে। উক্ত জায়গাগুলোতে গিয়ে পাস নেওয়ার ব্যাপারে জানালে এমআরটি পাসের মতো একইভাবে একটি ফরম দেওয়া হবে। এই ফরমেও একই তথ্য জানতে চাওয়া হবে, যেগুলোর মধ্যে এনআইডির তথ্যগুলো অবশ্যই অবিকল হতে হবে। পূরণকৃত ফর্ম কাউন্টারে জমা দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই দায়িত্বরত কর্মকর্তা তথ্য যাচাই করে পাস কার্ডটি হস্তান্তর করবেন। কার্ডটি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ব্যবহার করা যাবে।
পাসের নিবন্ধন ফরম ডিটিসিএ-এর ওয়েবসাইট থেকে ডাউনলোড করা যাবে। অতঃপর তা পূরণ করে উপরোক্ত স্থানগুলো থেকে নিবন্ধনকারীর নিকটতম স্থানে জমা দিয়ে আসা যাবে। এই পাসের জন্য সরাসরি অনলাইনে নিবন্ধনেরও ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া ফেসবুকের মাধ্যমেও অর্ডার করা যাবে এই কার্ড।
র্যাপিড পাস ফি
ফরম জমাদানের সময় এই স্থায়ী যাত্রা কার্ডের প্রাথমিক মূল্য বাবদ ৪০০ টাকা দিতে হবে। এই খরচের অর্ধেক হলো স্মার্ট কার্ডের মূল্য, আর বাকি অর্ধেক কার্ডে রিচার্জ করে দেওয়া হবে ব্যবহারের জন্য।
২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেল উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত বছরের ৪ নভেম্বর আগারগাঁও থেকে মতিঝিল অংশের উদ্বোধন করেন তিনি।
বর্তমানে উত্তরা উত্তর, উত্তরা সেন্টার, উত্তরা দক্ষিণ, পল্লবী, মিরপুর-১১, মিরপুর-১০, কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, আগারগাঁও, বিজয় সরণি, ফার্মগেট, কারওয়ান বাজার, শাহবাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ সচিবালয় ও মতিঝিল- এ ১৬ স্টেশনে মেট্রোরেল চলাচল করছে। কমলাপুর পর্যন্ত সম্প্রসারণের কাজ চলমান। ওই অংশের কাজ শেষ হলে কমলাপুরও যাবে মেট্রোরেল।