যেভাবে এলো জামাই ষষ্ঠী

“বারো মাসে তের পার্বন” বলে একটি কথা বেশ প্রচলিত রয়েছে। আর এসব পার্বনের অন্যতম একটি হলো জামাই ষষ্ঠী। বাংলা ক্যালেন্ডার অনুসারে প্রতিবছর জৈষ্ঠ্য মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী তিথিতে পালন করা হয় জামাই ষষ্ঠী। ক্যালেন্ডার অনুসারে এবার জামাইষষ্ঠী পড়েছে বুধবার (১২ জুন) বাংলা ক্যালেন্ডার অনুসারে ২৯ জ্যৈষ্ঠ।

জামাই ষষ্ঠী হল সম্পর্কের মেলবন্ধনের এক উৎসব। বাঙালির ঘরে ঘরে পালিত হয় জামাই ষষ্ঠী। এই উপলক্ষে বিশেষ আয়োজনও করা হয়। এই দিন জামাই ষষ্ঠী উপলক্ষে জামাইদের জন্যে থাকে বিশেষ পদের রান্না ও নানা আচার অনুষ্ঠান। জৈষ্ঠ্য মাসে নানারকম মৌসুমি ফল পাওয়া যায়। শ্বশুরবাড়িতে জামাইদের ভোজের আয়োজনে থাকে এসব ফলেরও সমাহার।

যেভাবে শুরু হয়েছিল জামাই ষষ্ঠী পালনের প্রথা

একটা সময় বাঙালি সমাজে রীতি ছিল, বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর সন্তান না হওয়া পর্যন্ত মেয়েরা পিতৃগৃহে আসতে পারত না। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই মেয়েদের সন্তান ধারণ করতে সমস্যা কিংবা বিলম্ব হওয়ায় মেয়ের বাবা-মাকে দীর্ঘদিন ধরে মেয়েকে দেখার জন্য অপেক্ষা করতে হত। সেই সময় মেয়েকে বাড়িতে আনার জন্য জামাইকে দাওয়াত দেওয়ার প্রচলন শুরু হয়।

এই দিন জামাইদের আদর আপ্যায়ন করার জন্য নিমন্ত্রণ জানানোর সঙ্গে সঙ্গে মেয়েদেরও আমন্ত্রণ জানানো হত। যার ফলে জামাই বরণের সঙ্গে মেয়েও আসতে পারত বাবার বাড়িতে। বাবামা-র সঙ্গে মেয়ের দেখা সাক্ষাৎ হত। এই প্রথাই জামাই ষষ্ঠী নামে পরিচিত।

এই দিনে শাশুড়িরা ষষ্ঠীর পূজা করে জামাইয়ের কপালে তিলক কাটেন। চন্দন দইয়ের ফোঁটা দিয়ে আশীর্বাদ করেন। জামাইয়ের দীর্ঘায়ু কামনা করে তেল হলুদের ফোঁটা ও সুতো হাতের কব্জিতে বেঁধে দেওয়া হয়।

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস