বুদ্ধিমত্তা যাচাই করার নানা ধরনের পরীক্ষা রয়েছে যাকে “আইকিউ (ইন্টেলিজেন্স কোশেন্স) টেস্ট” বলা হয়। এছাড়াও যুক্তি, পর্যবেক্ষণ, বিশ্লেষণ ইত্যাদি বিষয়ে কিছু প্রশ্নের উত্তর দিয়েও বুদ্ধির মাত্রা বোঝা যায়। তবে পরীক্ষার বাইরেও মানুষের কিছু স্বভাবের ভিত্তিতে বুদ্ধিমত্তা যাচাইয়ের সহজ উপায় বাতলে দিয়েছেন মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষকরা।
চলুন জেনে নেওয়া যাক বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের মধ্যে দেখা যায় এমন কিছু স্বভাব-
হাস্যরসবোধ: হাসা এবং হাসাতে পারা মারাত্মক এক গুণ! বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের মধ্যে এই গুণ দেখা যায়। নানা দেশের বিজ্ঞানীরাও এ বিষয়ে একমত। খুব সাধারণ কিছুকে খুব মজার করে উপস্থাপন করতে পারেন বুদ্ধিমানেরা।
পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া ও পরিশ্রমী সত্তা: বুদ্ধিমানরা জানেন তারা সমাজের কাজে আসবেন, যেকোনো ইতিবাচক পরিবর্তনে অবদান রাখতে পারবেন। তাই অলস সময় না কাটিয়ে তারা সব সময় চেষ্টা করেন কোনো না কোনো কাজে লেগে থাকতে।
ডারউইনের বিবর্তনতত্ত্ব অনুযায়ী, যোগ্যরাই টিকে থাকেন। যোগ্য তারাই, যারা পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেন। কানাডার পেশাবিষয়ক লেখক শানা লেবোভিটজ বলেন, “যারা যেকোনো পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে দ্বিধা করেন না তারাই বুদ্ধিমান। অনেক বিধিনিষেধ ও জটিলতার মধ্যেও তারা খুঁজে বের করেন উপায়। সাম্প্রতিক মনস্তাত্ত্বিক গবেষণাগুলোও এ ধারণাকে সমর্থন করে।”
অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল: সংবেদনশীলতা বুদ্ধিমত্তার একটি বিশেষ লক্ষণ। বুদ্ধিমানরা অন্যের অনুভূতির কদর করতে জানেন। পরিবার কিংবা কাছের মানুষের ইচ্ছা-অনিচ্ছা ও অনুভূতিগুলো বুঝতে চেষ্টা করেন তারা। এছাড়া তাদের মধ্যে নানা মানুষের ভিন্ন ভিন্ন অভিজ্ঞতা জানার প্রবল আগ্রহ দেখা যায়।
ভালোবাসেন নিজ সঙ্গ: বুদ্ধিমানরা দিনের একটা নির্দিষ্ট সময় একান্তই নিজের জন্য বরাদ্দ রাখেন। নানা মনস্তাত্ত্বিক গবেষণায় উঠে এসেছে যে বন্ধু বা আত্মীয়দের মধ্যে সময় কাটানোর চেয়ে নিজের সঙ্গে সময় কাটাতে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন বুদ্ধিমানরা। হয়তো এ জন্যই তাদের চিন্তাশক্তিও সূক্ষ্ম হয়। জীবনে কী করছেন, কী করবেন এবং তার ফলাফল কী হতে পারে, এগুলো নিয়ে তারা সর্বদা চিন্তায় থাকেন।
আত্মনিয়ন্ত্রণ: আত্মনিয়ন্ত্রণ ও বুদ্ধিমত্তার মধ্যে একটি যোগসূত্র আছে। ২০০৯ সালের এক গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের দুই ধরনের অর্থ পুরস্কারের মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে বলা হয়; তাৎক্ষণিক নিলে কম টাকা, কিছুদিন বাদে নিলে বেশি টাকা। যারা তৎক্ষণাৎ টাকা পাওয়ার লোভ নিয়ন্ত্রণ করে কিছুদিন বাদে অর্থ নেওয়া বেছে নিয়েছিলেন, বুদ্ধিমত্তায় অন্যদের চেয়ে এগিয়ে ছিলেন তারা। শুধু তা–ই নয়, বুদ্ধিমানেরা নিজেদের রাগ, ক্ষোভ, বিরক্তি, আনন্দ, ব্যবহার—সবকিছুই নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
পারিপার্শ্বিক সম্পর্কে ধারণা: বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা আশপাশের বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে চান। তাদের মধ্যে অজানাকে জানার একটা আগ্রহ দেখা যায়। পাশাপাশি বুদ্ধিমান লোকেরা “আমি জানি না” বলতে ভয় পান না। কোনো কিছু না জানলে তা নিয়ে প্রশ্ন করতে দ্বিধা করেন না।
খোলামন: চিন্তার আড়ষ্টতা মানুষের জানার পরিধিকে সীমিত করে। জ্ঞানপিপাসু বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা অন্যদের মতামত শুনতে, বিবেচনা করতে এবং প্রয়োজনে গ্রহণ করতেও রাজি থাকেন। মনখোলা চিন্তাধারার কারণে তারা বিকল্প সমাধানও সহজে খুঁজে বের করতে পারেন।
সূত্র: নিউরোস্পা