ঢাকার কিছু অভিজাত রেস্তোরাঁয় এখন আর শুধু খাবারের স্বাদই নয়, চোখ ধাঁধানো উপস্থাপনাও বড় আকর্ষণ। জিলাপি থেকে শুরু করে কেক সবকিছু খাবার সোনার পাত দিয়ে মোড়ানো। দামি এই সাজসজ্জা যেন আভিজাত্যের নতুন ভাষা। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে যে সোনা আমরা গয়না হিসেবে পরি, সেটি কি সত্যিই খাওয়ার জন্য নিরাপদ?
সোনার প্রতি মানুষের আকর্ষণ নতুন কিছু নয়। শত শত বছর আগে থেকেই ইউরোপের পেস্ট্রি বা জাপানের গ্রিন টিতে সাজসজ্জার জন্য সোনার গুঁড়ো বা পাত ব্যবহার করা হতো। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ঐতিহ্যই এখন রূপ নিয়েছে আধুনিক খাবারের ট্রেন্ডে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “খাবারে ব্যবহৃত সোনা আর গয়নার সোনা এক নয়। খাদ্যোপযোগী সোনা সাধারণত ২৩ থেকে ২৪ ক্যারেট বিশুদ্ধ হয় এবং এতে অন্য ধাতুর মিশ্রণ খুবই কম থাকে। ইউরোপে এই সোনাকে ‘ই-১৭৫’ নামে চিহ্নিত করা হয়। এটি স্বাদহীন, গন্ধহীন এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এটি একটি নিষ্ক্রিয় ধাতু।”
নিষ্ক্রিয় হওয়ায় সোনা শরীরে প্রবেশ করার পর কোনো রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশ নেয় না। এটি হজমও হয় না, রক্তে মিশে যায় না; বরং পরিপাকতন্ত্রের ভেতর দিয়ে সরাসরি বর্জ্য হিসেবে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। এখন পর্যন্ত সোনা খাওয়ার কারণে মৃত্যুর কোনো প্রমাণও পাওয়া যায়নি।
তবে গবেষণার ঘাটতি রয়েছে এ কথাও স্বীকার করছেন বিজ্ঞানীরা। খাদ্য উপাদান হিসেবে সোনার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে খুব বেশি গবেষণা হয়নি। কিছু ক্ষেত্রে দাঁতের চিকিৎসায় ব্যবহৃত সোনার অভিজ্ঞতা থেকে ধারণা নেওয়া হয়েছে, যেখানে দেখা গেছে শরীরে এর তেমন ক্ষতিকর প্রভাব নেই। তবে যাদের সোনায় অ্যালার্জি আছে, তাদের ক্ষেত্রে ত্বকে সমস্যা দেখা দিতে পারে।
আরেকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ সব সোনা খাওয়ার জন্য নিরাপদ নয়। গয়নার সোনায় বিভিন্ন ধাতু মেশানো থাকে, যা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই খাবারে ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট মানের বিশুদ্ধ সোনা ব্যবহার করা জরুরি।
পুষ্টিবিদদের পরামর্শ স্পষ্ট যে সোনা বিষ না হলেও এটি কোনো পুষ্টিকর খাদ্য নয়। তাই নিয়মিত খাদ্যতালিকায় রাখার কোনো প্রয়োজন নেই। বরং বিশেষ কোনো অনুষ্ঠান বা অভিজ্ঞতার জন্য এক-আধবার খাওয়া যেতে পারে।
শেষ পর্যন্ত প্রশ্নটা থেকেই যায় আমরা কি সত্যিই স্বাদের জন্য সোনা খাচ্ছি, নাকি শুধু দেখানোর জন্য? কারণ, সোনা যতই ঝলমলে হোক, শরীরের জন্য এর উপকারিতা প্রায় শূন্য।



