আড্ডায় বা কাজের ফাঁকে চায়ের জুড়ি মেলা ভার। চায়ের কাপে চুমুক দেওয়ার পাশাপাশি আমাদের অভ্যাস থাকে টা বা স্ন্যাক্স হিসেবে কিছু না কিছু খাওয়া। বিস্কুট, চানাচুর, সিঙাড়া, পাকোড়া থেকে শুরু করে অনেক সময় চায়ের সঙ্গে আমরা ভারী খাবারও খেয়ে ফেলি।
কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান এবং পুষ্টিবিদদের সাম্প্রতিক গবেষণা এই অভ্যাস নিয়ে সতর্কবার্তা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চায়ের মধ্যে থাকা ক্যাফেইন এবং ট্যানিন কিছু নির্দিষ্ট খাবারের সঙ্গে মিশলে রাসায়নিক বিক্রিয়া ঘটায়। এর ফলে খাবারের পুষ্টিগুণ তো নষ্ট হয়ই, উল্টে তা শরীরে বিষাক্ত উপাদান তৈরি করে।
চায়ের নিজস্ব কিছু ওষধি গুণ রয়েছে, যা শরীরের জন্য ভালো। কিন্তু ভুল খাবারের সংমিশ্রণ শরীরের জন্য বিষে পরিণত হতে পারে।
নিচে এমন ৫টি খাবারের তালিকা দেওয়া হলো, যা চায়ের সঙ্গে খাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক।
১. শিঙাড়া ও পাকোড়া
চায়ের সঙ্গে গরম-গরম শিঙাড়া খাওয়া বেশ জনপ্রিয়। বিশেষ করে বৃষ্টির দিনে এর চেয়ে ভালো স্ন্যাক্স আর হয় না। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, বেসন বা ময়দা দিয়ে তৈরি ভাজা খাবার চায়ের সঙ্গে খেলে পরিপাকতন্ত্রের মারাত্মক ক্ষতি হয়। চায়ের ট্যানিন বেসনের পুষ্টি উপাদানকে শরীরে শোষণ হতে বাধা দেয়। এর ফলে খাবার ঠিকমতো হজম হতে পারে না, যা থেকে কোষ্ঠকাঠিন্য, তীব্র গ্যাস, পেট ফাঁপা এবং বুক জ্বালার মতো ক্রনিক অ্যাসিডিটির সমস্যা তৈরি হয়।
২. লেবু বা সাইট্রাস জাতীয় ফল
অনেকেই ওজন কমাতে বা স্বাদের জন্য লেবু চা খেতে ভালোবাসেন। চিকিৎসকরা বলছেন, চায়ের সঙ্গে লেবুর রস মিশলে তা চা’কে অতিরিক্ত অ্যাসিডিক করে তোলে। লেবু চা খালি পেটে বা নিয়মিত খেলে পাকস্থলীর ভেতরের দেয়ালে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করে। এর ফলে টক ঢেকুর ওঠা এবং গ্যাস্ট্রিক আলসারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।
৩. হলুদ সমৃদ্ধ খাবার
চা খাওয়ার ঠিক আগে-পরে বা চায়ের সঙ্গে অতিরিক্ত হলুদ রয়েছে এমন খাবার খাওয়া এড়িয়ে চলা উচিত। হলুদের মধ্যে থাকা ‘কারকিউমিন’ এবং চায়ের ‘ক্যাফেইন’ একসঙ্গে মিশলে রাসায়নিক ভারসাম্য নষ্ট হয়। এটি লিভার এবং পাকস্থলীর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে তীব্র বদহজম বা পেটের গোলমাল দেখা দিতে পারে।
৪. ঠান্ডা খাবার বা আইসক্রিম
গরম চায়ের সঙ্গে বা চা খাওয়ার পরপরই কোনো ঠান্ডা খাবার, যেমন আইসক্রিম, ঠান্ডা পানি বা কোল্ড ড্রিংকস খাওয়া একদমই উচিত নয়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, হঠাৎ করে শরীরের ভেতরের তাপমাত্রার এই তীব্র পরিবর্তন পরিপাক প্রক্রিয়াকে স্তব্ধ করে দেয়। এটি আমাদের পাচনতন্ত্রের পেশিগুলোকে দুর্বল করে এবং তীব্র বমি বমি ভাব বা গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা তৈরি করতে পারে।
৫. আয়রন সমৃদ্ধ খাবার
ডিম বা সবুজ শাকে প্রচুর পরিমাণে আয়রন থাকে। কিন্তু আপনি যদি এগুলো চায়ের সঙ্গে খান, তবে চায়ের মধ্যে থাকা ‘ট্যানিন’ এবং ‘অক্সালেট’ আয়রনকে রক্তে মিশতে বাধা দেয়। ফলে খাবার থেকে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় না। যারা রক্তাল্পতা বা অ্যানিমিয়ার সমস্যায় ভুগছেন, তাদের চা খাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে বা পরে আয়রন সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া উচিত।



