ক্যান্সার প্রতিরোধে কী করবেন

ভয়ঙ্কর আর জটিল এক রোগ হলো ক্যান্সার। বিশ্বজুড়ে বহু মানুষের মৃত্যু হচ্ছে ক্যান্সারে। ক্যান্সারের চিকিৎসা ব্যয়বহুল হওয়ায় এই রোগের কবলে পড়লে রোগীর পাশাপাশি তার পরিবারের ওপরও নেমে আসে নানা বিপদ। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ক্যান্সার আক্রান্তের সংখ্যাও ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। তাই বিশেষজ্ঞেরা সবাইকে এই রোগ থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেন।

সবার জিজ্ঞাসা, ঠিক কী ভাবে ক্যান্সার প্রতিরোধে এগিয়ে থাক যায়? ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ব্যায়াম করলে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা কমে যায়।

এক্ষেত্রে দিনে ৩০ মিনিট করে সপ্তাহে অন্ততপক্ষে ৫ দিন ব্যায়াম করতে হবে। আর যেকোনো ধরনের ব্যায়াম নয়, আপনাকে নির্দিষ্ট কিছু ব্যায়াম করতে হবে। তবেই উপকার মিলবে হাতেনাতে। তেমনই কিছু ব্যায়াম সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিন।

স্ট্রেনথ ট্রেনিং

শরীরকে সুস্থ-সবল রাখতে চাইলে নিয়মিত স্ট্রেনথ ট্রেনিং করতে হবে। এক্ষেত্রে প্রতিদিন জিমে গিয়ে বা বাসায় ব্যায়াম করে ঘাম ঝরান। বাসায় ব্যায়াম করতে চাইলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। এই ধরনের ব্যায়াম করলে পেশির শক্তি বাড়ে। সেই সঙ্গে খাবার হজম হয় দ্রুত। যার ফলে সুস্থ থাকে শরীর। এড়িয়ে চলা যায় ক্যান্সারের মতো জটিল রোগ।

তবে শরীরে ইতোমধ্যেই কোনো ক্রনিক রোগ থাকলে প্রথমেই স্ট্রেনথ ট্রেনিং করবেন না। তার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

যোগ ব্যায়াম

শুধু শরীর সুস্থ থাকলেই চলবে না, সেই সঙ্গে মন যাতে ভালো থাকে সেই চেষ্টাও চালিয়ে যেতে হবে। আর এজন্য আপনাকে সাহায্য করতে পারে প্রাচীন ভারতীয় সব যোগ। এই ধরনের ব্যায়াম করলে শরীরের সঙ্গে মনও থাকবে ভালো। এর পাশাপাশি বাড়বে দেহের জোর। শরীর নমনীয় হয়ে উঠবে। ক্যান্সারের মতো জটিল রোগ থেকে কিছুটা হলেও দূরে থাকতে পারবেন।

ডিপ ব্রিদিং

রোজ সকালে ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে করুন ডিপ ব্রিদিং। এক্ষেত্রে প্রথমে ১০ গুনতে গুনতে শ্বাস নিন। তার পর ১০ গুনতে গুনতে শ্বাস ছেড়ে দিন। এছাড়াও একাধিক নিয়মে ড্রিপ ব্রিদিং করা যায়। এই ব্যায়াম করলে মনের জোর বাড়ে। কমে স্ট্রেস হরমোন। যার ফলে একাধিক রোগ থেকে মুক্ত যায়। তাই চেষ্টা করুন যেভাবেই হোক ডিপ ব্রিদিং করার। এই নিয়মটা মেনে চললেই উপকার মিলবে হাতেনাতে।

সাইকেল চালানো

সুস্থ থাকতে চাইলে নিয়মিত সাইকেল চালাতে পারেন। কারণ, সাইকেলিং হলো এরোবিক এক্সারসাইজ। এই ব্যায়াম করলে শরীর পুরো ফিট থাকবে। বাড়বে পেশি এবং হাড়ের জোর। সুস্থ থাকবে ফুসফুস। সেই সঙ্গে একাধিক রোগের ফাঁদ অনায়াসে এড়িয়ে চলা যায়। নিয়মিত সাইকেল চালালে ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও কয়েকগুণ কমে।

সাঁতার কাটা

আজ থেকে নিজের মতো করে সময় বের করে সাঁতার কাটা শুরু করে দিন। সাঁতার এমন একটা ব্যায়াম যা করলে সারা শরীরের উপকার হয়। কমে ওজন। ফুসফুসের জোর বাড়ে। পেশি ও হাড় শক্ত হয়। তাই চেষ্টা করুন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সাঁতার কাটা শুরু করে দেওয়ার।