দৈনন্দিন জীবনের আরও নানা বিষয়ের মতো চাকরির ক্ষেত্রেও থাকে উত্থান-পতন। কর্মক্ষেত্রের নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে মানিয়ে চলা অসম্ভব হয়ে উঠলে অনেকেই চাকরি ছেড়ে দেন। কিংবা অন্য প্রতিষ্ঠানে আরও ভালো বেতনের সুযোগ পেয়ে অনেকেই চাকরি পরিবর্তন করেন। আবার অনেকের ক্ষেত্রে ঘটে উল্টো ঘটনা। কর্তৃপক্ষ তাকে ছাঁটাই করে দেবে কি-না, সামনে বেতনটা বাড়বে কি-না। এমন নানা ধরনের অনিশ্চয়তা জেঁকে বসে।
চাকরিটা থাকবে তো? বেতন ঠিকমতো বাড়বে তো? কাজে ভুল হচ্ছে না তো? কর্মক্ষেত্রে এমন নানা দুশ্চিন্তা কাজ করে কর্মীদের মনে।
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দুশ্চিন্তার প্রভাব পড়ে ব্যক্তির আচার-আচরণে, এমনকি ব্যক্তিগত জীবনেও। চাকরিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা মানসিক চাপ বাড়িয়ে তোলে। ফলে কেউ খিটখিটে মেজাজের হয়ে যান, আবার কেউ অতিরিক্ত সন্দেহপ্রবণ হয়ে ওঠেন। দুশ্চিন্তার কারণে অনিদ্রার সমস্যাও দেখা দেয়। তবে কিছু নিয়ম মেনে চললে এই ধরনের মানসিক অস্থিরতা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়।
সম্প্রতি এসব বিষয় নিয়ে ভারতীয় মনোবিদ অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায় কথা বলেছেন দেশটির সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার সঙ্গে।
অনিন্দিতা মুখোপাধ্যায়ের ভাষ্য, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগার সমস্যা এখন বেশিরভাগেরই। এর নানা কারণ থাকতে পারে। কেউ সারা বছর কাজে ফাঁকি দিয়ে পরে দুশ্চিন্তায় ভোগেন, আবার কেউ সব সময়েই সাফল্যের শিখরে থাকতে চেয়ে উদ্বেগে ভোগেন। নিজের জায়গা হারিয়ে ফেলার ভয়ও কাজ করে। খরচ ও সঞ্চয়ের মধ্যে যারা ভারসাম্য রাখতে পারেন না, তারাও এমন অনিশ্চয়তায় ভোগেন
চাকরিক্ষেত্রে অনিশ্চয়তা নিয়ে এমন দুশ্চিন্তা কাটিয়ে উঠতে তিনি বেশকিছু পরামর্শ দিয়েছেন। চলুন, জেনে নেওয়া যাক সে সম্পর্কে-
- সবসময় ইতিবাচক চিন্তা করুন। অযথা উদ্বেগে না ভুগে নিজের কাজ সময়মতো করার চেষ্টা করুন। প্রয়োজনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে নিজের কাজের খুঁটিনাটি জানিয়ে রাখুন। এতে দুশ্চিন্তা অনেক কমবে।
- নিজের কাজ নিয়ে খুশি থাকার চেষ্টা করুন। কাজ নিয়ে খুশি না থাকলে মনে নানা রকম চিন্তা আসতে বাধ্য। গুরুত্বপূর্ণ কাজ সময়ে শেষ করার চেষ্টা করুন। কাজ ফেলে বা জমিয়ে রাখবেন না। দিনের শুরুতেই কাজের তালিকা বানিয়ে নিন। কী কী কাজ করছেন তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে রাখুন। সহকর্মীদের সঙ্গেও আলোচনা করুন। যোগাযোগ রেখে চললে চিন্তার পারদ অনেক নেমে যাবে।
- আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য রেখে চললে দুশ্চিন্তা কম হবে। শুরু থেকেই সঞ্চয়ের ভাবনা রাখুন। কীভাবে টাকা সঞ্চয় করবেন, কোথায় কোথায় লগ্নি করে রাখলে লাভ হবে তা জেনে নিন। মনকে প্রস্তুত করে নিন এই ভেবে যে, কখনও যদি কর্মক্ষেত্রে কোনো অঘটন ঘটে যায় বা চাকরি না থাকে, তাহলে নতুন চাকরি খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত কোনো সমস্যায় পড়তে হবে না।
- কাজের জায়গায় নতুন কোনো ট্রেনিং শুরু হলে সেখানে যোগ দিন। সব সময়েই পড়াশোনার মধ্যে থাকার চেষ্টা করুন। কাজ নিয়ে অভিজ্ঞতা যত বাড়বে, ততই দুশ্চিন্তা কম হবে। চাকরি চলে গেলেও নতুন চাকরি খুঁজে নিতে অসুবিধা হবে না।
- ইচিবাচক ভাবনা নিয়ে চলা খুব জরুরি। অন্যের সাফল্য দেখে উৎকণ্ঠায় ভুগবেন না। বরং নিজের ১০০% দেওয়ার চেষ্টা করুন।