সরকারি কিংবা বেসরকারি যেমনই হোক, চাকরি আমাদের অনেকের উপার্জনের একমাত্র মাধ্যম। আর একজনের একটি চাকরির ওপর নির্ভর করে পরিবারের আরও অনেকের জীবনযাপনের খরচ। কিন্তু দৈনন্দিন জীবনের আরও নানা বিষয়ের মতো চাকরির ক্ষেত্রেও থাকে উত্থান-পতন। কর্মক্ষেত্রের নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে মানিয়ে চলা অসম্ভব হয়ে উঠলে অনেকেই চাকরি ছেড়ে দেন। আবার অনেকেই নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তে চাকরি থেকে ছাঁটাই হন। আর হুট করে এমন ঘটনা ঘটলে পড়তে হয় বিপাকে। শুধু চাকরি হারানো ব্যক্তিটিই নন, এতে বিপদে পড়েন তার আয়ের ওপর নির্ভরশীল অন্যরাও। এসব ব্যক্তি আর্থিক অনিশ্চয়তার পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকির মধ্যেও পড়েন।
কিন্তু এটিও মনে রাখতে হবে যে, কোনো চাকরিই চিরস্থায়ী নয়। যেকোনো সময় জীবনে যেকোনো ধরনের কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চাকরি জীবনে কঠিন সময় আসবে, কিন্তু আমরা কীভাবে তা মেনে নেব, সেটা জানতে হবে। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেছেন মানবসম্পদ বিশেষজ্ঞ রুবিনা খান। চলুন, প্রথম আলো অবলম্বনে নেওয়া যাাক সে সম্পর্কে-
চ্যালেঞ্জকে স্বীকার করা
চাকরি চলে যাওয়ার মতো কঠিন সময়কে মোকাবিলা করার প্রথম ধাপ হলো ঘটনাকে স্বীকার করা নেওয়া। পরিস্থিতিকে বাস্তবসম্মত উপায়ে মূল্যায়ন করতে হবে। নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখানো যাবে না। কাউকে দোষারোপ করে মন খারাপ করা যাবে না। আপনি যা নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, তার ওপর ফোকাস করতে হবে। কঠিন সময়ে নিয়ন্ত্রণের বাইরের জিনিস বা ঘটনা নিয়ে মাথা ঘামানো যাবে না। এমন কাজ বা বিষয়ে মনোনিবেশ করুন, যাতে আবারও আপনি কাজে ফিরতে পারেন। দক্ষতার উন্নতি, শিক্ষক বা বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে নতুন পথ খোঁজার চেষ্টা করুন। চাকরি নেই বলে নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে দিন পার করা যাবে না। সক্রিয়ভাবে নিজের উন্নয়ন ও নতুন বিকল্প উপায় খুঁজতে হবে।
সহযোগিতা নেওয়া
আপনার পরিচিত পেশাদার ব্যক্তিদের সঙ্গে আলাপ করুন। পরামর্শক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, পরামর্শদাতা, সহকর্মী বা বিশ্বস্ত বন্ধুদের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। নতুন পরিস্থিতিকে মানিয়ে নিতে শিখুন। তাদের পরামর্শ ও নতুন ভাবনা শুনে নিজেকে তৈরি করতে পারেন। নিজের জীবনবৃত্তান্ত ও কাজের নমুনা তাদের কাছে প্রকাশ করুন। লিংকডইনের মতো সাইটে নিজের উপস্থিতি জানান দিন।
থেমে থাকা যাবে না
চাকরি নেই বলে অস্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বেছে নেবেন না। এ সময় অপ্রয়োজনীয় খরচ বাদ দিতে পারলে ভালো। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় দিন। কোনো কিছু লুকাবেন না। নিজের দুর্বলতা প্রকাশ করুন, কিন্তু পরিবার ও স্বজনদের দুর্বল করবেন না। অনেক সময় পরিবারের কারও চাকরি না থাকলে ছোট সদস্যরা মন খারাপ করে। এই কঠিন সময়ে তাদের বোঝানোর চেষ্টা করুন। কঠিন সময়ে শরীর ও মন খারাপ করা চলবে না। চ্যালেঞ্জ জয় করতে নিজের স্বাস্থ্যের দিকে খেয়াল রাখুন। সামনে বাধা দেখে থামা যাবে না। চেষ্টা করতে থাকলে চাকরির ডাক আসবেই।