ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং কি? দ্রুত মেদ কমাতে এটি কতটুকু কার্যকর জেনে নিন

দ্রুত মেদ ঝরাতে চাইলে শুধু শরীরচর্চা করলেই হবে না। পাশাপাশি এর সঙ্গে অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাসেরও ইতি টানতে হবে। তবে বর্তমান সময়ে তাড়াতাড়ি মেদ কমাতে “ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং” ডায়েট বেশ জনপ্রিয়। এই বিশেষ ডায়েটে খাবারের জন্য তেমন কোনো বিধিনিষেধ থাকে না। কেবল সময় ধরে ডায়েট করতে হয়। তাই বর্তমান তরুণ প্রজন্ম এই ডায়েটের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হচ্ছে।

ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং হলো দিনের একটা নির্দিষ্ট সময়ে ডায়েট করা। শরীরের চাহিদা বুঝে ডায়েটের সময়কাল ১০-১৮ ঘণ্টা এমনকি ২২ ঘণ্টা পর্যন্তও হতে পারে। এই ডায়েটের ক্ষেত্রে দিনে ৬-৮ ঘণ্টার মধ্যেই খেয়ে নিতে হয়। আর বাকি সময়টা অর্থাৎ ১৪-১৬ ঘণ্টা ডায়েট করেই কাটাতে হয়। সাধারণত রাতের খাওয়ার পর থেকে পরের দিন রাতের খাবার বা দুপুরের খাওয়া শুরু করার মধ্যে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধান রাখতে হয়। এই ডায়েট নিয়ম মেনে করলে যেমন লাভ হয়, তেমনই যদি নিয়ম না মানা হয় তা হলেই শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিতে থাকে। পুষ্টির ঘাটতিও হয়।

এ বিষয়ে পুষ্টিবিদরা জানিয়েছেন, ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং নিয়ম মেনে করলে বিপাকহার নিয়ন্ত্রিত হয়। ফলে মেদ যেমন কমে তেমনই শরীরের আরও অনেক সমস্যার সমাধান হয়। যেমন- রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রিত হয়, হজমশক্তি আরও বাড়ে, হার্ট-লিভার ভাল থাকে, হৃদরোগের ঝুঁকি কমে।

পুষ্টিবিদদের মতে, শুরুতে ৮-১০ ঘণ্টা ডায়েট করে শরীরের সঙ্গে খাপখাওয়াতে হবে। শরীর যদি সইয়ে নিতে পারে তা হলে সময় বাড়িয়ে তা সর্বোচ্চ ১৪-১৬ ঘণ্টা করা যেতে পারে। এই ডায়েট চলাকালীন প্রচুর শাকসব্জি, মাছ-মাংস এবং প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে। তবে পরিমিত পরিমাণে। আপনি যতটা পরিমাণ ক্যালোরি গ্রহণ করছেন সেই পরিমাণ ক্যালোরি খরচ হচ্ছে কি না, সেটাও নজরে রাখা জরুরি। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অল্প অল্প করে বার বার খেতে হবে। খাবারের মধ্যে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন, খনিজ ও ফাইবারের সঠিক ভারসাম্য থাকা জরুরি। এছাড়াও বেশি করে পানি খেতে হবে এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নিতে হবে।