পবিত্র জুমাতুল বিদায় যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন

আজ ২৭ রমজান, শুক্রবার পবিত্র জুমাতুল বিদা। আরবিতে “বিদা” শব্দের অর্থ শেষ। জুমাতুল বিদা মানে শেষ শুক্রবার বা শেষ জুমা। পবিত্র মাহে রমজানের শেষ জুমার দিনটি মুসলিম বিশ্বে জুমাতুল বিদা নামে পরিচিত।

 জুমার দিন এবং রমজানের শেষ জুমা হওয়ার কারণে এই দিনটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ। এই দিন আমল ইবাদতের মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। জুমাতুল বিদা মনে করে কোনো বিশেষ আমল ইবাদত করা যাবে না। অন্যান্য জুমার দিনের মতো এই জুমাতেও তাড়াতাড়ি মসজিদে গমন, আল্লাহর কাছে দোয়া করা, তাসবিহ তাহলিলসহ বেশ কিছু ইবাদত করা যেতে পারে। 

জুমার নামাজ শেষে মসজিদে মসজিদে মুসল্লিরা বিশেষ দোয়া করে থাকেন। এছাড়া বিভিন্ন আমল ও নফল ইবাদতের মধ্যদিয়ে দিনটি পালন করা হয়। জুমার নামাজ শেষে মহান আল্লাহ তায়ালার দরবারে মুসলমানরা ক্ষমা ও রহমত কামনা করেন।

নানা কারণেই মুসলমানদের কাছে জুমাতুল বিদার গুরুত্ব অনেক। রমজান মাস সীমাহীন ফজিলতের মাস। হাদিসে আছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেছেন রাসূল (সা.) এরশাদ করেছেন, যখন রমজান মাস আসে আসমানের দরজাগুলো খুলে দেওয়া হয় এবং দোজখের দরজাগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়, আর শয়তানকে শৃঙ্খলিত করা হয়। (বুখারী, মুসলীম)। তাই সারা বছরের মাঝে মুমিনের কাছে রমজান খুবই গুরুত্বপূর্ণ। জুমাতুল বিদার মাধ্যমে কার্যত রোজাকে বিদায় জানানো হয়।

ফজরের নামাজ পড়ার পর সূরা ইয়াসিন তিলাওয়াত

ইয়াহইয়া ইবনে কাসির (রহ.) বর্ণিত, ‘‘যে ব্যক্তি সকালে সুরা ইয়াসিন পাঠ করবে, সে সন্ধ্যা পর্যন্ত সুখে-স্বস্তিতে থাকবে। যে সন্ধ্যায় পাঠ করবে, সে সকাল পর্যন্ত শান্তিতে থাকবে।’ (আহকামুল কোরআন লিল-কুরতুবি : ২/১৫)

এছাড়াও সুরা ইয়াসিন পড়ার অনেক ফজিলত রয়েছে।

পরিস্কার, পরিচ্ছন্ন থাকা

হাদিসে বিভিন্ন উপায়ে পরিচ্ছন্নতার গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবং নানাবিধ শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা রক্ষাকে ঈমানের অংশ বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। আবু মালেক আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘‘পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ঈমানের অর্ধেক’।’ (মুসলিম, হাদিস : ২২৩)

আগে আগে মসজিদে যাওয়া

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন জানাবাত-এর গোসলের মতো গোসল করে এবং নামাজের জন্য আগমন করে সে যেন একটি উট কোরবানি করার সওয়াব পাবে। এভাবে পর্যায়ক্রমে যে ব্যক্তি দ্বিতীয় পর্যায়ে আগমন করে সে যেন একটি গাভী কোরবানি এবং তৃতীয় পর্যায়ে যে আগমন করে সে যেন একটি শিং বিশিষ্ট দুম্বা কোরবানির সওয়াব পাবে।

আল্লাহর নিকট দোয়া চাওয়া

হজরত আনাস রাদিয়াল্লাহু তায়ালা আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল (সা.) বলেছেন, একদিন হজরত জিবরাঈল (আ.) আমার নিকট আসেন, তার হাতে ছিলো সাদা কাচের টুকরা; তিনি বললেন এটি জুমা আপনার রব যা আপনার ওপর ফরজ করেছেন। যাতে আপনার জন্য এবং আপনার পর উম্মতের জন্য একটি দলিল হয়।

রাসূল (সা.) প্রশ্ন করলেন, এতে আমাদের জন্য কি আছে? হযরত জিবরাঈল আমীন বলেন, এতে এমন এক সময় রয়েছে, সে সময় কেউ নিজের কোনো নেক মাকসাদ পূরণের জন্য দোয়া করলে আল্লাহ তা নিঃসন্দেহে কবুল করে নেন।