বিশ্বজুড়ে এক নতুন ট্রেন্ড মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে ঘিবলি আর্ট। নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের ছবি নিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে সেই ছবি কার্টুনের আদলে রূপান্তরিত করে তা সমাজমাধ্যমে শেয়ার করছেন অনেকেই। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এসব ঘিবলি ছবির মধ্যে বিপদ লুকিয়ে থাকতে পারে? এআই-এর মাধ্যমে এই ধরনের ছবি তৈরি করা কতটা নিরাপদ?
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে মুহূর্তেই আপনার সাধারণ ছবি পরিণত হচ্ছে কার্টুনে। এই ঘিবলি আর্ট এখন সমাজমাধ্যমে একটা ভাইরাল ট্রেন্ডে পরিণত হয়েছে। ব্যক্তিগত মুহূর্ত, প্রাকৃতিক দৃশ্য, বা পরিবারের ছবি-সবই এখন কার্টুন ইমেজে রূপান্তরিত হচ্ছে। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই ট্রেন্ড আদতে কতটা নিরাপদ? আপনার ছবি আপলোড করার সময় আপনি কি সাইবার অপরাধীদের ফাঁদে পড়ে যাচ্ছেন না?
সাইবার বিশেষজ্ঞরা বলেছেন, এআই দুনিয়ায় নিজেকে সুরক্ষিত রাখা সবচেয়ে জরুরি। আপনি যে ছবি আপলোড করছেন, সে ছবি বা তথ্য কোথাও চলে যাবে কিনা বা বিক্রি হবে কি-না, এ বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই। যখন আপনি ছবি তোলেন, তার সঙ্গে ফোনের বিস্তারিত তথ্য থাকে। ঠিক তেমনি যখন আপনি ছবি আপলোড করেন, সেই ছবি ও তার ব্যাকগ্রাউন্ডের তথ্য চলে যায় প্ল্যাটফর্মগুলিতে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, এই ঘিবলি আর্ট তৈরির জন্য ব্যবহৃত মেন সার্ভারটি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত, তবে কোথায় কোন তথ্য বা ছবি জমা হচ্ছে তা এখনও অজানা। ফলে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য অজান্তেই বিদেশে চলে যেতে পারে। তাদের আশঙ্কা, এই ধরনের ছবি ডিপফেক বা ফেক পর্নোগ্রাফি তৈরির জন্য ব্যবহৃত হতে পারে এবং এমনকি ডার্ক ওয়েবেও বিক্রি হতে পারে।
এআই প্ল্যাটফর্মে ছবি আপলোড করার মাধ্যমে আপনি সাইবার অপরাধের শিকার হতে পারেন, এবং পুলিশ বা প্রশাসন থেকে সাহায্য পাওয়ার সম্ভাবনা কম বলে বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা।
বিশেষজ্ঞ আরও জানান, এই ধরনের প্ল্যাটফর্মে আপনার ছবি দেওয়া মানে আপনার ব্যক্তিগত তথ্য ধীরে ধীরে সংগ্রহ করা, বিশ্লেষণ করা এবং পরে তা ট্রান্সফার করা-যার ফলে বিপদে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।