এই মৌসুমের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ফল হলো আম। রসালো এবং স্বাদে ভরপুর আম গরমের এই সময়কে সত্যিই আনন্দময় করে তোলে। এসময় আম তো অনেক পাওয়া যায় কিন্তু কয়েকদিন না যেতেই তা নষ্ট হতে শুরু করে। আম কী করে দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করা যায়- তা নিয়ে অনেকেই জানেন না।
তাই চলুন জেনে নেওয়া যাক আম দীর্ঘদিন ভালো রাখার কিছু সহজ উপায়।
- আম কিউব করে ফ্রিজে রাখতে পারেন। পাকা আমের খোসা ছাড়িয়ে টুকরা করে বিট লবণ, লেবুর রস এবং পুদিনা দিয়ে মিশিয়ে বরফের ট্রেতে ঢেলে দিন। এই কিউবগুলো কোমল পানীয়, ককটেল, লেবুর শরবত, এমনকি আপনার চায়ের স্বাদ যোগ করার জন্যও কিন্তু বেশ উপযুক্ত।
- সবচেয়ে পাকা আমগুলোকে পাতলা টুকরা করে কেটে নিন এবং কমপক্ষে কয়েক ঘণ্টা ধরে ওভেনে সবচেয়ে কম তাপে ভালো করে বেক করুন। ওভেনে করতে না চাইলে নেটের ওপর বিছিয়ে রোদে শুকিয়ে নিতে পারেন। প্রাকৃতিকভাবে মিষ্টি, প্রিজারভেটিভ-মুক্ত শুকনো আম অনেকদিন ধরে খেতে পারবেন। একটি এয়ারটাইট বক্সে পাত্রে সংরক্ষণ করবেন। এটি কয়েক মাস ধরে রেখেও খেতে পারবেন।
- পাকা আমের আচার বানিয়েও সংরক্ষণ করতে পারেন। পাকা আম কেটে একটি জারে চিনি/গুড়ের সিরাপ, লেবুর রস, কয়েকটি এলাচ এবং জাফরান দিয়ে ভিজিয়ে রাখতে হবে। এই সিরাপের মিশ্রণটি কেবল প্রিজারভেটিভ হিসেবেই কাজ করে না, বরং সুস্বাদু আচারও তৈরি করে। যদি এটি ফ্রিজে সংরক্ষণ করেন, তাহলে এই মিষ্টি আমের আচার ২ থেকে ৩ সপ্তাহ ধরে খাওয়া যাবে।
- বেশ কিছুদিনের জন্য সংরক্ষণ করতে চাইলে বেশি পাকা আম না নেওয়ায় ভালো। খানিকটা শক্ত ও খোসায় কোনো দাগ নেই এমন আম বাছাই করুন। আম টুকরো করে কেটে নিন। আঁটির চারপাশ থেকে আম কেটে নিয়ে আঁটি ফেলে দিন। এবার বক্সে আমের টুকরো নিয়ে মুখবন্ধ করে নিন শক্ত ঢাকনা দিয়ে। রেখে দিন ডিপ ফ্রিজে।
- আম সংরক্ষণ করতে পারেন জিপলক ব্যাগেও। এজন্য আম ছোট টুকরা করে কেটে জিপলক ব্যাগে নিয়ে নিন। মুখবন্ধ করে সামান্য একটু ফাঁকা রাখুন। ঐ ফাঁকা অংশ দিয়ে স্ট্র ঢুকিয়ে ভেতরে থাকা বাতাস বের করে মুখ পুরোপুরি সিল করে দিন। রেখে দিন ফ্রিজারে।
- আমের পিউরি করে সংরক্ষণ করতে পারেন। এজন্য ব্লেন্ডারে মসৃণ করে ব্লেন্ড করে বরফ জমানোর ট্রেতে করে রেখে দিন ডিপ ফ্রিজে। ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর বের করে ট্রে থেকে আমের বরফগুলো আলাদা করে নিন। সেগুলো জিপলক ব্যাগে নিয়ে বাতাস বের করে সিল করে দিন। পরে রেখে দিন ডিপ ফ্রিজে।