লিফট আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। অফিস, শপিং মল, অ্যাপার্টমেন্ট – সবখানেই লিফট ছাড়া যেন জীবন অচল। তবে কখনো কখনো লিফট ছিঁড়ে পড়ার মতো ভয়াবহ দুর্ঘটনার খবর আমরা সংবাদে দেখি। তখন মনে প্রশ্ন আসে – এমন পরিস্থিতিতে আমি কী করবো? তাই জেনে নিন লিফট দুর্ঘটনায় করণীয়-
যা করবেন না
- অনেকেই মনে করেন, লাফ দিলে বাঁচা যাবে। এটি সম্পূর্ণ ভুল।
- আবার অনেকে বসে পড়েন বা হাঁটু মুড়িয়ে দাঁড়ান, এটিও ঝুঁকিপূর্ণ।
যা করবেন
- দ্রুত লিফটের মেঝেতে শুয়ে পড়ুন।
- পিঠের উপর শুয়ে পড়বেন, যাতে শরীরের পুরো ওজন সমানভাবে ছড়িয়ে যায়।
- হাত দিয়ে মাথা ও মুখ ঢেকে রাখুন, যাতে পড়ার সময় মাথায় আঘাত না লাগে।
- পা সামান্য ফাঁক করে রাখুন, যাতে ভারসাম্য ঠিক থাকে।
- চোখ বন্ধ রাখুন ও সম্ভব হলে দম স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করুন।
কেন এই কৌশল সবচেয়ে কার্যকর?
যখন লিফট পড়ে যায়, তখন gravitational force বা অভিকর্ষজ ত্বরণ খুব বেশি হয়ে যায়। যদি দাঁড়িয়ে থাকেন, তাহলে নিচ থেকে আসা ধাক্কা সরাসরি মেরুদণ্ডে লাগে। বসে থাকলেও চাপ হাঁটু ও কোমরে সঞ্চার হয়।
কিন্তু মেঝেতে শুয়ে পড়লে, শরীরের আঘাত পুরো পৃষ্ঠে ছড়িয়ে পড়ে, ফলে কোনো একটি অঙ্গের উপর বেশি চাপ পড়ে না। এতে প্রাণহানির ঝুঁকি কমে যায়।
বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সেফটি রিসার্চ বলছে, লিফট দুর্ঘটনার সময় যাত্রীদের মধ্যে যারা মেঝেতে শুয়ে পড়তে পেরেছিলেন, তাদের আঘাতের মাত্রা অন্যদের তুলনায় অনেক কম ছিল। তবে, বাস্তবে ভয় ও প্যানিকের কারণে অনেকে তা করতে পারেন না। তাই এটি আগে থেকে জানা ও মানসিক প্রস্তুতি রাখা জরুরি।
মনে রাখবেন
- প্যানিক নয়, শান্ত থাকুন।
- দাঁড়িয়ে থাকার চেষ্টা করবেন না।
- বসে পড়ার পরিবর্তে শুয়ে পড়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
- হাত দিয়ে মাথা ও মুখ ঢেকে রাখুন।
- চোখ বন্ধ করে গভীর শ্বাস নিন।
- লিফটে ওঠার আগে সেফটি সার্টিফিকেট ও ওভারলোডিং নোটিস দেখুন।
বাংলাদেশে লিফট দুর্ঘটনা বেড়েছে কেন?
রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরে পুরনো ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণবিহীন লিফটের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। বেসরকারি ভবন মালিকরা অনেক সময় সার্ভিসিং এড়াতে দীর্ঘদিন লিফট সারাই করেন না। বাংলাদেশ ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন (আইইবি) এর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিটি লিফটের প্রতি ছয় মাস অন্তর টেকনিক্যাল ইন্সপেকশন ও বার্ষিক সার্টিফিকেট থাকতে হবে। না হলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকবঘতন
প্রতিদিন অফিসে বা বাসায় লিফট ব্যবহার করলেও আমরা জানি না এই সহজ অথচ জীবনরক্ষাকারী কৌশলটি। শুধু এক মিনিটের সচেতনতা আপনাকে বাঁচাতে পারে মৃত্যুর মুখ থেকে।